kalerkantho


বন্যায় বিধ্বস্ত সড়ক মরণফাঁদ

জামালপুর প্রতিনিধি   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



বন্যায় বিধ্বস্ত সড়ক মরণফাঁদ

জামালপুরের ইসলামপুর-উলিয়া ও ইসলামপুর-মাহমুদপুর সড়ক দুটি বিগত বন্যায় ভেঙে তছনছ হয়ে গেলেও দীর্ঘ পাঁচ মাসেও সংস্কার হয়নি। এতে ওই এলাকার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।

সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, ইসলামপুরের আমতলি বাজার থেকে উলিয়া বাজার পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পাকা সড়ক বন্যায় ভেঙে গেছে। এ ছাড়া ইসলামপুরের পচাবহলা থেকে মাহমুদপুর পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার সড়কে অসংখ্য খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ইসলামপুর-মাহমুদপুর সড়কের মেলান্দহের বানিয়াবাড়ী, শিরিঘাট, পচাবহলা; ইসলামপুর-উলিয়া সড়কের রামভদ্রা, উলিয়া, করিরতাইর, দক্ষিণ চিনাডুলী ও বলিয়াদহের রাস্তার বিভিন্ন জায়গা ক্ষতবিক্ষত হয়েছে। এসব সড়কের ভাঙা স্থানগুলো সরকারিভাবে মেরামতের উদ্যোগ না নেওয়ায় স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমে মাটি ফেলে কোনো রকমে চলাচলের ব্যবস্থা করেছে। ওই সব ভাঙা স্থানে প্রায়ই ইজি বাইক উল্টে দুর্ঘটনা ঘটছে। তবে সড়ক দিয়ে এখনো ভারী যানবাহন চলাচল করতে পারে না।

সরেজমিনে গিয়ে আরো জানা গেছে, বন্যায় মাহমুদপুর-উলিয়া পাকা সড়কটির ইমামপুর এলাকায় প্রায় ৫০০ মিটার ধসে গভীর খাদের সৃষ্টি হয়। এরপর গত চার মাস সেখানে নৌকাযোগে মানুষ পারাপার হয়েছে। গত ডিসেম্বরে স্থানীয় যানবাহন চালকরা ও এলাকাবাসী মিলে ওই ভাঙা স্থানে মাটি ফেলে কোনো রকমে চলাচলের ব্যবস্থা করেছে। সড়কটি বেহাল হওয়ায় নোয়ারপাড়া ও মাহমুদপুর ইউনিয়নের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে ইসলামপুরের নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের করিরতাইর গ্রামের মজিবর রহমান বলেন, গত বন্যায় পুরো সড়কটির ওপর দিয়ে পানির তীব্র স্রোত বয়ে গেছে। তখন সড়কটির বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত হয়েছে। বন্যার পর সড়ক দুটি দিয়ে হেঁটেও চলাফেরা করা যায়নি। প্রথম দিকে বড় গর্তের কয়েকটি স্থানে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে চলাচল করতে হয়েছিল। পরে স্বেচ্ছাশ্রমে কিছু অংশ মাটি দিয়ে ভরাট করা হয়। এর পর থেকে ইজি বাইক চলাচল করে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটি মেরামতের দাবি জানান তিনি।

মাহমুদপুর ইউনিয়নের চরমাহমুদপুর গ্রামের আব্দুল করিম বলেন, ‘প্রায় পাঁচ মাস অতিবাহিত হচ্ছে। কয়েক মাস পর আবারও বন্যা আসার আশঙ্কা রয়েছে। এত দিনেও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দুটি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সড়ক দুটি দিয়ে চলাচলে এখানকার মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। বন্যার আগে মাহমুদপুর থেকে ইসলামপুর শহরে যেতে ২০ মিনিট সময় লাগত। সড়কটি ভাঙার পর এখন এক ঘণ্টা সময় লাগে।

রাজনগর গ্রামের মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বন্যার পর থেকে চলাচলে আমাদের দুর্ভোগের শেষ নেই। বন্যার পর ভাঙা অংশে অনেক পানি ছিল। পরে স্থানীয় লোকজন সেখানে নৌকা দিয়ে পারাপার হয়েছে। পানি কমার পর এক সপ্তাহ যোগাযোগ বন্ধ ছিল। এরপর ইজি বাইক, রিকশাচালকসহ গ্রামবাসী মিলে ওই ভাঙা অংশে মাটি দিয়ে ছোট রাস্তা তৈরি করেছে। ওই সড়ক দিয়ে চলতে আমাদের অনেক সমস্যা হয়। প্রায়ই ইজি বাইক উল্টে দুর্ঘটনা ঘটে।’

রামভদ্রা গ্রামের ছাইদুর রহমান বলেন, ‘বন্যায় নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের রামভদ্রা, সোনামুখী, উলিয়া ও রাজনগর গ্রামের সব রাস্তা ভেঙে গেছে। গত পাঁচ মাসেও সড়কগুলো মেরামত করা হয়নি। এতে আমাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ভাঙা রাস্তায় চলতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে। এক কথায় বন্যার পর সড়কগুলো মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।’

নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মশিউর রহমান বাদল জানান, স্থানীয়দের সহযোগিতায় স্বেচ্ছাশ্রমে ইসলামপুর-উলিয়া-মাহমুদপুর সড়কের ভাঙা স্থানগুলোতে অল্প করে মাটি ফেলা হয়েছে। এতে কোনো রকমে হালকা যানবাহন চলাচল করতে পারে। ওই সড়ক দুটিতে মাহমুদপুর, নোয়ারপাড়া, সাপধরী, চিনাডুলী ও ইসলামপুর সদর ইউনিয়নের লাখো মানুষ অতি কষ্টে চলাচল করছে। অথচ দীর্ঘ পাঁচ মাসেও সরকারিভাবে ওই ভাঙা রাস্তাগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

মাহমুদপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জানান, ইসলামপুর-মাহমুদপুর সড়ক মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। শিগগিরই মেরামতের কাজ শুরু করা হবে।

ইসলামপুর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. আহসান আলী জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ইসলামপুর-উলিয়া পাকা সড়কটি সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় সব কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। আগামী বর্ষা মৌসুমের আগেই এটি সংস্কার করা হবে।

মেলান্দহ উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) শফিকুল ইসলাম বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তের মধ্যে মাহমুদপুরের রাস্তাটি ছাড়া বাকিগুলো মেরামত করা হয়েছে। তবে মেলান্দহের মাহমুদপুর অংশের ভাঙা সড়ক মেরামতের জন্য এলজিইডি কার্যালয়ে একটি প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।

 



মন্তব্য