kalerkantho


রাজশাহী

আ. লীগে উচ্ছ্বাস নিশ্চুপ বিএনপি

রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী   

২১ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



আ. লীগে উচ্ছ্বাস নিশ্চুপ বিএনপি

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে এখন আলোচনা তুঙ্গে। বর্তমান ও সাবেক এমপিদের ঘিরেই এ আলোচনার পরাদ উঠছে। তাঁদের মধ্যে এবার কারা মনোনয়ন পাচ্ছেন, তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনার পাশাপাশি নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। আবার মনোনয়ন নিয়ে আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যেও ব্যাপক গুঞ্জন চলছে। এ নিয়ে নিজ দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অবস্থানও সৃষ্টি হয়েছে। জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে এবার অন্তত একটিতে আওয়ামী লীগ নতুন কোনো প্রার্থী দিয়ে চমক দিতে পারে, এমনটিও শোনা যাচ্ছে। তবে বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ে এতটা আলোচনা চোখে পড়ছে না।

জানা গেছে, রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন ৩৯ জন। আর বিএনপির সংগ্রহ করেছেন ৪২ জন।

দলীয় সূত্র মতে, একসময়ের বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল রাজশাহী। ২০০১ ও ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে এখানে বিএনপি প্রার্থীদের জয়জয়কার ছিল। ২০০৮ সালের নির্বাচনে সব কয়টি আসন ছিনিয়ে নেয় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট। এর মধ্যে রাজশাহী সদর আসনে ওয়ার্কার্স পার্টি থেকে বিজয়ী হন ফজলে হোসেন বাদশা। অন্য পাঁচ আসনেই বিজয়ী হন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। সেই থেকে ১০ বছর ধরে একইভাবে ছয়টি আসনই দখলে রেখেছে মহাজোট। তাই জেলার ছয়টি আসনে আওয়ামী লীগ থেকে কারা দলীয় মনোনয়ন পাচ্ছেন, তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। তবে এখন পর্যন্ত ঘুরেফিরে বর্তমান ও সাবেক এমপিদের নামই বেশি শোনা যাচ্ছে। যদিও এবারের নির্বাচনে নতুন প্রার্থীরাও শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছেন। রাজশাহীর অন্তত একটি আসনে চমক হিসেবে নতুন মুখ দেখা যেতে পারে।

রাজশাহীর পবা উপজেলার আওয়ামী লীগ নেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কে মনোনয়ন পাবেন, তা নিয়ে খুব টেনশন হচ্ছে। এই শুনছি আয়েন পাবেন, এই শুনছি আসাদ পাবেন?’

গোদাগাড়ী আওয়ামী লীগের কর্মী হযরত আলী বলেন, ‘মনোনয়ন পাওয়া না পাওয়া নিয়ে নিজ দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে এখনই বিভেদ সৃষ্টি হয়েছে। সেটি নিরসন করতে বেশ বেগ পেতে হবে আওয়ামী লীগকে। এরপর জয়ের চিন্তাভাবনা করতে হবে।’

এদিকে রাজশাহীর ছয়টি আসনে বিএনপির প্রার্থী কে হচ্ছেন, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। এ ক্ষেত্রেও পুরনোদের নাম শোনা যাচ্ছে। তবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মতো নির্বাচন নিয়ে বিএনপির মধ্যে ততটা উচ্ছ্বাস নেই। রাজশাহীর ছয়টি আসনের মধ্যে এবার জামায়াতকে একটি আসন ছেড়ে দিতে হতে পারে বিএনপির, এমনটিও শোনা যাচ্ছে।

২০০৮ সালের নির্বাচনেও রাজশাহী-৩ আসনে জামায়াত বিএনপিকে ছাড় দেয়নি। বিএনপিও জামায়াতকে ছাড় দেয়নি। ফলে ওই আসনে বিএনপি-জামায়াতের দুজন প্রার্থীসহ আওয়ামী লীগের একজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ প্রার্থীই বিজয়ী হন। এবারের নির্বাচন ঘিরেও জামায়াত সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এবার তারা রাজশাহী-৩ অথবা রাজশাহী-১ আসন বিএনপির কাছে দাবি করতে পারে।

রাজশাহীর পুঠিয়ার বিএনপি নেতা মধু বলেন, ‘মনোনয়ন কে পাবেন, তা বড় কথা নয়। বিএনপির আসল কাজ হবে হারানো আসনগুলো ফিরিয়ে আনা। সেভাবেই যোগ্য প্রার্থী বাছাই করতে হবে।’

দুর্গাপুরের বিএনপি নেতা সাইদুর রহমান মন্টু বলেন, ‘দলীয় মনোনয়ন নিয়ে আমরাও অনেকটা উদ্বিগ্ন। তবে যে-ই মনোনয়ন পাক, সবাই মিলে তাকে বিজয়ী করতে হবে।’



মন্তব্য