kalerkantho


কেন্দুয়ায় নেতৃত্বহীন ছাত্রলীগ-ছাত্রদল!

আলম ফরাজী, ময়মনসিংহ (আঞ্চলিক)   

১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



কেন্দুয়ায় নেতৃত্বহীন ছাত্রলীগ-ছাত্রদল!

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের কমিটি নেই। ফলে সংগঠন দুটির নেতারা দলীয় পরিচয় ছাড়াই সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। অনেকে আবার গ্রুপিং-লবিং করে সময় পার করছেন।

উপজেলা কমিটি না থাকায় ১৩ ইউনিয়নেও সাংগঠনিক কার্যক্রম চলছে পুরনো কমিটি দিয়েই। নেতাকর্মীরা কমিটি গঠনের জন্য জোর দাবি জানিয়ে এলেও কেন্দ্রীয় বা জেলা কমিটির নেতারা এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না।

উপজেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কেন্দুয়া ছাত্রলীগের তিনটি পক্ষ তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে। ২০১৩ সালে ছাত্রলীগ নেতা বরকতউল্লাহকে সভাপতি ও আবীর আহম্মেদ খান রুজেলকে সাধারণ সম্পাদক করে উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়। পরে তারা ৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে; কিন্তু কয়েক মাস না যেতেই ওই কমিটি বিলুপ্ত করে জেলা কমিটি। এরপর আর কমিটি গঠন করা হয়নি। এর মধ্যে রুজেল ও বাবু আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সংস্কৃতি সম্পাদক অসীম কুমার উকিলের সমর্থনপুষ্ট। আপেল মাহমুদ বর্তমান এমপি ইফতিকার উদ্দিন তালুকদার পিন্টু ছত্রচ্ছায়ায় আছেন। অন্যদিকে সাবেক কমিটির সিনিয়ন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আউয়াল কেন্দ্রীয় উপকমিটির সাবেক সহসম্পাদক আলমগীর হাসানের অনুসারী।

এদিকে পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখানে গঠিত হয়নি পৌর শাখা ছাত্রলীগের কোনো কমিটি। আর কলেজ শাখা ছাত্রলীগের কমিটি নেই প্রায় দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে। উপজেলা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবীর আহম্মেদ খান রুজেল, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আউয়াল, আনোয়ার হোসেন রাকিব, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল মনসুর ভূঞা, আনোয়ার হোসেন ও ইখতিয়ার হোসেন এখনো ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও সভাপতি বরকতউল্লাহ বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে কর্মরত। উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আলী হোসেনের ভাতিজা ছাত্রলীগ নেতা আপেল মাহমুদ, কেন্দুয়া পৌরসভার প্রয়াত মেয়র আব্দুল হক ভূঞার ছেলে ছাত্রলীগ নেতা বায়েজীদ বাবু এবং পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি কামরুল হাসান ভূঁইয়ার ছোট ভাই ছাত্রলীগ নেতা গালিব হাসান ইমনও বর্তমানে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন। এ ছাড়া অনেকেই বিয়ে করে সংসারী হয়েছেন। কেউ কেউ হয়েছেন বাবা।

উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবীর আহম্মেদ খান রুজেল বলেন, ‘আগামী নির্বাচনের আগে কেন্দুয়া ছাত্রলীগের শক্তিশালী একটি কমিটি উপহার দেওয়ার জন্য জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের সুদৃষ্টি কামনা করছি।’ অন্যদিকে ছাত্রলীগের সম্ভাব্য সভাপতি প্রার্থী আপেল মাহমুদ বলেন, ‘শেখ হাসিনার ভ্যানগার্ড হয়ে আমরা কাজ করতে চাই।’ এদিকে আরেক সম্ভাব্য সভাপতি প্রার্থী আব্দুল আউয়াল বলেন, ‘নতুন উদীয়মান তরুণ রাজনৈতিক কেন্দ্রীয় কমিটির সহসম্পাদক আলমগীর হাসানকে সামনে রেখে ছাত্রলীগকে সুসংগঠিত করার জন্য আমরা মাঠে কাজ করছি।’

এ ব্যাপারে নেত্রকোনা জেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান জনি বলেন, ‘কেন্দুয়ায় ছাত্রলীগের কোনো কোন্দল নেই। নতুন কমিটি গঠিত হলে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান হবে।’

এদিকে উপজেলা ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সর্বশেষ ২০০৩ সালে ছাত্রদল নেতা শফিকুল ইসলাম শফিককে সভাপতি ও মজনু রহমান খন্দকারকে সাধারণ সম্পাদক করে উপজেলা শাখা, সিরাজুল ইসলাম সুকনকে সভাপতি ও শাওন খন্দকার জুয়েলকে সাধারণ সম্পাদক করে পৌরশাখা এবং আবুল হাসনাতকে সভাপতি ও জসিম উদ্দিন আহম্মেদ খোকনকে সাধারণ সম্পাদক করে কলেজ শাখা ছাত্রদলের কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিগুলোর নেতাদের কারোরই এখন আর ছাত্রদল করার বয়স নেই। প্রায় সবাই বিয়ে করে বাবা হয়েছেন। কেউ কেউ স্থান করে নিয়েছেন মূল দলসহ অন্যান্য অঙ্গসংগঠনে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও নতুন কমিটি না দেওয়ায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হতাশ। উপজেলা কমিটি না থাকায় কেন্দুয়ার ১৩টি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনি কার্যক্রমও স্থবির।

আগামী দিনে ছাত্রদলের কমিটিতে জায়গা করে নিতে বর্তমানে ছাত্রদলের সক্রিয় নেতারা হচ্ছেন আতাউল হক মিন্টু, এম এ মতিন রুমেন, আবু ইউসুফ খান পাঠান, সাইফুল আলম ভূঁইয়া ও হানিফ খান। পৌর ছাত্রদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ছাত্রদল নেতা পায়েল হোসেন ভূঞা, আসাদুজ্জামান খোকা, আশরাফুল ইসলাম ও সৈয়দ তন্ময়। কলেজ ছাত্রদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ছাত্রদল নেতা জাকারুল ইসলাম, ইলিয়াস আহমেদ, আমিনুল ইসলাম জেনিস, নজরুল ইসলাম, আবুল হোসেন ও রুবেল আহমেদ।

২০০৩ সালের কমিটির সভাপতি শফিকুল ইসলাম শফিক জানান, তিনি নতুন কমিটির আশায় থাকতে থাকতে এখন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন। বর্তমানে ছাত্রদলের কার্যক্রম চালাচ্ছেন এম এ মতিন রুমেন। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে কমিটি না থাকলেও সব আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি সংগঠনের হাল ধরে রাখছেন।’

এ ব্যাপারে নেত্রকোনা ছাত্রদলের সভাপতি ফরিদ হোসেন বাবু বলেন, দীর্ঘ সময় কমিটি না থাকলেও বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়নি। এতে ধরে নেওয়া যায় ওই কমিটিই কার্যক্রম চালাচ্ছে। তা ছাড়া মামলা, হামলা ও ধরপাকড়ের কারণে এত দিন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

 


মন্তব্য