kalerkantho


নান্দাইল শহীদ স্মৃতি আদর্শ কলেজ

বৃত্তি পাচ্ছেন না ৭৮ শিক্ষার্থী

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ময়মনসিংহের নান্দাইল শহীদ স্মৃতি আদর্শ কলেজের ৭৮ জন শিক্ষার্থী উপবৃত্তি পাচ্ছেন না। সব নিয়ম মেনে ফরম পূরণ করার পরও উপবৃত্তি না পাওয়ায় এসব গরিব শিক্ষার্থীর মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের মুঠোফোন ব্যাংকিং ‘রকেট’র কারণে এ ধরনের ঝামেলা হয়েছে। তবে এ কথা অস্বীকার করেছেন ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক। তিনি বলেছেন, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

নান্দাইল কলেজের স্নাতক শ্রেণির মারিয়া সুলতানা জানান, গত বছরের জুন মাসে সবার নাম যাচাই-বাছাই করে উপবৃত্তির তালিকা তৈরি করা হয়। পরে একটি ফরম পূরণ করে তাঁদের ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বর নেওয়া হয়। তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর ফরমে দেওয়া মুঠোফোন নম্বরের সঙ্গে অতিরিক্ত একটি নম্বর (ডিজিট) যুক্ত করে ডাচ্-বাংলা কর্তৃপক্ষ তাদের নিজস্ব মুঠোফোন ব্যাংকিংয়ের (রকেট) অ্যাকাউন্ট খুলে দেয়। ওই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে উপবৃত্তির টাকা আসবে বলে জানানো হয়েছিল।

একই শ্রেণির ছাত্রী নিলুফা ইয়াসমীন জানান, নির্ধারিত সময়ে অন্যরা উপবৃত্তির টাকা পেলেও তাঁরা ৭৮ জন পাননি। এ ঘটনার প্রতিকার পাওয়ার জন্য তাঁরা প্রথমে কলেজের অধ্যক্ষের কাছে যান। অধ্যক্ষ তাঁদের অফিস সহকারীর কাছে পাঠান। অফিস সহকারী আবার তাঁদের মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ে যেতে বলেন। সেখানে গেলে বলা হয় তালিকা প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আসমা আক্তার নামের এক ছাত্রী বলেন, ‘আমরা উপজেলা পর্যায়ের একটি কলেজে পড়ালেখা করি। আমাদের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টে গিয়ে যোগাযোগ করা সম্ভব নয়।’ জয়নব আক্তার নামের আরেক ছাত্রী বলেন, ‘উপবৃত্তি পাওয়ার আশায় আমরা ময়মনসিংহে গিয়ে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক কার্যালয়ে যোগাযোগ করেছি। তাঁরাও সমাধান দিতে পারেনি।’

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে নান্দাইল শহীদ স্মৃতি আদর্শ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘আমরা শুধু উপবৃত্তির তালিকা করে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ে পাঠিয়ে দিই। এরপর তাঁরা তালিকাটি প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টে পাঠায়। সেখান থেকে তালিকা পাস হওয়ার পর তা ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের মুঠোফোন ব্যাংকিং রকেট শাখায় পাঠানো হয়। এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরও আমাদের কলেজের ৭৮ জন শিক্ষার্থী উপবৃত্তি বঞ্চিত হওয়ায় তারা আর্থিক সমস্যায় পড়েছে।’

এ বিষয়ে গত রবিবার কার্যালয়ে গিয়ে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রোকন উদ্দিন বলেন, ‘আমরা সঠিক সময়ে তালিকা পাঠিয়ে দিয়েছি।’ পরে মুঠোফোনে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ময়মনসিংহের আঞ্চলিক কর্মকর্তা (আরএম) মো. গোলাম ফারুক বলেন, ‘আমাদের এখান থেকে কোনো ধরনের ঝামেলা হচ্ছে না। তার পরও বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।’ এ সময় তিনি আরো বলেন, ‘ফরম পূরণ করার সময় যে মুঠোফোন নম্বর দেওয়া হয়েছিল, সেটি সঠিক থাকলে ওই ছাত্রী উপবৃত্তির টাকা পাবেন। এর পরও যদি কেউ না পান, তাহলে তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বর কলেজ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টে পুনরায় পাঠাতে হবে। সেখান থেকে ছাড়পত্র পেলে উপবৃত্তির টাকা পাবেন।’



মন্তব্য