kalerkantho

লক্ষ্মীপুর

বিদ্রোহীদের কারণে উদ্বিগ্ন নৌকার প্রার্থীরা

কাজল কায়েস, লক্ষ্মীপুর   

৫ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুরে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীরা বিদ্রোহীদের নিয়ে উদ্বিগ্ন রয়েছেন। জেলার পাঁচটির মধ্যে চার উপজেলায়ই দলের শক্ত বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। এ নিয়ে দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা পছন্দের নেতার অনুসারী হয়ে প্রকাশ্যে বিবাদে জড়িয়ে পড়ছে। এদিকে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীরা একে-অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও চলছে নিজেদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি। অন্যদিকে সম্প্রতি দলের সিনিয়র নেতারা সভা ডেকে বিদ্রোহী প্রার্থীদের সতর্ক করেছেন। নির্বাচন থেকে বিরত না থাকলে বিদ্রোহীদের বহিষ্কার করার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। এর পরও বিদ্রোহীরা অনড়।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লক্ষ্মীপুর সদরে আবুল কাশেম চৌধুরীকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তিনি সদর উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও উত্তর জয়পুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। দলের মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে এখানে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম সালাহ উদ্দিন টিপু। তিনি জেলা যুবলীগের সভাপতি ও লক্ষ্মীপুর পৌরসভার মেয়র আবু তাহেরের মেজো ছেলে। এ ছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক মহি উদ্দিন বকুল, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান ও বিএনপি নেতা ওয়াহিদুর রহমানও প্রার্থী হয়েছেন।

দলীয় সূত্র জানায়, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ গত বুধবার বর্ধিত সভার আয়োজন করে। এতে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু ও সাধারণ সম্পাদক নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়নসহ সিনিয়র নেতারা দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে তাঁদের বহিষ্কারের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

রায়পুরে উপজেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুনুর রশিদকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। সেখানে বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন হাওলাদার মনোনয়নপত্র দাখিল করেই আটঘাট বেঁধে মাঠে নেমেছেন। তিনি উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা কমিটির সদস্য। আলতাফ হাওলাদের অনুসারীরা মামুনুর রশিদকে বিতর্কিত প্রার্থী আখ্যায়িত করে তাঁর মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানায়। এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার মামুনুর রশিদের অনুসারীরা আলাদা দুটি সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিবাদ জানায়। রামগঞ্জে উপজেলা কমিটির সহসভাপতি মনির চৌধুরীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তবে উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আ ক ম রুহুল আমিন নির্বাচনী মাঠে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। তিনি বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। কমলনগরে ২৩ ফেব্রুয়ারি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম নুরুল আমিনকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়। ২৫ ফেব্রুয়ারি হঠাৎ উপজেলা আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক রেবেকা বেগমকেও মনোনয়নের আরেকটি চিঠি দেওয়া হয়। এ নিয়ে নেতাকর্মী ও সমর্থকরা বিভ্রান্তিতে পড়ে।

লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু বলেন, ‘আমরা বিদ্রোহী প্রার্থীদের সতর্ক করে দিয়েছি।’

মন্তব্য