kalerkantho


কেন্দুয়া প্রশাসনের নির্দেশে বন্ধ মাহফিল

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলা প্রশাসন গতকাল বুধবার একটি সংগঠনের আবেদন ও বিতর্ক ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে এক ওয়াজ মাহফিল বন্ধ করে দিয়েছে। মাহফিলটি আয়োজন করা হয়েছিল উপজেলার কান্দিউড়া ইউনিয়নের জফরপুর গ্রামে। রাজধানীর রাজারবাগ পীরের স্থানীয় অনুসারীরা এ মাহফিলের আয়োজন করে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, কেন্দুয়া উপজেলা উলামা মাশায়েখ পরিষদ নামে একটি সংগঠন ওই ওয়াজ মাহফিলকে ইসলামের মৌলিক আকিদা পরিপন্থী উল্লেখ করে সেটি বন্ধের জন্য গতকাল লিখিত আবেদন করে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও, ভারপ্রাপ্ত) শিরিন সুলতানা ও কেন্দুয়া থানার ওসি মো. সিরাজুল ইসলাম জফরপুর গ্রামে গিয়ে মাহফিল বন্ধ করার নির্দেশ দেন। গতকাল রাতে গ্রামের মুহাম্মদ আবুল কাসেমের বাড়ির প্রাঙ্গণে মাহফিলটি হওয়ার কথা ছিল।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০১৬ সালে জফরপুর গ্রামে স্থানীয় উলামায়ে কেরাম ও ‘তাওহিদি জনতা’ প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে ধর্মসভার আয়োজন করে। একই সময় গ্রামে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া পৃথক একটি সভার আয়োজন করে রাজারবাগ পীরের স্থানীয় অনুসারীরা। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের মধ্যস্থতায় থানা প্রাঙ্গণে একটি বৈঠক হয়। বৈঠকে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বিতর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনার জন্য সিদ্ধান্ত হয়। পরে চিঠি দিলেও রাজারবাগ পীরের অনুসারীরা আলোচনায় আসেনি। কিন্তু ২০১৭ সালে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া রাজারবাগ পীরের অনুসারীরা ওই গ্রামে ওয়াজ মাহফিল করে এবং উলামায়ে কেরাম সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্যসহ বিতর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে চ্যালেঞ্জ করে। এ অবস্থায় গতকাল রাতে গ্রামে মাহফিলের আয়োজন করে রাজারবাগ পীরের অনুসারীরা। পোস্টার ও মাইকিংয়ে মাহফিলের খবর পেয়ে উত্তেজিত হয়ে ওঠে উপজেলার উলামায়ে কেরামসহ স্থানীয় ‘তাওহিদি জনতা’। এদিকে মাহফিল বন্ধের জন্য উপজেলা উলামা মাশায়েখ পরিষদ আহ্বায়ক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ইউএনও বরাবর লিখিত আবেদন করেন।

আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘ইসলামের মৌলিক আকিদা পরিপন্থী ও বিতর্কিত কার্যক্রম করে আসছেন রাজারবাগ পীর ও তাঁর অনুসারীরা। এ অবস্থায় (ওই মাহফিল হলে) যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা ছিল।’ তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রাজারবাগ পীরের অনুসারী ও মাহফিলের আয়োজক মুহাম্মদ আবুল কাশেম বলেন, ‘আমরা ইসলামের আকিদা পরিপন্থী নই বরং ইসলাম ও কোরআন-হাদিসের সব বিধিবিধান মেনে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। একটি হীন উদ্দেশ্যে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ চালায় একটি চক্র।’

ইউএনও (ভারপ্রাপ্ত) শিরিন সুলতানা বলেন, ‘রাজারবাগ পীরের অনুসারীদের আয়োজিত মাহফিল নিয়ে বির্তক সৃষ্টি হওয়ায় এবং উপজেলা উলামা মাশায়েখ পরিষদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মাহফিল বন্ধ করা হয়েছে।’

 



মন্তব্য