kalerkantho


‘আমার পুতের জীবনডা ধ্বংস কইরা দিল পুলিশ’

গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে মীর মোনায়েম সালেহীন (ইমন) নামের এক শিক্ষার্থীকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে তিনটি মামলা দিয়ে ফাঁসিয়ে দিয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে দুই বছর আগে পৌর শহরের শিবগঞ্জ লেভেলক্রসিং এলাকায় সংঘটিত গাড়ি ছিনতাইয়ের অভিযোগও রয়েছে। গফরগাঁও থানার এসআই সাইফুল ওই শিক্ষার্থীর বাবাকে জিম্মি করে টাকা নেওয়ার কথা জানাজানি হয়ে যাওয়ায় সালেহীনের বিরুদ্ধে ওই মামলা তিনটি করেন। সালেহীন পৌর শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শিলাসী ইমামবাড়ি এলাকার মীর আবুল হাসেমের ছেলে এবং উত্তরা এশিয়ান ইউনিভার্সিটির এমবিএর ছাত্র। গত সোমবার বিকেলে এসআই সাইফুল সালেহীনকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করে থানায় নিয়ে যান।

অভিযোগ উঠেছে, মুক্তি দেওয়ার কথা বলে এসআই সাইফুল সালেহীনের বাবা মীর আবুল হাসেমের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েও মুক্তি দেননি। উল্টো দুই দিন সালেহীনকে থানাহাজতে আটকে রেখে গত ৭ ফেব্রুয়ারি ৫৪ ধারায় (সংশোধিত ১৫১ ধারা) গ্রেপ্তার দেখিয়ে ময়মনসিংহ জেলহাজতে পাঠায়। গত সোমবার সালেহীনকে আদালতে নিয়ে রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। আদালত রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে সালেহীনকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

সালেহীনের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সালেহীনকে বাড়ি থেকে আটক করে এসআই সাইফুল থানায় নেওয়ার পর সন্ধ্যায় সালেহীনের বাবা মীর আবুুল হাসেম থানায় গিয়ে ছেলেকে আটকের কারণ জানতে চাইলে এসআই সাইফুল মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে সালেহীনকে মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেন। জানতে চাইলে এসআই সাইফুল টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করলেও ‘সালেহীন ভালো ছেলে, তার নামে কোনো মামলা নেই’ বলে এ প্রতিবেদকের কাছে স্বীকার করেছেন।

সালেহীনের বাবা বলেন, ‘আমার পুতের জীবনডা ধ্বংস অইয়া গেল। আল্লায় জানে আমি কি পাপ করছি। পুলিশ আমার নিরপরাধ পুতের বিরুদ্ধে তিনডা মামলা দিয়া ফাঁসাইয়া দিছে।’

গফরগাঁও থানার এসআই সাইফুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আমি কিছু বলব না, ওসি স্যার বলবেন।’ গফরগাঁও থানার ওসি আব্দুল আহাদ খানের কাছে জানতে চাইলে তিনি ‘আমি এখন বাসায় রেস্টে আছি’ বলেই ফোনটি রেখে দেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুুপার (গফরগাঁও সার্কেল) রায়হানুল ইসলাম বলেন, ‘আমি বিষয়টি জানি না। খোঁজ নিয়ে দেখি।’



মন্তব্য