kalerkantho


রাজশাহীতে ৪০ শতাংশ গাড়ির ফিটনেস নেই

পুলিশকে মাসোয়ারা দিয়ে চলছে রাস্তায়

রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



রাজশাহীতে ৪০ শতাংশ গাড়ির ফিটনেস নেই

রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কে নির্বিঘ্নে চলাচল করছে অবৈধ যান ভটভটি। নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের পর কর্তৃপক্ষের নজরদারিতে কয়েক দিন বন্ধ থাকলেও আবার তা শুরু হয়েছে। ছবিটি গতকাল বিকেলে নওহাটা থেকে তোলা। ছবি : সালাহ উদ্দিন

রাজশাহীতে প্রায় ৪০ শতাংশ গাড়ির ফিটনেস নেই। এ তালিকায় সরকারি গাড়িও রয়েছে। তা ছাড়া বেশির ভাগ চালকের নেই ড্রাইভিং লাইসেন্স। বিশেষ করে মোটরসাইকেলচালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্সের হার একেবারেই কম। এ অবস্থায় প্রতিদিন রাস্তায় নামছে হাজারো গাড়ি। প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। অভিযোগ উঠেছে, ট্রাফিক পুলিশকে মাসোয়ারা দিয়ে রাস্তায় নামছে এসব যানবাহন। এর পাশাপাশি রয়েছে অবৈধ ভটভটি। এগুলো থেকে প্রতিদিন রাস্তায় চাঁদা আদায় করছে পুলিশ।

তবে আশার কথা হলো, শিক্ষার্থীদের দুর্বার আন্দোলনের পর রাজশাহীর রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটিতে যানবাহনের কাগজপত্রের হালনাগাদের হার বাড়ছে। সঙ্গে ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদনকারীদের সংখ্যাও বাড়ছে। কয়েক দিন ধরে রাজশাহীতে ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য ব্যাপক হারে আবেদন জমা পড়ছে।

রাজশাহী বিআরটিএ সূত্র মতে, রাজশাহীতে লাইসেন্সযোগ্য মোট যানবাহন রয়েছে চার হাজার ৬৮৩টি। এর মধ্যে ফিটনেস আছে দুই হাজার ৬৯৭টির। ফিটনেসবিহীন যানবাহনের সংখ্যা হচ্ছে এক হাজার ৯৮৬। ফিটনেসবিহীন যানবাহনের মধ্যে বাস, ট্রাকের সংখ্যাই বেশি। 

বাণিজ্যিক যানবাহন রয়েছে মোট এক হাজার ৯৪২টি। এর মধ্যে ফিটনেস রয়েছে মাত্র ৯১৫টির। অন্যদিকে সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানার দুই হাজার ৭৪১টি গাড়ির মধ্যে ফিটনেস রয়েছে মাত্র এক হাজার ৭৮২টির। এসব যানবাহনের চালকদের অনেকের ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই।

রাজশাহী বিআরটিএ সূত্র মতে, রাজশাহীতে বিপুলসংখ্যক মোটরসাইকেল থাকলেও বেশির ভাগ চালকেরই ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। শুধু রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে মোটরসাইকেলগুলো রাস্তায় চলছে। রাজশাহীতে মোটরসাইকেলচালকরাই সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এর পরে রয়েছে ভটভটি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা।

রাজশাহী বিআরটিএর উপপরিচালক এস এম কামরুল হাসান জানান, রাজশাহীর প্রায় ৪০ শতাংশ যানবাহনের ফিটনেস নেই। এগুলো কিভাবে রাস্তায় চলছে তা প্রশাসন বলতে পারবে। তবে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর এখন অনেকেই গাড়ির ফিটনেস করাতে আসছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রেও বাণিজ্যিক গাড়ির সংখ্যা কম। তিনি আরো জানান, আগে প্রতিদিন ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন জমা পড়ত বড়জোর ৪০টি। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১০টির মতো।

এদিকে অনুসন্ধানে জানা গেছে, যেসব গাড়ির ফিটনেস নেই, সেগুলো চলছে ট্রাফিক পুলিশকে নিয়মিত মাসোয়ারা দিয়ে। রাজশাহী জেলা ও মেট্রোপলিটন ট্রাফিক পুলিশ যৌথভাবে মাসোয়ারা আদায় করছে। রাজশাহী নগরীর ছয়টি কার ও মাইক্রোবাস স্ট্যান্ড থেকেই মাসে অন্তত দুই লাখ টাকা মাসোয়ারা যাচ্ছে পুলিশের কাছে। রাজশাহী নগর পুলিশের দুজন সার্জেন্ট ও জেলা ট্রাফিক পুলিশের দুজন সার্জেন্ট এ অর্থ আদায়ে জড়িত রয়েছেন।

রাজশাহী নগরীর কার ও মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডের প্রতিটি গাড়ি থেকে মাসে ৫০০ টাকা করে চাঁদা তুলে ট্রাফিক পুলিশকে দেওয়া হয় বলেও একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। এর বাইরে উপজেলা পর্যায়ের স্ট্যান্ডগুলো থেকেও মাসিক চাঁদা তুলে পুলিশকে দেওয়া হয়।

অনুসন্ধানে আরো দেখা গেছে, রাজশাহীর অন্তত অর্ধশত পয়েন্টে অবৈধভাবে ভটভটি থেকে চাঁদা তোলা হয়। সরকারদলীয় স্থানীয় নেতাকর্মীর আশ্রয়-প্রশ্রয়ে এসব চাঁদা তোলা হচ্ছে। এ ছাড়া স্থানীয় পৌরসভাগুলোও ভটভটি থেকে চাঁদা তুলে রাস্তায় নামার অনুমতি দিচ্ছে। এ চাঁদারও একটি অংশ যাচ্ছে পুলিশের কাছে।

সরেজমিন নগরীর নওদাপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, লাঠি হাতে নিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে চাঁদা তুলছে কয়েকজন যুবক। ভটভটি আসা মাত্রই তাদের ২০ টাকা করে চাঁদা দিতে হচ্ছে।

এদিকে রাস্তায় চলা অবৈধ যানবাহন ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি থেকে পুলিশের মাসোয়ারা আদায় সম্পর্কে জানতে চাইলে রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ইফতে খায়ের আলম বলেন, ‘এ ধরনের অভিযোগ সম্পর্কে আমার জানা নেই। তবে আমরা রাস্তায় অবৈধ যানবাহনের বিষয়ে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তাদের কড়া নির্দেশ দিয়েছি। এর ফলে এখন মামলার সংখ্যাও বাড়ছে।’

 



মন্তব্য