kalerkantho


ছিমছাম গয়নার চাহিদাই বেশি

গরম বেশ জাঁকিয়ে বসেছে। সাজ আর পোশাকে ছিমছাম নকশার জয়জয়কার। ঈদ উৎসবেও তার ব্যতিক্রম থাকছে না। গয়নার পালেও তাই হালকা নকশার হাওয়া। গয়নার বাজার ঘুরে এবং বিশেষজ্ঞদের বয়ানে ঈদ গয়নার হালচাল জানাচ্ছেন মারজান ইমু

১৯ জুন, ২০১৭ ০০:০০



ছিমছাম গয়নার চাহিদাই বেশি

এবারের ঈদের গয়নার ধারা হলো পুরনো-নতুনের মেলবন্ধন। গয়নার ফ্যাশন মাতিয়ে রেখেছে নব্বইয়ের দশকের গলার সঙ্গে এঁটে থাকা চোকার। শাড়ির সঙ্গে জনপ্রিয়তা পাওয়া চোকার এখন ওয়েস্টার্ন পোশাকের সঙ্গে বেশি দেখা যাচ্ছে। টপস-কুর্তা বা তাগার মতো ট্রেন্ডি পোশাকের সঙ্গে মখমল কাপড়ে বসানো ছোট্ট লকেটের চোকার কিংবা ছিমছাম ধাতব চোকার সবচেয়ে ট্রেন্ডি। অনলাইন শপ তুমি গলার মালার ডিজাইনার আনিকা বিনতে কাশেম বলেন, ‘চোকারের চাহিদা মাথায় রেখে এবার চেষ্টা করেছি বিভিন্ন ধরনের চোকার রাখতে। পাথর বা ক্রিস্টাল বসানো জমকালো চোকারের পাশাপাশি রংবেরঙের প্লাস্টিক বিডস থাকছে নকশায়। চোকারের পাশাপাশি থাকছে ধাতব স্টেটমেন্ট নেকলেস (গলা লাগোয়া হার)। এবার ঈদে তৈরি করা হয়েছে কাঠের ও ঝিনুকের মালা। ছিমছাম গয়না চাইলে পাবেন ছোট্ট কানের দুল, লকেট ও ব্রেসলেট। এসব গয়না সোনার জলে গড়ানো এবং বাহারি স্টোন বসানো। বিভিন্ন শোরুম ঘুরে দেখা যায়, স্টোন-কুন্দনের ভারী গয়নার বদলে ছিমছাম গয়নার চাহিদাই বেশি।

গলার সঙ্গে লাগোয়া ধাতুর তৈরি স্পাইরাল (প্যাঁচানো নকশা) চোকার নেকলেসও বেশ চলছে। নানা রকম পুঁতি বসানো সুতার তৈরি চিক উৎসবের শপিং লিস্টে জায়গা পাচ্ছে। বসুন্ধরা সিটির জেমস গ্যালারির বিক্রয়কর্মী মনজুর হোসেন জানান, কয়েক লহরের গয়না এবারও থাকছে। তবে মালার বদলে চেইন দিয়ে লহর বানাচ্ছেন তরুণীরা।

লহর ছাড়াও বেশ খানিকটা ঝোলানো মালার সঙ্গে বিভিন্ন আকৃতির লকেট জনপ্রিয় হচ্ছে। দেশীয় ও ওয়েস্টার্ন সব পোশাকেই মানিয়ে যাচ্ছে এই গয়না। মুক্তার সঙ্গে রুপা আর বিডসের সমন্বয়ে যেমন নকশা হচ্ছে তেমনি কাঠের সঙ্গে কোনোটাতে আবার সুতা, পাটের আঁশ, কড়ি অথবা রুদ্রাক্ষের ব্যবহার করা হয়েছে। গলার সঙ্গে মিলিয়ে ডিজাইন হচ্ছে কানের দুল। সুতা দিয়ে চমৎকার বুননে তৈরি গয়নাও আছে। তাতে ব্যবহার করা হয়েছে পুঁতি, ধাতু বা কাঠ। নানা রকম পুঁতি বসানো সুতার তৈরি চিক বেশ নজর কাড়বে। কাঠ, বেত, পুঁতি, পালক, কড়ি, সুতা, রিবন, কাপড় দিয়ে নেকলেস তৈরি হচ্ছে। গয়নায় এখন মোগল থিম বেশ জনপ্রিয়। মেটাল বা কাঠের ফ্রেমে বিভিন্ন নকশা ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। কখনো প্রিন্ট করে কখনো হাতে আঁকা মোগল থিমের নকশা ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে গলার নেকপিস, কানের দুল, আংটিসহ সব ধরনের গয়নায়। অনলাইন শপ বোকা বাক্সের ডিজাইনার অর্নব সাহা জানান, ‘কাঠ ছাড়াও তামা, রুপা, প্লাস্টিকসহ নানা উপকরণে গয়না ডিজাইন করেছি এবারের ঈদ সামনে রেখে। ’ গয়নার দোকান শৈলীর ডিজাইনার তাহমিনা খান শৈলী জানান, ‘মেটালের সঙ্গে বিডস ও রিয়েল স্টোন দিয়ে উৎসবের গয়না ডিজাইন করেছি। মুক্তার সঙ্গে রুপা ও রিয়েল স্টোনও থাকছে। ফুলেল মোটিফ ও জ্যামিতিক নকশা প্রাধান্য দিয়েছি। লোকজ ও দেশীয় গয়নার ক্ষেত্রে কাঠ, সুতা, ফলের বীজ হালকা রঙের মেটালে এন্টিক গয়না পাবেন। ’ দোকানের গয়না সম্ভারেও তামা, পিতল, রুপা ও সংকর ধাতুর তৈরি গয়নাগুলো উৎসবের সংগ্রহে এগিয়ে রয়েছে।   ধাতুর নিজস্ব রং ছাড়াও হালকা অ্যান্টিক রঙের গয়নার কদর বেশি। নানা রকম ফুল, লতা-পাতা, পয়সা, জ্যামিতিক মোটিফ দিয়ে নকশা করা হচ্ছে। শুধু গলা বা কানের গয়না ছাড়াও হাতের চুড়ি, বালা আংটি, নাকফুল, পায়েলসহ হরেক রকম গয়না গোল, চার কোনা কিংবা বহুভুজাকৃতির পয়সার মোটিফে নকশা করা মালা হরহামেশাই চোখে পড়ছে পথেঘাটে। গলা-লাগোয়া থেকে অনেকখানি ঝোলানো বেশ কয়েকটি আকারে মিলবে পয়সা গয়না। এখন একটু বড় আকৃতির আংটির চল এসেছে। দেশীয় ও পাশ্চাত্য সব ধরনের পোশাকের সঙ্গেই বড়সড় একটি আংটি বেশ মানানসই। অনামিকার বদলে তর্জনীর সাজে বড় আংটির ব্যবহার দেখা যাচ্ছে। রুপা, সংকর ধাতু, পাথর, কাঠ, মুক্তা ও মিনা করা আংটির নকশায়ও রয়েছে হরেক রকম বৈচিত্র্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাইরুজ মুনিয়া জানান, ‘যেকোনো পোশাকের সঙ্গে গয়নার সাজে বৈচিত্র্য আনতে একটা বড় আংটিই যথেষ্ট মনে হয় আমার কাছে। আকারে বেশ বড় হলেও ভারী নয়। ’ গয়না দোকানগুলোতে আজকাল বেশ ভিন্নধর্মী আংটি চোখে পড়ে। ডিম্বাকৃতির, বরফি, তিন কোনা, ষড়ভুজ, ঢেউ খেলানোসহ নানা আকৃতির আংটি মিলবে বাজারে।

 

গয়না কৃতজ্ঞতা : তুমি গলার মালা এবং বোকাবাক্স


মন্তব্য