kalerkantho


সুলতান মনসুরের বাড়ি ও গাড়ি স্ত্রীর নামে

মাহফুজ শাকিল, কুলাউড়া (মৌলভীবাজার)   

৭ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



সুলতান মনসুরের বাড়ি ও গাড়ি স্ত্রীর নামে

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনে আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, ডাকসুর সাবেক ভিপি ও সাবেক এমপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হয়ে ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। দলীয় পরিচয় হিসেবে উল্লেখ করেন গণফোরাম আর পেশায় সমাজকর্মী। শিক্ষাগত যোগ্যতা বিএ (অনার্স) এমএ উল্লেখ করেছেন। সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদের কোনো বাড়ি নেই। নেই কোনো গাড়িও। কুলাউড়ায় আছে শুধু ছয় একর কৃষিজমি। তাও সে জমি থেকে নেই কোনো আয়-উপার্জন। নির্বাচন কমিশনে দেওয়া হলফনামায় এমন তথ্য দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাবেক এই এমপি।

সুলতান মনসুরের পরিবারে আছে একটি টয়োটা গাড়ি। গাড়িটির মূল্য ২০ লাখ টাকা। তবে গাড়ির মালিক তিনি নন, মালিক তাঁর স্ত্রী। স্ত্রীর সঞ্চয়পত্রে বা স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ আছে ২৫ লাখ টাকা। পরিবারে এক লাখ টাকা মূল্যের যে ইলেকট্রনিক সামগ্রী আছে, তাও স্ত্রীর নামে। সাত শতক জমি আর ২০ ভরি স্বর্ণও আছে স্ত্রীর নামে। এই স্বর্ণ তিনি পেয়েছিলেন বিয়ের দান হিসেবে। গাড়ি যেমন স্ত্রীর, একটি বাড়ি আছে, সেটির মালিকও স্ত্রী। বাড়িটির আর্থিক মূল্য ৩০ লাখ টাকা। তবে তিনটি দালানের ৯ দশমিক ৫ অংশের মালিক সুলতান মনসুর। এর আর্থিক মূল্য দুই লাখ ৬৩ হাজার ১৫৭ টাকা। মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেন, কৃষি, বাড়িভাড়া, ব্যবসা, সঞ্চয়পত্র বা ব্যাংক আমানত, চাকরি বা অন্য কোনো খাত থেকে তাঁর কোনো আয় নেই। তবে তাঁর ওপর নির্ভরশীলদের আয় ছয় লাখ ৬২ হাজার ৪০০ টাকা। তবে এই আয় বছরে, নাকি মাসে তা হলফনামায় দেওয়া তথ্য থেকে স্পষ্ট হওয়া যায়নি। সুলতান মনসুরের নগদ টাকা আছে ৫৫ লাখ। একই পরিমাণ টাকার সেভিংস সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্রে বা স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ আছে তাঁর। আর যে আসবাব আছে, তার আর্থিক মূল্য মাত্র দুই লাখ টাকা।

এ বিষয়ে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদের কাছে হলফনামার আয়-ব্যয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে কালের কণ্ঠকে বৃহস্পতিবার বিকেলে মুঠোফোনে সরাসরি কোনো উত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যান এবং তিনি বলেন, রাজনীতি ইমানের অংশ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রথম প্রধানমন্ত্রী বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন উনারা যেভাবে, যে প্রক্রিয়ায় রাজনীতি করেছেন, নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, আমরা তাঁর কর্মী হিসেবে সেই চরিত্র ধারণ করে ঠিক এভাবেই রাজনীতি করছি। বঙ্গবন্ধু শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যেভাবে রাজনীতি করার পেছনে উনি উনার আয়-রোজগার সহযোগিতা পেয়েছেন আমরা ঠিক এভাবেই করছি। রাজনীতি করি মানুষ এবং সমাজের সেবা করার জন্য, সারা জীবন রাজনীতির পেছনেই গেল, টাকা আয়ের সময় কই?



মন্তব্য