kalerkantho


জাফর উল্যাহ ও এমপি নিক্সন গ্রুপের সংঘর্ষ

ভাঙ্গায় আহত ১০ পুলিশের গুলি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর   

৯ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



জাফর উল্যাহ ও এমপি নিক্সন গ্রুপের সংঘর্ষ

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় গত বুধবার রাতে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর অন্যতম সদস্য কাজী জাফর উল্যাহ এবং ফরিদপুর-৪ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান ওরফে নিক্সন চৌধুরীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। সংঘর্ষের সময় প্রায় দেড় ঘণ্টা ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। পুলিশ গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গত বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ভাঙ্গার চুমুরদী ইউনিয়নের পূর্ব সদরদী এবং তার পাশে কাপুড়িয়া সদরদী ও হোগলাডাঙ্গী এলাকায় দফায় দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দুই পক্ষের সহস্রাধিক সমর্থক বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে আহত ১০ জনের মধ্যে ফরহাদ শিকদার, বাবলু শিকদার, জামাল বেপারী, রঘু শেখকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ সংঘর্ষের সময় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে প্রায় দেড় ঘণ্টা সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ ছিল। পুলিশ শটগানের ১৩ রাউন্ড গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার বিকেলে ভাঙ্গার চুমুরদী ইউনিয়নের পূর্ব সদরদী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সনের একটি নির্বাচনী সভা হয়। ওই সভায় পূর্ব সদরদী গ্রামের নিক্সন চৌধুরীর দুই সমর্থক ফরহাদ শিকদার ও ফরহাদ মাতুব্বরের মধ্যে হাতাহাতি হয়। সভা শেষে ফরহাদ মাতুব্বর তাঁর পক্ষের লোকজনকে বিষয়টি জানায়। ফরহাদ মাতুব্বরের পক্ষের অধিকাংশ লোক কাজী জাফর উল্যার সমর্থক। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও মারধরের ঘটনায় নিক্সন চৌধুরীর চার সমর্থক আহত হয়। তাদের ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ সময় হাসপাতাল এলাকায় নিক্সন সমর্থকদের ভিড় বাড়ে। নিক্সন সমর্থকরা হাসপাতাল চত্বরে যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কয়েক নেতাকর্মীকে পেয়ে তাদের গালাগাল করে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাত ৮টার দিকে দুই পক্ষের হাজারখানেক লোক ঢাল, সড়কি, রামদাসহ মহাসড়কে অবস্থান নেয়। এ সময় ধাওয়াধাওয়ি, ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। ভাঙ্গা থানার একদল পুলিশ দুই পক্ষের মাঝখানে অবস্থান নিয়ে শটগানের গুলি ছুড়ে বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ভাঙ্গা থানার ওসি  কাজী সাইদুর রহমান বলেন, পুলিশ শটগানের গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় অভিযোগ দেয়নি। কেউ মামলা করতে চাইলে মামলা নেওয়া হবে। ওই এলাকায় পুলিশি টহল চলছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।



মন্তব্য