kalerkantho


একনেকে ৬৭ কোটি টাকার প্রকল্প পাস

উন্নয়নের নতুন যুগে হালুয়াঘাট

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



উন্নয়নের নতুন যুগে হালুয়াঘাট

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের স্থল শুল্ক স্টেশন। এখন শুধু কয়লাই আমদানি হয় এই স্টেশন দিয়ে। ছবি : কালের কণ্ঠ

ভারতের মেঘালয় রাজ্যঘেঁষা ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলা উন্নয়নের নতুন যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। এখানে পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর নির্মাণে সম্প্রতি একনেকে পাস হয়েছে ৬৭ কোটি টাকার প্রকল্প।

স্থানীয়রা জানায়, হালুয়াঘাট উপজেলার সীমান্তঘেঁষা গোবড়াকুড়া ও কড়ইতলী স্থল শুল্ক স্টেশন। গোবড়াকুড়া বন্দর থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে কড়ইতলী। বর্তমানে এ দুই স্টেশন দিয়ে কয়লা ও পাথর আমদানি করা যায়। মেঘালয়ের কৃষিজাত পণ্যসহ সাতটি (সেভেন সিস্টার) প্রদেশের (মেঘালয়, আসাম, অরুণাচল, মিজোরাম, ত্রিপুরা, নাগাল্যান্ড ও মণিপুর) নানা পণ্য ভারতে কমপক্ষে আড়াই হাজার কিলোমিটার পথ ঘুরে কলকাতা যায়। কলকাতা থেকে সেসব পণ্য এরপর বাংলাদেশের যশোরের বেনাপোল সীমান্ত হয়ে রাজধানী ঢাকায় আসে।

এ কারণে ভারত থেকে পণ্য আমদানিতে সময় ও খরচ বেশি লাগে। আর এসবের মাসুল দিতে হয় ক্রেতাদের। এ নিয়ে দুই দেশের ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন সময়ে বৈঠকে বসেছেন। হালুয়াঘাটের বন্দরগুলোর দৈন্যদশার কারণে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো যায়নি।

হালুয়াঘাটের গোবড়াকুড়া আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির কর্মকর্তারা জানান, সীমান্তবর্তী গোবড়াকুড়া স্থল শুল্ক স্টেশন চালু হয় ১৯৯৬ সালের দিকে। গোবড়াকুড়া থেকে হালুয়াঘাট উপজেলা সদরের দূরত্ব মাত্র চার কিলোমিটার। আর হালুয়াঘাট সদর থেকে ময়মনসিংহ জেলা সদরের দূরত্ব প্রায় ৫০ কিলোমিটার। পুরোটা পাকা রাস্তা। কম সময় ও সহজ যোগাযোগব্যবস্থার কারণে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা হালুয়াঘাটের দুটি বন্দরকে ব্যবহার করতে আগ্রহী।

একজন ব্যবসায়ী উদাহরণ দিয়ে বলেন, মেঘালয়ের রাজধানী শিলং থেকে কলকাতা ও যশোর হয়ে ঢাকার দূরত্ব প্রায় তিন হাজার কিলোমিটার। আর শিলং থেকে হালুয়াঘাটের গোবড়াকুড়া হয়ে ঢাকার দূরত্ব মাত্র ৩০০ কিলোমটাির। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এ বন্দরটি বহু আগে বহুমাত্রিক ব্যবহারের মাধ্যমে সরকার, দেশ এবং জনগণের উপকারে লাগতে পারত; কিন্তু অতীতের সরকারগুলো ঢিলেঢালা ভূমিকা নিয়েছে। হাতের লক্ষ্মীকে পায়ে ঠেলে দিয়েছে।’ তিনি জানান, কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় হলেও এ দুটি বন্দরে এখন পর্যন্ত রাজস্ব বিভাগের অফিস, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন ও অন্যান্য সুবিধা অপ্রতুল। স্থানীয় একজন রাজস্ব কর্মকর্তা বলেন, বছরে ছয় মাস বন্দরটি চালু থাকে। গড়ে এক থেকে দেড় টন কয়লা আসে।

অন্যদিকে কড়ইতলী স্টেশনের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এম সুরুজ মিয়া জানান, এ স্টেশনে প্রায় ৪০০-৫০০ ব্যবসায়ী আছে। শ্রমিক আছে চার-পাঁচ হাজার। বছরে ৬০-৭০ কোটি টাকার রাজস্ব যায় সরকারি কোষাগারে। সম্প্রতি একনেকে এ দুটি স্থল শুল্ক স্টেশন উন্নয়নে ৬৭ কোটি টাকার প্রকল্প পাস হয়েছে। ২০১৮-তে শুরু হয়ে তা ২০২০ সালের মধ্যে শেষ করার কথা। এটি শেষ হলে হালুয়াঘাট ও সীমান্তবর্তী অঞ্চলের চোহারা বদলে যাবে। এক কর্মমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হবে পুরো অঞ্চলে। এ দুটি হবে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্দর।

তিনি বলেন, এখানে ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট স্থাপন হবে। দুই দেশের ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ সহজে আসা-যাওয়া করতে পারবে। শুধু হালুয়াঘাট নয়, এর সুফল পাবে ময়মনসিংহবাসীও।

হালুয়াঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ খান বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

 


মন্তব্য