kalerkantho


নান্দাইলে অধ্যক্ষের অতিরিক্ত টাকা দাবি

মাদরাসা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা বর্জন

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



চলতি দাখিল পরীক্ষায় প্রতিটি ব্যবহারিক বিষয়ে ২৫ টাকা করে ফি ধার্য রয়েছে। কিন্তু ময়মনসিংহের নান্দাইলের শেরপুর ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ ২০০ টাকা করে দাবি করেন। এ ঘটনায় বিক্ষোভ করে পরীক্ষা বর্জন করেছে শিক্ষার্থীরা। খবর পেয়ে গতকাল বুধবার দুপুরে উপজেলা একাডেমিক কর্মকর্তা সেখানে যান। তবে অধ্যক্ষের অনড় অবস্থার কারণে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় বসানো যায়নি।

সরেজমিনে ওই মাদরাসায় গিয়ে দেখা যায়, শ্রেণিকক্ষের ভেতরে পরীক্ষার্থীরা হৈচৈ করছে। তারা জানায়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ও ক্যারিয়ার শিক্ষা বিষয়ের ব্যবহারিক খাতায় স্বাক্ষর নেওয়ার জন্য গতকাল বুধবার সকাল ৯টায় তারা মাদরাসায় আসে। শ্রেণিকক্ষে বসার পর মাদরাসার অধ্যক্ষ শামছুল হক ফকির এসে জানান, দুটি বিষয়ের জন্য তাদের ২০০ করে মোট ৪০০ টাকা দিতে হবে। তা না হলে পরীক্ষা নেওয়া বা খাতায় স্বাক্ষর করা হবে না। প্রতিষ্ঠানপ্রধানের এভাবে দর হাঁকানোর ঘটনায় পরীক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকেই শ্রেণিকক্ষ থেকে বাইরে এসে বিক্ষোভ করে।

কেন্দ্রে থাকা পরীক্ষার্থীরা জানায়, পরীক্ষার আগে ফরম পূরণ বাবদ তাদের কাছ থেকে এক হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ শামছুল হক ফকির জানান, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ফি বকেয়া রয়েছে। এ কারণে ব্যবহারিক পরীক্ষার ফি হিসেবে ২০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। 

মাদরাসা পরিচালনা পর্ষদের অভিভাবক সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান খোকন বলেন, ‘কারো পরীক্ষার ফি বকেয়া নেই। যারা দরিদ্র পরিবারের তাদের ছাড় দিয়ে ফরম পূরণ করে দেওয়া হয়েছে।’ এদিকে ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে মাদরাসার প্রায় আট লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে শামছুল হক ফকিরের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


মন্তব্য