kalerkantho


ধুনটে পরোয়ানাভুক্ত আসামি গণসংযোগে

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া   

১৫ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০



ধুনটে পরোয়ানাভুক্ত আসামি গণসংযোগে

বগুড়ার ধুনট উপজেলা নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানার হাতে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র জমা দিচ্ছেন ইকবাল হোসেন রিপন (ডান থেকে তৃতীয়); ডানে গত ৫ মার্চ রাজপথে মিছিলের নেতৃত্বেও তিনি। ছবি : কালের কণ্ঠ

বগুড়ার ধুনট উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইকবাল হোসেন রিপন। তিনি উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি। কলেজছাত্রী অপহরণ মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত প্রধান আসামি। তার পরও প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রকাশ্যে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ধুনট পৌর এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ীর মেয়ে বগুড়া সরকারি মজিবর রহমান মহিলা কলেজের ছাত্রী। তাকে মৃত গোলাম রহমানের ছেলে ইকবাল হোসেন রিপন দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। এ বিষয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিস বৈঠক হলেও উত্ত্যক্ত করা ছাড়েননি রিপন। এ অবস্থায় ২০১৮ সালের ৪ জুন রাত ৮টায় রিপনসহ সাত-আটজন ছাত্রীকে বাবার বাড়ি থেকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে নিয়ে যায়। মেয়ের বাবা রাতেই রিপনকে প্রধান আসামি করে চারজন এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো সাত-আটজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। এরপর পুলিশ তাত্ক্ষণিক অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত আসামি জামাল উদ্দিন ও ইউসুফ আলীকে গ্রেপ্তার করে। অপহরণের ৯ ঘণ্টা পর ভোর ৫টার দিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই খোকনের বাড়ির পাশ থেকে ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তৎকালীন ধুনট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) খোকন কুমার কুণ্ডু মামলাটি তদন্ত শেষে রিপনসহ চার আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। এ মামলার অন্য আসামিরা জামিনে মুক্ত রয়েছে। প্রধান আসামি রিপন অদ্যাবধি আদালত থেকে জামিন নেননি। অপহরণ ঘটনার পর থেকে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

এদিক আগামী ১৮ মার্চ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে রিপন ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁর নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকার পরও সমর্থকদের নিয়ে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এ ছাড়া নির্বাচনী শোডাউনসহ বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ করছেন। উপজেলার সর্বত্র তাঁর ছবিসংবলিত পোস্টারে ছেয়ে গেছে।

এ বিষয়ে ইকবাল হোসেন রিপন বলেন, ‘সময়ের অভাবে জামিন নিতে পারিনি। নির্বাচন শেষ হলে জামিন নিয়ে নেব।’

মেয়ের বাবা বলেন, ‘আসামি প্রভাবশালী এবং সন্ত্রাসী প্রকৃতির। পুলিশকে আমি বারবার বলেছি, সে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, নির্বাচন করছে। কিন্তু পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। উল্টো আসামি আমাকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।’

ধুনট থানার পরিদর্শক ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘রিপন একটি অপহরণ মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি, এটা ঠিক। তবে সে মামলায় জামিনে আছে কি না সেটি আমার জানা নেই। থানার ওয়ারেন্ট আছে কি না সেটিও আমি জানি না।’

ধুনট উপজেলা নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা বলেন, ‘পলাতক আসামি কি না সে তথ্য আমার জানা নেই। বিষয়টি থানা পুলিশ ভালো বলতে পারবে। তবে এ ব্যাপারে খোঁজ নেওয়া হবে।’

 



মন্তব্য