kalerkantho


কেনাকাটা

বাথরুমে দরকারি

টাইলস, শাওয়ার, বাথটাব—এমন অনেক অনুষঙ্গ এখন বাথরুমের দরকারি অনুষঙ্গ। বাজার ঘুরে খোঁজ নিয়েছেন এ এস এম সাদ

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



বাথরুমে দরকারি

টাইলস

বাথরুমের জন্য বাজারে রয়েছে বিভিন্ন রকমের টাইলস।

চায়নার টাইলস—চায়না টাইলসের মধ্যে ফ্লোরের জন্য গেনারম, উইন্টো, ভেনিজিয়া কেআইওয়াই, হুয়াউই, মুভ সিরামিকস, ইটো ব্রান্ডের টাইলস বেশি ব্যবহার হয়। এসব টাইলসের প্রতি বর্গফুটের বর্তমান দাম ১৩০ থেকে ৩৫০ টাকা। ফ্লোর টাইলস সাধারণত ২৪ বাই ২৪ ইঞ্চি, ২৪ বাই ৩২ ইঞ্চি ও ৩২ বাই ৩২ ইঞ্চি সাইজের হয়ে থাকে।

ওয়াল টাইলসের মধ্যে মার্সেল, গোয়ানেক্স, সিরামিকস আর্টিস্ট, সনো হুয়াল, জেডিআই সিরামিকস, হিমাই সিরামিকস, কর্নিল, ডেটা ইত্যাদি ব্র্যান্ডের প্রচলন বেশি। সাইজ ১২ বাই ২৪ ইঞ্চি। প্রতি বর্গফুটের দাম ১৫০ থেকে ২১০ টাকা। মিরর বাথরুম বা কিচেন টাইলসের প্রতি বর্গফুটের দাম ১৫০ থেকে ১৯০ টাকা। সিরামিক বাথরুম বা কিচেন টাইলসের প্রতি বর্গফুট ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা।

স্পেনের টাইলস—আমাদের দেশে এর দাম অন্যান্য টাইলসের তুলনায় চড়া। বর্তমানে বাজারে স্পেনের ফ্লোর টাইলসের প্রতি বর্গফুটের দাম ১৫৫ থেকে ৪৫০ টাকা। এই টাইলসের সাইজে একটু ভিন্নতা রয়েছে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, ২২.৫ বাই ২২.৫ ইঞ্চি, ২৪ বাই ২৪ ইঞ্চি, ১০ বাই ৩৬ ইঞ্চি, ৯.৫ বাই ৪৮ ইঞ্চি, ১০.২৫ বাই ১০.২৫ ইঞ্চি, ১৫ বাই ১৫ ইঞ্চি ইত্যাদি সাইজের হয়ে থাকে।

ওয়াল টাইলসের প্রতি বর্গফুটের দাম ২১৫ থেকে ৪৫০ টাকা। কিছু কিছু ওয়াল টাইলসে ইন্টারলক ব্যবস্থা রয়েছে। এগুলো ৮ বাই ২৪ ইঞ্চি, ১৩ বাই ২৪ ইঞ্চি, ১৩ বাই ৩০ ইঞ্চি ইত্যাদি সাইজের হয়ে থাকে। মিরর বাথরুম বা কিচেন টাইলসের প্রতি বর্গফুটের দাম ১৫০ থেকে ১৯০ টাকা। আর সিরামিক বাথরুম বা কিচেন টাইলসের প্রতি বর্গফুট ২৮০ থেকে ৩৮০ টাকা।

মার্বেল ও গ্রানাইট

ভারত, নরওয়ে, ইতালি, তুরস্ক ও ইউরোপের আরো কয়েকটি দেশ থেকে মার্বেল ও গ্রানাইট আমদানি করা হয়। মেঝে ও দেয়াল সবখানে মার্বেল ও গ্রানাইট ব্যবহার করা হয়। সাধারণত রান্নাঘরে চুলার নিচের স্পেসেই আমাদের দেশে মার্বেলের ব্যবহার বেশি হয়। ইতালির মার্বেলে যেকোনো আকৃতি দেওয়া যায়। অন্যান্য ব্র্যান্ডের তুলনায় ইতালি ও নরওয়ের মার্বেলের দাম একটু বেশি।

ভারতীয় মার্বেল প্রতি বর্গফুটের দাম ১৫০ থেকে ৮৫০ টাকা। ইতালিয়ান ব্র্যান্ডের মার্বেল প্রতি বর্গফুটের দাম ৫০০ থেকে এক হাজার ২৫০ টাকা। ইতালিয়ান ব্র্যান্ডের মধ্যে অরোরা, বায়ালজ গ্রিন, রোজালিয়া লাইট, মাসাকারার, সিলভার নোভা ইত্যাদির বেশ জনপ্রিয়। আর নরওয়ের মার্বেল প্রতি বর্গফুটের বর্তমান দাম ৫৫০ থেকে এক হাজার ৩৫০ টাকা।

ভারতীয় গ্রানাইটের প্রতি বর্গফুটের বর্তমান দাম ৬০০ থেকে ৭৫০ টাকা। হেভি গ্রানাইট প্রতি বর্গফুট এক হাজার ৫০ থেকে এক হাজার ৩৫০ টাকা। ভারতীয় গ্রানাইটের মধ্যে সিলভার পার্ল, সার্ফ হোয়াই, জাফরানা, মার্সেল এস বেশি পরিচিত।

ইতালিয়ান ব্র্যান্ডের মধ্যে রয়েছে ব্ল্যাক পার্ল, এমারেল্ড পার্ল ইত্যাদি। প্রতি বর্গফুটের দাম পড়বে ৯৫০ থেকে এক হাজার ২৫০ টাকা। চায়না গ্রানাইটের প্রতি বর্গফুটের দাম ৯০০ থেকে এক হাজার ৫০ টাকা। আর নরওয়ের গ্রানাইটের প্রতি বর্গফুটের বর্তমান দাম ৯০০ থেকে এক হাজার ৭৫০ টাকা।

ট্যাপ

বেসিন ট্যাপ—সাধারণত বেসিনের সঙ্গে থাকে।  সবচেয়ে কমন ট্যাপ একটু লম্বা ধরনের, আরেক ধরনের ট্যাপ পাওয়া যায়, যেটিতে ঠাণ্ডা ও গরম পানির আলাদা নল থাকে।  বেসিনে স্টিলের ট্যাপ ব্যবহার বেশি হয়। দাম পড়বে ৩৫০ টাকা থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত। এ ছাড়া আছে মনো ব্লক মিকশ্চার, হাই রাইস মিকশ্চার, বাথ মিকশ্চার ট্যাপ যা হাত ধোয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহার করে থাকে। তবে এর মূল্য তুলনামূলক বেশি—তিন হাজার ৫০০ থেকে সাত হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত।

ওয়াল মাউন্টেড মিকশ্চার—বাথরুম পরিষ্কার করতে ও গোসল করতে বেশি কাজে লাগে। এতে ইচ্ছামতো পানির ব্যবহার করা যায়। দাম পড়বে এক হাজার ৫০০ থেকে তিন হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত।

 

বাথটাব

বাথরুমের আয়তনের ওপর নির্ভর করে বাথটাবটি কিভাবে রাখবেন। বাথরুম যদি আয়তাকার হয় তাহলে বাথরুমের এক পাশে বাথটাব রাখুন। বাথরুমের দেয়ালের টাইলসের সঙ্গে মিলিয়ে বাথটাব লাগাতে পারেন। তবে সাদা ও অফহোয়াইট রঙের বাথটাব সব রঙের সঙ্গে মিলে যায়। বাথটাবের পাশে গ্লাস লাগিয়ে পার্টিশন দিয়ে দিতে পারেন। তাতে বেসিন ও কমোড শুষ্ক থাকবে। গ্লাসটা টেম্পার গ্লাস হলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা কমে যাবে। বাজারে বিভিন্ন ধরনের ডেকোরেটিভ গ্লাসও রয়েছে। গ্লাস লাগাতে না চাইলে বাথরুমের টাইলস বা রঙের সঙ্গে মিলিয়ে লাগিয়ে নিতে পারেন শাওয়ার কার্টেন বা পর্দা। তবে খেয়াল রাখতে হবে, পর্দা ভিজলে শুকাতে অনেক সময় লাগে।

বাথটাব, জ্যাকুজিতে শুয়ে-বসে গোসল করতে পারেন। দাঁড়িয়ে গোসল করার জন্য আছে ‘স্টুডিও বাথটাব’। আকৃতি ও নকশাভেদে এসব বাথটাবের দাম পড়বে সাড়ে চার হাজার থেকে ৭৫ হাজার টাকার মধ্যে—জানালেন হাতিরপুলের আল আমান স্যানিটারির বিক্রয়কর্মী মো. জসিম উদ্দিন। বিশেষায়িত কিছু বাথটাবের দাম লাখ টাকারও বেশি। গ্রিনরোড, পান্থপথ, হাতিরপুল, কলাবাগান, নিউ মার্কেট, এলিফ্যান্ট রোড, স্টেডিয়াম মার্কেট, গুলিস্তান, মৌচাক, মগবাজারসহ নানা হার্ডওয়্যার ও স্যানিটারির দোকানে খোঁজ করলেই পেয়ে যাবেন পছন্দের বাথটাব।

আর একে সিরামিকসের সেলস বিভাগের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ সৈয়দ সাইফুল ইসলাম জানান, দেশীয় সিরামিকস কম্পানিগুলো এখনো বাথটাব উত্পাদনে সেভাবে কাজ শুরু করেনি। এখনো তা আমদানিনির্ভর। মূলত ইতালি, কোরিয়া, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, চীন ও ভারত থেকে বিভিন্ন আকৃতি, নকশা ও মানের বাথটাব আমদানি করা হয়। বিদেশি বাথটাবগুলোর ক্ষেত্রে মানভেদে পাঁচ থেকে ১০ বছরের ওয়ারেন্টি দেওয়া হয়।

বাথটাব কেনার পর তা ফিটিং করার সময় সতর্ক থাকতে হবে। অভিজ্ঞ ও দক্ষ স্যানিটারি মিস্ত্রি দিয়ে বাথটাব ফিট করা উচিত। বসানোর সময় ভারসাম্য ঠিক না থাকলে পরে দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা মূলত বাথটাব বিক্রি করে থাকে। বাসায় ফিটিং করে দেওয়ার দায়িত্ব নেয় না।

 



মন্তব্য