kalerkantho


শেরপুরে শিক্ষক-পুস্তক বিক্রেতাদের সিন্ডিকেট

ফাঁপরে শিক্ষার্থী অভিভাবকরা

শেরপুর প্রতিনিধি   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



সরকারিভাবে প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যপুস্তক বিনা মূল্যে বিতরণ হলেও অবৈধ নোট-গাইড বইয়ের বাণিজ্য থামছেই না। শেরপুরে চলছে নোট-গাইড বইয়ের অবাধ বাণিজ্য। শিক্ষক আর পুস্তক বিক্রেতাদের সিন্ডিকেট চড়া দামে এসব বই বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। সহায়ক, সৃজনশীল বইয়ের নামে নিষিদ্ধ নোট-গাইড বই কিনতে-পড়তে বাধ্য হচ্ছে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা। এতে শিক্ষার্থীদের বাড়তি পড়ার চাপেও পড়তে হচ্ছে। অভিভাবকদের ব্যয় করতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। তবে পুস্তক বিক্রেতারা নোট-গাইড বই বিক্রি কিংবা একে ঘিরে বাণিজ্যের কথা অস্বীকার করেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কয়েক বছর ধরে নতুন বছর শুরুর আগেই শেরপুরে কিছু বড় বড় পুস্তক বিক্রেতাপ্রতিষ্ঠান প্রত্যেক উপজেলায় অবস্থিত মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কিন্ডারগার্টেন, মাদরাসা, প্রাইভেট স্কুল এবং স্থানীয় মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে নির্দিষ্ট কিছু প্রকাশনা শিক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক বই নির্বাচন করে দেওয়ার লক্ষ্যে মোটা অঙ্কের ঘুষ লেনদেন করে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসংখ্যার ওপর নির্ভর করে ওই ঘুষের পরিমাণ। ২০ হাজার থেকে শুরু করে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের দেওয়া হয়ে থাকে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ে বিভিন্ন আসবাবপত্র, উপহার-উপঢৌকন দেওয়া হয়। নাম না প্রকাশের শর্তে একজন পুস্তক বিক্রেতা ও কয়েকজন প্রধান শিক্ষক জানান, প্রতি ১০০ শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ৪০ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানায়, নোট-গাইড ও অন্যান্য বই চড়া দামে কেনার জন্য শিক্ষার্থীদের হাতে একটি করে বইয়ের তালিকা (বুক লিস্ট) ধরিয়ে দেয় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সরাসরি বিদ্যালয়ের নামে ছাপানো ওই তালিকায় ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি শ্রেণির জন্য অন্তত পাঁচ-ছয়টি করে অতিরক্তি বইয়ের নাম উল্লেখ থাকে। বই বিক্রেতাপ্রতিষ্ঠান বা লাইব্রেরির নামও উল্লেখ থাকে তালিকায়। তালিকাগুলো লাইব্রেরি বা বিক্রেতাপ্রতিষ্ঠান থেকে নিজ খরচে ছাপিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়।

শেরপুর জেলা পুস্তক বিক্রেতা সমিতির সভাপতি এ কে এম মোসাদ্দেক ফেরদৌসি বলেন, ‘লাইব্রেরিগুলোর বিরুদ্ধে টাকা দিয়ে বই পাঠ্য করার অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। আমরা এখন কোনো নোট-গাইড বই বিক্রি করছি না। সৃজনশীল এবং রেফারেন্স বই বিক্রি করছি। লাইব্রেরিগুলোর বিরুদ্ধে যে ধরনের কথা বলা হচ্ছে, সেটা অপপ্রচার।’


মন্তব্য