kalerkantho


উত্তরবঙ্গে ‘ট্রেনের’ পর এবার মহাসড়ক

আ. লীগের ‘নির্বাচনী প্রচারণা’ ঢাকা থেকে কক্সবাজারে

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



আ. লীগের ‘নির্বাচনী প্রচারণা’ ঢাকা থেকে কক্সবাজারে

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গের ‘নির্বাচনী ট্রেনের’ পর এবার ঢাকা থেকে মহাসড়কে প্রচারণা শুরু করছে আওয়ামী লীগ। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন প্রচার, দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালীকরণ, তৃণমূলে নেতাকর্মীদের দূরত্ব কমিয়ে আনা এবং দলীয় নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে দলের তৃণমূলে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচি সফল করতে দফায় দফায় বৈঠক করছেন নেতারা।

আগামীকাল শনিবার ঢাকার ধানমণ্ডি আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদল রওনা হবে। প্রায় সাড়ে চার শ কিলোমিটারের সড়কপথে যাত্রাকালে সড়ক ও মহাসড়কের আশপাশে বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় বেশ কয়েকটি পথসভা করবে আওয়ামী লীগ।

কেন্দ্রীয় নেতাদের এই সফরে নেতৃত্ব দেবেন দলের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি। এ ছাড়া প্রতিনিধিদলে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ এমপি, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এমপি, উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম ও ব্যারিস্টার মহীবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, উপদপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ রয়েছেন এ সফরে। এতে আরো কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা যোগ দিতে পারেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

গত ৮ সেপ্টেম্বর শনিবার সকালে ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে আন্ত নগর নীলসাগর ট্রেনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদল উত্তরবঙ্গের উদ্দেশে যাত্রা করে। ‘নির্বাচনী ট্রেন’ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন পথে নির্বাচন সামনে রেখে সাংগঠনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরে।

‘নির্বাচনী ট্রেনের’ পর এবার সরকারি দলের নেতাদের মহাসড়কে যাত্রা ঘিরে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, ফেনী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন স্থানে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে চাঙ্গা ভাব দেখা দিয়েছে। বিরাজ করছে উৎসাহ-উদ্দীপনা। অনেকে বলেছে, পথসভার নির্ধারিত স্থানের পাশাপাশি অনির্ধারিতভাবেও বিভিন্ন জায়গায় বেশ কিছু পথসভা হতে পারে। এর মধ্যে আবার কোনো কোনো পথসভা ব্যাপক লোকসমাগমের মাধ্যমে ‘নির্বাচনী জনসভায়’ রূপ নিতে পারে।

উত্তরবঙ্গ শেষে কক্সবাজারমুখী সাংগঠনিক সফরের পর নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করবে আওয়ামী লীগ। ট্রেনের পর সড়কপথ, এরপর নৌপথে দলের কর্মসূচি পালন করা হবে। তবে কেন্দ্রীয় নেতাদের এই সফরে কোনো সভায় কাউকে পরিচয় (মনোনয়নপ্রত্যাশী) করিয়ে দেওয়া হবে না। সভাগুলোতে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের শোডাউন হতে পারে। কেন্দ্রীয় নেতাদের দেখাতে কার চেয়ে কে বেশি লোকসমাগম করতে পারেন এর এক ধরনের প্রতিযোগিতা হবে। কেন্দ্রীয় নেতারা পথসভাগুলোতে স্থানীয় নেতাদের রেখেই প্রতিটি এলাকায় সাধারণ জনগণকে সম্পৃক্ত করতে চাচ্ছেন। এর মধ্য দিয়ে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড জনগণের কাছে তুলে ধরা হবে। ‘নির্বাচনী এই প্রচারণা’ পর্যায়ক্রমে সারা দেশে করা হবে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ১০টার দিকে ঢাকার ধানমণ্ডি আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে থেকে ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে মহাসড়কে যাত্রা শুরু হবে। ওই দিন পথসভা নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ, কুমিল্লার দাউদকান্দি, পদুয়া, চৌদ্দগ্রাম, ফেনী, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পথসভা হবে। ওই দিন রাতে চট্টগ্রাম নগরে অবস্থান করবে প্রতিনিধিদল। পরদিন রবিবার নগর থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনাকালে সকালে কর্ণফুলী থানা, ১১টায় লোহাগাড়ার চুনতি, দুপুরে সেখানে মধ্যাহ্নভোজের পর চকরিয়া বাসস্টেশন, ঈদগাহে পথসভা করে রাতে কক্সবাজারে অবস্থান নেবেন নেতারা। সোমবার সকালে নেতারা বিমানযোগে কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহীবুল হাসান চৌধুরী নওফেল গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে বলেন, ‘উত্তরবঙ্গের পর আমরা আগামী ২২ সেপ্টেম্বর (সোমবার) ঢাকা থেকে সড়কপথে কক্সবাজারের উদ্দেশে যাত্রা করব। আমাদের বার্তা থাকবে নির্বাচন সামনে রেখে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, উন্নয়ন প্রচার এবং যেসব আসনে একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছেন, সেখানে আমরা বলব নির্বাচনে দল থেকে যাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হবে সবাই যেন তাঁর পক্ষে কাজ করেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মেসেজ থাকবে স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে। নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য, উদ্দেশ্য।’

একই বিষয়ে উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন বলেন, ‘নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই আমাদের সাধারণ নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হচ্ছে। সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাদের আরো কিভাবে সক্রিয় রাখা যায় সেসব মাথায় রেখে আমরা সাংগঠনিক কাজ করে যাচ্ছি। আওয়ামী লীগ সরকারের অর্জনগুলো সাধারণ জনগণকে জানাতে হবে। বিএনপি-জামায়াত জোট দেশের জন্য ক্ষতিক্ষারক, তা-ও আমরা তুলে ধরব। এবার ঢাকা থেকে কক্সবাজারে যাওয়ার পথে আমরা যেসব জায়গায় পথসভার চিন্তা করেছি, আশা করি প্রতিটিতে ব্যাপক লোকসমাগম হবে। তবে যাতে মানুষের দুর্ভোগ না হয় সে বিষয়টি আমরা তদারকি করছি।’



মন্তব্য