kalerkantho


বগুড়ায় মনোনয়ন নিয়ে ঝামেলায় পড়তে পারে আওয়ামী লীগ

সম্ভাব্য প্রার্থীর সংখ্যা ৩৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া   

১৭ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



বগুড়ায় মনোনয়ন নিয়ে ঝামেলায় পড়তে পারে আওয়ামী লীগ

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বগুড়ার আসনগুলোতে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বর্তমানে জেলার সাতটি আসনে ৩৬ জন মনোনয়নপ্রত্যাশী মাঠে রয়েছেন। এর মধ্যে অনেকে শুধু নির্বাচনকে সামনে রেখেই এলাকায় এসেছেন। মৌসুমি এসব প্রার্থীসহ এত প্রার্থীর কারণে নির্বাচনে মনোনয়ন নিয়ে বেকায়দায় পড়তে পারে দলটি।

২০১৪ সালের নির্বাচনে বগুড়ার সাতটি আসনের মধ্যে পাঁচটিই শরিকদের ছেড়ে দেয় আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে চারটি পায় এরশাদের জাপা। অন্য একটি পায় জাসদ। এবারও এ দল দুটি এসব আসনে তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করে রেখেছে। তাঁরা নিজ নিজ এলাকায় সক্রিয় রয়েছেন। তবে আসনগুলোতে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরাও মনোনয়নের জন্য বেশ তৎপর। দীর্ঘদিন ধরে এই নেতারা দলীয় মনোনয়ন লাভের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

জেলার সাতটি আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীর সংখ্যা কিছুদিন আগেও ছিল ২৬ জন। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬ জনে। এত দিন বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে দলের জেলা সভাপতি মমতাজ উদ্দিনকে একক প্রার্থী হিসেবে মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু সেখানেও এখন নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে চান এমন প্রার্থীর সংখ্যা বাড়ছে।

বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনে মনোনয়ন যুদ্ধে মূলত বর্তমান এমপি, দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মান্নান একক প্রার্থী। তিনি একাই মাঠে আছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তাঁর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন সারিয়াকান্দি পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলমগীর শাহী সুমন।

বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের তালিকা অনেকটা লম্বা। এখানে পাঁচ নেতা দলীয় মনোনয়ন চান। তাঁদের মধ্যে ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পান সাবেক সরকারি কর্মকর্তা আকরাম হোসেন। পরে আসনটি জাপাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এবার তিনি তাঁর ছবিসংবলিত পোস্টারে এলাকা ছেয়ে ফেলেছেন। আগামী নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। তিনি ছাড়াও মনোনয়ন চান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান মোস্তা, জেলা কমিটির সদস্য ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কাশেম ফকির, সাবেক কৃষক লীগ নেতা আবদুল মোত্তালেব ও শিবগঞ্জ পৌরসভার মেয়র তৌহিদুর রহমান মানিক।

বগুড়া-৩ (আদমদীঘি ও দুপচাঁচিয়া) আসনে ছয়জন মনোনয়নপ্রত্যাশী। আওয়ামী লীগের সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তি প্রবীণ নেতা আনছার আলী মৃধা বেঁচে নেই। বিশ্লেষকদের ধারণা, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যদি এই আসনে তৃণমূলের পছন্দ মতো প্রার্থী মনোনয়ন দেয় তাহলে কোনোভাবেই আওয়ামী লীগকে হারানো সম্ভব নয়। কারণ অতীতের চাইতে বর্তমানে অনেক ভালো অবস্থানে রয়েছে দলটি। আওয়ামী লীগের যেসব নেতা মনোনয়নপ্রত্যাশী তাঁরা হলেন আদমদীঘি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম খান রাজু, দুপচাঁচিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মিজানুর রহমান খান সেলিম, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সাবেক সহসম্পাদক অজয় কুমার সরকার, জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক কর্মকর্তা তবিবর রহমান তবি, বগুড়ার পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আব্দুল মতিন, জার্মানি আওয়ামী লীগ শাখার উপদেষ্টা খন্দকার আসাদুর রহমান লাইজু। এর মধ্যে আসাদুর রহমান লাইজু ১৯৯৬ সালে বগুড়া-৬ (সদর) আসনে উপনির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছিলেন। এরপর থেকেই তিনি এলাকায় অনুপস্থিত ছিলেন বলে জানায় স্থানীয়রা।

বগুড়া-৪ (কাহালু ও নন্দীগ্রাম) আসনের মনোনয়নের দাবিদার ছয়জন। এ আসনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য ও বগুড়া জেলা সভাপতি মমতাজ উদ্দিন দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী। তিনি ছাড়াও এ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা হলেন, কাহালু উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র হেলাল উদ্দিন, সহসভাপতি কামাল উদ্দিন কবিরাজ, নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইউনুছ আলী, জেলা যুবলীগের সাবেক সহসভাপতি রেজাউল আশরাফ জিন্নাহ, বগুড়ার সাবেক পিপি হেলালুর রহমান, ঢাকা কলেজের অধ্যাপক এ এন এম আহসানুল হক।

বগুড়া-৫ (ধুনট ও শেরপুর) আসনের বর্তমান এমপি আওয়ামী লীগের হাবিবর রহমান। তিনি ছাড়াও এ আসনে দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী চারজন। তাঁরা হলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মজিবর রহমান মজনু, ধুনট উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক টি আই এম নুরুন্নবী তারিক, বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল জান্নাতুল ফেরদৌসী রূপা, শেরপুর শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি তাহমিনা জামান হিমিকা।

বগুড়া-৬ (সদর) এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জেলা সভাপতি মমতাজ উদ্দিন। এর আগে কয়েকবার তিনি খালেদা জিয়ার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। এ জন্য এবার তিনি বগুড়া-৪ (কাহালু ও নন্দীগ্রাম) নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দলীয়প্রধান যদি তাঁকে বগুড়া-৪ না দিয়ে বগুড়া-৬ আসনে মনোনয়ন দেন তাহলে তিনি সেই আসনেই ভোট করবেন। তবে তিনি ছাড়াও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রেজাউল করিম মন্টু, যুগ্ম সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু দলীয় মনোনয়ন চাইবেন। এ ছাড়া মনোনয়ন চাইবেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও শাখারিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবু সুফিয়ান সফিক, জেলা আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম ডাবলু, বগুড়া শহর আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান মাহমুদ খান রনি।

বগুড়া-৭ (গাবতলী ও শাজাহানপুর) আসনে নৌকার মনোনয়নপ্রত্যাশী পাঁচজন। এঁরা হলেন—দলের জেলা উপদেষ্টা ডা. মোস্তফা আলম নান্নু, সাবেক এমপি কামরুন নাহার পুতুল, জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম আসাদুর রহমান দুলু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টি জামান নিকেতা, গাবতলী উপজেলা সভাপতি ও জেলা পরিষদ সদস্য এ এইচ আযম খান।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান মজনু বগুড়ায় নৌকার পালে হাওয়া লেগেছে উল্লেখ করে বলেন, ‘এলাকায় যাদের জনপ্রিয়তা রয়েছে, ত্যাগী নিবেদিত প্রাণ নেতারাই এবার মনোনয়ন পাবেন। এ জন্য নেত্রী হোমওয়ার্ক করছেন। এরই মধ্যে মাঠপর্যায়ে কয়েক দফা জরিপ পরিচালনা করেছেন তিনি। মজনু বলেন, বগুড়ার সব কটি আসনে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে নেতাকর্মীরা কাজ করছে। মনোনয়ন কে পাবেন তা নির্ধারণ করবেন দলীয়প্রধান।



মন্তব্য