kalerkantho

ইউএস-বাংলা অফিসে কান্না

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



ইউএস-বাংলা অফিসে কান্না

সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিট। কাঁদতে কাঁদতে এক বৃদ্ধ আসেন ইউএস-বাংলা অফিসে। তাঁকে ঘিরে ধরেন সাংবাদিকরা। তিনি জানান, তাঁর নাম শামসুজ্জামান। তাঁর ভাই রফিকুজ্জামান স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে এই ফ্লাইটে করে নেপালে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর অবস্থা কী তাঁরা জানতে পারছেন না। এ কারণে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস অফিসে এসে তিনি খবর জানতে চান।

শুধু শামসুজ্জামানই নন, গতকাল বিকেলে সংবাদমাধ্যমে নেপালের কাঠমাণ্ডুতে বিমান দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর পর অনেক যাত্রীর স্বজনরা খবর নিতে ছুটে আসে রাজধানীর বারিধারায় ইউএস-বাংলার কার্যালয়ে। তাদের অনেককে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়।

বেসরকারি এই বিমান সংস্থার একটি উড়োজাহাজ নেপালের রাজধানী কাঠমাণ্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় বিধ্বস্ত হয় এবং এতে আগুন ধরে যায়। এতে ৫০ জনের বেশি আরোহীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

বিকেল ৪টার দিকে আসেন আবুল কালাম আজাদ নামের একজন। তিনি ইউএস-বাংলার কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চান তাঁর বোন পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তা উম্মে সালমার খবর। কিন্তু কোনো খবর না পেয়ে ফিরে যান তিনি।

বাবার খবর জানতে ছুটে আসেন তরুণ শাওন। তিনি জানান, তাঁর বাবা কবির হোসেন ব্যবসা করেন। তিনি ব্যাবসায়িক কাজে আরো দুজনকে নিয়ে গতকাল নেপালে গিয়েছেন। বিমান দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তিনি নেপালে থাকা তাঁর এক আত্মীয়ের সঙ্গে কথা বলেন। সেই আত্মীয় জানান তাঁর বাবা আহত হয়েছেন। তাঁকে একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর পরও তিনি আরো নিশ্চিত হওয়ার জন্য ইউএস-বাংলার কার্যালয়ে এসেছেন।

শাওন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাবা নেপাল যাওয়ার জন্য আজ (সোমবার) সকালে উত্তরখানের বাসা থেকে বের হন। এরপর টিভির খবরে জানতে পারি বিমান দুর্ঘটনার কথা। আমি মোবাইল ফোনে বাবার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করি। তাঁর ফোন বন্ধ পাই। এরপর নেপালে আত্মীয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করি। এর পরও আরো নিশ্চিত হওয়ার জন্য এখানে এসেছি।’

শাওনকে ইউএস-বাংলার কর্মীরা কার্যালয়ের ভেতরে নিয়ে যান। ঘণ্টাখানেক পর বেরিয়ে এসে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাবার সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হয়েছে। তিনি বেঁচে আছেন। হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছে।’

সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে এক নারী আসেন তাঁর আত্মীয়ের খবর জানতে। ইউএস-বাংলার কার্যালয়ের সামনে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে কর্মীরা তাঁকে ভেতরের কক্ষে নিয়ে যান। কিন্তু তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।

এর পরপরই শামসুজ্জামান আসেন। কার্যালয়ের ভেতরে ঢোকার সময় সাংবাদিকরা তাঁর পরিচয় জানতে চাইলে তিনি প্রায় চিৎকার করে বলেন, ‘এই বিমানে আমার ভাই নেপালে গেছে। জানি না, তার কী অবস্থা।’ সাংবাদিকরা আবার প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে মুখ দিয়ে কথা বেরোচ্ছে না। প্লিজ আপনারা কিছু মনে করবেন না।’



মন্তব্য