kalerkantho


আন্ত উপজেলা বাসের অভাব

বাসহীন বিভাগীয় শহর ময়মনসিংহ

নিয়ামুল কবীর সজল, ময়মনসিংহ   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



বিভাগীয় শহর ময়মনসিংহের ভেতরে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়ার জন্য কোনো বাস নেই। আবার জেলা সদর থেকে বিভিন্ন উপজেলায় যাতায়াতকারী বাসের সংখ্যা দিন দিন কমছে। যে বাসগুলো আছে এগুলোর সেবার মান ভালো নয়। পুরনো জীর্ণ, ধীরে ধীরে চলে, সময়সীমার ঠিক নেই।

লোকাল বাসের অভাবে যাত্রীরা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চলাচল করে; যার কারণে ঘটছে দুর্ঘটনা। নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের জের ধরে বর্তমানে যাত্রীরা আন্ত উপজেলায় বড় বাসের সংখ্যা বাড়ানো এবং বিভাগীয় শহরে বাস চালুর দাবি জানিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন ময়মনসিংহ শহরের একাধিক বাসস্ট্যান্ড থেকে ময়মনসিংহের ১৩টি উপজেলায় লোকজন যাতায়াত করে। এগুলো হলো ময়মনসিংহ থেকে মুক্তাগাছা, ফুলবাড়িয়া, তারাকান্দা, ফুলপুর, হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া, গফরগাঁও, ত্রিশাল, ভালুকা, ঈশ্বরগঞ্জ, নান্দাইল ও গৌরীপুর। এ ছাড়া ময়মনসিংহ থেকে কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, জামালপুর এবং শেরপুর জেলা সদর ও এসব জেলার বেশ কিছু উপজেলায় লোকজন নিয়মিত সড়কপথে যাতায়াত করে। এসব স্থানে ১০ বছর আগেও যাত্রীদের মূল বাহন ছিল বড় বাস। কিন্তু সেই লোকাল বাসের সংখ্যা দিন দিন কমেছে। আবার পাল্লা দিয়ে বেড়েছে যাত্রীর সংখ্যা। তাই এসব স্থানে এখন ব্যাপক হারে চলাচল শুরু হয়েছে অটোরিকশার। কখনো কখনো অটোরিকশা দুর্ঘটনায় চালকসহ সব যাত্রীই হতাহত হয়েছে।

যাত্রীরা জানায়, এখনো যেসব লোকাল বাস এসব রুটে চলাচল করছে, সেগুলো পুরনো। বলতে গেলে কোনো টাইম-টেবিল নেই। সময় বাঁচাতে এবং নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছতে যাত্রীরা অটোরিকশাতেই চলাচল করে, যদিও অটোরিকশার ভাড়া বাসের চেয়ে অন্তত দ্বিগুণ। আবার অনেক যাত্রী অতি উৎসাহী হয়েও অটোরিকশায় চড়ছে।

এদিকে চাহিদার কারণে ঢাকাগামী দূরপাল্লার বাসের সংখ্যা বেড়েছে; কিন্তু এ বাসগুলো স্বল্প দূরত্বের যাত্রী পরিবহনে আগ্রহী নয়। একাধিক ব্যক্তি জানায়, ব্যস্ত সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চলাচল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এ ছাড়া চালকরা বেপরোয়া গতিতে চালায়। তারা একে অন্যকে ওভারটেক করতে চেষ্টা করে। পথে দুর্ঘটনা কমাতে হলে বিকল্প হিসেবে বড় লোকাল বাস বাড়াতে হবে।

ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার হাজীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এনামুল হক বলেন, ‘তারাকান্দা হয়ে ঢাকাগামী বাসগুলো লোকাল যাত্রী তোলে না। তাই আমি অনেক সময় ধোবাউড়া উপজেলাগামী বাসে উঠি। কিন্তু সেই বাস বিভিন্ন স্ট্যান্ডে অনেক ক্ষণ থেমে থাকে। ধীরগতিতে চলে। আবার অনেক সময় বাসে সিটও পাওয়া যায় না। তাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশা বা মহেন্দ্রতে চলাচল করি।’

গৌরীপুর উপজেলার আরিফুল ইসলাম জানান, গৌরীপুর থেকে বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা দুটিই চলাচল করে। বাসের ভাড়া ২৫ টাকা আর অটোরিকশার ভাড়া দিনে ৪০ টাকা। রাতে ৫০ টাকা। তিনি বলেন, ‘বাসের টাইম-টেবিল ঠিক নেই। সিটগুলোও ভালো না। তাই মানুষ বাসস্ট্যান্ডে এসে অটোরিকশা ভাড়া করে ময়মনসিংহে চলে আসে।’

এ বিষয়ে ‘নিরাপদে পথ চলি’ সংগঠনের আহ্বায়ক রাসেল রনি বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে হলে বিভিন্ন সড়কপথে বড় বাসের সংখ্যা বাড়াতে হবে। বাসগুলো হতে হবে আরামদায়ক। এ ছাড়া এগুলোর সময়মতো চলাচলও করতে হবে।’

জেলা ট্রাফিক পরিদর্শক আব্দুল কাদির বলেন, ‘ব্যস্ত সড়কে ছোট বাহন দুর্ঘটনার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাই প্রয়োজনীয়সংখ্যক বাসের ব্যবস্থা করা দরকার। আর যাত্রীদেরও ছোট বাহনে চড়ার ব্যাপারে সচেতন হওয়া দরকার।’

জেলা মোটর মালিক সমিতির মহাসচিব মাহবুবুর রহমান জানান, তাঁরা বিভিন্ন পথে বড় গাড়ির সংখ্যা বাড়াচ্ছেন। কিছুদিন আগে ময়মনসিংহ থেকে ভালুকায় একটি বাস চালু হয়েছে। অন্যান্য স্থানেও তাঁরা ভালো মানের বাস সার্ভিসের কথা চিন্তা করছেন। তিনি বলেন, ‘ময়মনসিংহ মহানগরীতেও এখন টাউন সার্ভিস দরকার।’

 



মন্তব্য