kalerkantho


‘দারোগা ভাইল বাট্টা দেয়া ট্যাহা নিছে’

গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



‘ভাই আমার অহন মাথা খারাপ। পুতেরে ছাইড়া দিব কইয়া দারোগা ভাইল বাট্টা দেয়া অতগুলাইন ট্যাহা নিছে; কিন্তু ছাড়ে নাই’—প্রশ্ন করতেই এভাবে কষ্ট ও ক্ষোভের কথা প্রকাশ করলেন উত্তরা এশিয়ান ইউনিভার্সিটির এমবিএর ছাত্র মীর মোনায়েম সালেহীনের (২৫) অসহায় বাবা মীর আবুল হোসেন। আবুল হোসেনের বাড়ি পৌর শহরের ৯নং ওয়ার্ডের শিলাসী ইমামবাড়ি এলাকায়। গত সোমবার বিকেলে গফরগাঁও থানার এসআই সাইফুল ইসলাম কোনো অপরাধ ছাড়াই মীর আবুল হোসেনের ছেলে মীর মোনায়েম সালেহীনকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করে থানায় নিয়ে যান। অভিযোগ উঠেছে, ওই শিক্ষার্থীকে মুক্তি দেওয়ার কথা বলে এসআই সাইফুল ইসলাম মীর আবুল হোসেনের কাছ থেকে টাকা নিয়েও তাঁকে মুক্তি দেননি। উল্টো দুই দিন থানা হাজতে আটকে রেখে ৫৪ ধারায় ময়মনসিংহ জেলহাজতে পাঠিয়ে দিয়েছেন।

শিক্ষার্থীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৌর শহরের শিলাসী ইমামবাড়ি এলাকার মীর আবুল হোসেনের ছেলে মীর মোনায়েম সালেহীনকে গত সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে গফরগাঁও থানার এসআই সাইফুল ইসলাম আটক করে থানায় নিয়ে যান। সন্ধ্যায় মীর আবুুল হোসেন থানায় গিয়ে এসআই সাইফুলের কাছে তাঁর ছেলেকে আটকের কারণ জানতে চান। এ সময় এসআই সাইফুল মোটা অঙ্কের টাকা না দিলে তাঁর ছেলেকে বহু মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেন। পরে নিরুপায় হয়ে মীর আবুল হোসেন ধারকর্য করে ছেলেকে ছাড়াতে এসআই সাইফুলকে টাকা দিলেও সালেহীনকে তিনি মুক্তি দেননি। গতকাল বুধবার সকালে পুলিশ সালেহীনকে ময়মনসিংহ জেলহাজতে পাঠিয়েছে।

মীর আবুুল হোসেন বলেন, ‘আমার এই পুত (ছেলে) রাজনীতির ধারে-কাছে যায় না। বাড়িত আইলে পত্রিকা পড়ে আর চাকরির লাইগ্যা দৌড়ায় (আবেদন করে)। পুতের নামে থানাত কোনো মামলা নাই। পুলিশ আমার পুতের জীবন নষ্ট কইরা দিল।’ গফরগাঁও থানার এসআই সাইফুল ইসলাম টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমলযোগ্য অপরাধী সন্দেহে সালেহীনকে আটক করেছিলাম। ওর নামে কোনো মামলা নেই; কিন্তু ওর ভাই খারাপ।’ এ ব্যাপারে জানতে চাইলে গফরগাঁও থানার ওসি আবদুল আহাদ খান বলেন, ‘টাকা নেওয়ার কথা ঠিক না। সন্দেহজনকভাবে ধরে আনা হয়েছিল। আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’


মন্তব্য