kalerkantho


মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ আ. লীগের ৮ নেতার

অরণ্য ইমতিয়াজ, টাঙ্গাইল   

১২ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ আ. লীগের ৮ নেতার

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী সাত নেতা গত ৩ অক্টোবর এক অনুষ্ঠানে এক মঞ্চে হাজির হন। ছবি : কালের কণ্ঠ

টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য হলেন আমানুর রহমান খান রানা। তিনি টাঙ্গাইলের আওয়ামী লীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় প্রধান আসামি হয়ে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। এর পর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন আটজন।

মনোনয়নপ্রত্যাশী এই নেতারা দলের টিকিট নিয়ে নির্বাচন করার ইচ্ছায় প্রচার চালাচ্ছেন। সভা-সমাবেশ করছেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে দেখা করছেন, সমর্থন চাচ্ছেন এবং তাঁদের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথাও বলছেন। একই সঙ্গে দলীয় মনোনয়ন পেতে যোগাযোগ করছেন কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে।

সংসদ সদস্য রানার কারণে এ আসনটি টাঙ্গাইলের অন্য আসনগুলোর চেয়ে বিশেষভাবে আলোচিত। তিনি হত্যা মামলার আসামি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন পাবেন কি না? তিনি যদি মনোনয়ন না পান তাহলে কার হাতে তুলে দেওয়া হবে নৌকার হাল? এসব প্রশ্ন দলের সাধারণ নেতাকর্মী ও ভোটারদের।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সংসদ সদস্য রানা কয়েক বছর ধরে কারাগারে থাকলেও তাঁর অনুপস্থিতির সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি প্রতিপক্ষ ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম লেবুর নেতাকর্মীরা। রানার কর্মী, সমর্থক ও অনুসারীরা এখনো মাঠে রয়েছে। এর মধ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগের একাধিক কর্মসূচিতে পাল্টা কর্মসূচিও দিয়েছে তারা। অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এড়াতে সেখানে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে।

দলের নেতাকর্মীরা জানায়, ২০১২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ঘাটাইল আসনের সংসদ সদস্য ডা. মতিউর রহমান মারা যান। শূন্য আসনে উপনির্বাচন হয় ওই বছরের ১৮ নভেম্বর। ওই সময় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান আওয়ামী লীগ নেতা শহিদুল ইসলাম লেবু। ডা. মতিউর রহমান সংসদ সদস্য থাকাবস্থায় তাঁর (লেবুর) হাতেই নিয়ন্ত্রিত হতো সব কর্মকাণ্ড। নানা অভিযোগও ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। ফলে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি অংশ তাঁর দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। অন্যদিকে উপনির্বাচনের আগে ঘাটাইলের বিভিন্ন অঞ্চলে শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। তখন ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীর মধ্যে বিপুল পরিমাণ ঢেউটিন ও নগদ অর্থ বিতরণ করে আলোচনায় আসেন আমানুর রহমান খান রানা। তাঁর প্রতি আস্থা বাড়ে সাধারণ মানুষের। কিন্তু ঘাটাইলে নতুন হওয়ায় উপনির্বাচনে নৌকার টিকিট পাননি তিনি। আওয়ামী লীগের প্রার্থী শহিদুল ইসলাম লেবুর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন রানা। তারপর তিনি একে একে সব কিছু নিজের দখলে নিয়ে নেন। বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় দল থেকে তাঁকে বহিষ্কার করা হলেও নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর আবার তাঁকে দলে নেওয়া হয়। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে দলের টিকিট পান আমানুর রহমান খান রানা। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য হন তিনি।

এর আগে ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি রাতে গুলি করে হত্যা করা হয় আওয়ামী লীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদকে। সেই মামলায় রানা ও তাঁর তিন ভাই আসামি।

আমানুর রহমান খান রানা কারাগারে থাকলেও তিনি মনোনয়ন চাইবেন বলে তাঁর অনুসারীরা জানায়। ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম লেবু এবারও মনোনয়ন চাইবেন। মনোনয়নের প্রত্যাশায় আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন জাতীয় পার্টির সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য শিল্পপতি সৈয়দ আবু ইউসুফ আব্দুল্লাহ তুহিন। এ ছাড়া মনোনয়ন চান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মুক্তিযোদ্ধা ডা. কামরুল হাসান খান। এ তালিকায় আরো আছেন টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক এস আকবার খান, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শহিদুল ইসলাম, সোনালী ব্যাংক লিমিটেড পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক মুক্তিযোদ্ধা ড. মো. নূরুল আলম তালুকদার ও বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক পরিষদের সহসভাপতি অধ্যাপক অধীর চন্দ্র সরকার। বাবার আসন পেতে মাঠে নেমেছেন সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত ডা. মতিউর রহমানের ছেলে তানভীর রহমান। তিনিও অনেক দিন ধরে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। কেন্দ্রেও যোগাযোগ রাখছেন।

শহিদুল ইসলাম লেবু ছাড়া মনোনয়নপ্রত্যাশী অন্য সাতজন গত ৩ অক্টোবর একই মঞ্চে উঠে বক্তব্য দেন। ঘাটাইল বাসস্ট্যান্ড চত্বরে ‘বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে’ ঘাটাইল পৌর আওয়ামী লীগ এ সমাবেশের আয়োজন করে। পৌর মেয়র উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শহিদুজ্জামান খান এতে সভাপতিত্ব করেন।

শহিদুল ইসলাম লেবু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি ওয়ার্ড পর্যায়েও প্রচার চালাচ্ছি। পোস্টার-ব্যানার তো আছেই। দলের কেন্দ্রের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছি।’

এস আকবর খান বলেন, ‘এলাকায় নিয়মিত যাচ্ছি। দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছি।’



মন্তব্য