kalerkantho


লক্ষ্মীপুরে বেপরোয়া অটোরিকশা

কাজল কায়েস, লক্ষ্মীপুর   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



লক্ষ্মীপুরের সড়কগুলোতে সিএনজিচালিত অটোরিকশার দাপট চলছে। মালিক-চালকরা নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই নিজেদের ইচ্ছামতো অটোরিকশা চালাচ্ছে। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটছে।

এদিকে বিআরটিএর ভাষ্য মতে, লক্ষ্মীপুরে প্রায় সাড়ে সাত হাজার নিবন্ধিত সিএনজিচালিত অটোরিকশা রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ২৬ জন চালকের লাইসেন্স আছে। নতুন করে যারা লাইসেন্স করতে আসে, তাদের কোনো অক্ষর-জ্ঞান নেই। এ জন্য লাইসেন্স দেওয়া যাচ্ছে না। তবে বেসরকারি একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, জেলার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে অন্তত ১৪ হাজার অটোরিকশা চলছে।

লক্ষ্মীপুর শহরের উত্তর তেমুহনী ও রায়পুরের প্রধান সড়কে ১৩ জন অটোরিকশাচালকের সঙ্গে বলে জানা গেছে, প্রতিদিন মালিককে ভাড়া দিতে হয় ৫০০-৬০০ টাকা। জেলার আটিয়াতলী ও চন্দ্রগঞ্জে দুটি গ্যাস পাম্প রয়েছে। লাইনে সারিবদ্ধভাবে থেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে অটোরিকশায় গ্যাস নিতে হয়। এতে বিপুল পরিমাণ কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়। তাই মালিকের টাকার চিন্তায় যাত্রী পরিবহনের সময় চালকরা দ্রুত গতিতে গাড়ি চালায়।

স্থানীয়রা জানিয়েছে, ব্যস্ততম নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক সড়ক ছাড়াও জেলা সদর, রায়পুর, রামগঞ্জ, কমলনগর ও রামগতির অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে বেপরোয়া গতিতে দিন-রাত বিরামহীন অটোরিকশা চলছে। বেশির ভাগই অদক্ষ অটোরিকশাচালক। অনেকেরই কোনো অক্ষর-জ্ঞান নেই। এতে প্রায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটেছে। ফলে প্রাণহানিসহ পঙ্গুত্ব বরণ করতে হচ্ছে যাত্রীদের।

জেলা শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক মামুনুর রশিদ বলেন, ‘ঝামেলামুক্ত প্রক্রিয়ায় চালকদের লাইসেন্স করার সুযোগ ও চালকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা গেলে দুর্ঘটনা কমবে।’

লক্ষ্মীপুর সার্কেল বিআরটিএ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘নতুন করে অনেকেই আবেদন করেছে। হয়রানি ছাড়াই লাইসেন্সের জন্য করা আবেদনগুলোর কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।’

এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) আ স ম মাহাতাব উদ্দিন বলেন, ‘সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে বলা হয়েছে। এ নিয়ে আমাদের নিয়মিত অভিযান চলছে।’

 

 



মন্তব্য