kalerkantho


শেরপুরে রেললাইন দাবিতে পদযাত্রা

শেরপুর প্রতিনিধি   

১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



শেরপুরে রেললাইন দাবিতে পদযাত্রা

জেলা সদরকে অন্তর্ভুক্ত করে শেরপুরে রেললাইনের দাবিতে গতকাল জনউদ্যোগের আয়োজনে ‘শতপদী পদযাত্রা’ শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। ছবি : কালের কণ্ঠ

জেলা সদরকে অন্তর্ভুক্ত করে শেরপুরে রেললাইনের দাবিতে ব্যতিক্রমী ‘শতপদী পদযাত্রা’ শেষে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় শহরের চকবাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে এ পদযাত্রা শুরু হয়। নাগরিক সংগঠন জনউদ্যোগ শেরপুর কমিটি আয়োজিত এ পদযাত্রায় রেললাইনের দাবিতে ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেয়। পদযাত্রাটি শহর প্রদক্ষিণ শেষে কালেক্টরেট চত্বরে গিয়ে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ করে।

পদযাত্রা শুরুর আগে চকবাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে শেরপুরে রেললাইন স্থাপনের দাবিতে সহমত প্রকাশ করে স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা বক্তব্য দেয়।

এ সময় শেরপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এ কে এম রিয়াজুল হাসান বলেন, ‘রেললাইন না থাকায় শেরপুরের সার্বিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা অবিলম্বে শেরপুরকে রেলপথের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’

ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি রাজিয়া সামাদ ডালিয়া বলেন, ‘সেই ব্রিটিশ আমল থেকে শুনে আসছি, শেরপুরে রেল আসবে। ব্রিটিশ গেল, পাকিস্তান গেল, দেশ স্বাধীন হলো; কিন্তু আজও শেরপুরে রেল এলো না। আমরা এ সরকারের আমলেই শেরপুরে রেললাইন চাই।’

জেলা জাসদ সভাপতি মনিরুল ইসলাম লিটন বলেন, ‘রেলপথ না থাকায় শেরপুরে বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা মেডিক্যাল কলেজ হচ্ছে না। নাকুগাঁও স্থলবন্দর এশিয়ান হাইওয়ের সঙ্গে সংযুক্ত হলেও কাজে গতি নেই। পর্যটন ও কৃষিভিত্তিক শিল্প-কারখানা গড়ে ওঠার বিপুল সম্ভাবনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ জন্য দ্রুত শেরপুর জেলা সদর হয়ে রেললাইন চালুর দাবি জানাচ্ছি।’

এ সময় অন্যদের মধ্যে ‘জনউদ্যোগ’ আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, ডা. সেকান্দার আলী কলেজের অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, জেলা আ. লীগের সহসভাপতি ফখরুল মজিদ খোকন, কৃষিবিদ আল-ফারুক ডিয়ন, জেলা মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক লুত্ফুন্নাহার, মো. আনিসুর রহমান, শামীম হোসেন, সাবিহা জামান শাপলা, এস এম আবু হান্নান, আবু আহমেদ খান বাবুল, তালাত মাহমুদ ও এমদাদুল হক রিপন বক্তব্য দেন।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, শেরপুরে রেলপথ স্থাপন করার ব্যাপারে ব্রিটিশ সরকার ১৯৩০ সালে পরিকল্পনা নেয়। ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান বিভক্তির পর রেলপথ স্থাপনের বিষয়টি চাপা পড়ে যায়। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ রেলওয়ে পুনরায় শেরপুরে রেলপথ স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু করে। কিন্তু সেটি আর আলোর মুখ দেখেনি।

বর্তমান সরকারের সারা দেশে উন্নয়ন ও রেলপথ সম্প্রসারণ নীতির কারণে ২০১৪ সালের ৮ জুন তৎকালীন রেলমন্ত্রী পিয়ারপুর থেকে শেরপুরে রেলপথ স্থাপনের ঘোষণা দেন। এ জন্য প্রাথমিক সম্ভাব্যতা যাচাই কাজও শুরু হয়। কিন্তু এখনো শেরপুরে রেলপথ স্থাপনের অগ্রগতি দৃশ্যমান হয়নি।

 

 


মন্তব্য