kalerkantho


তৃণমূলে ভোটে জিতেও দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত

সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



তৃণমূলে ভোটে জিতেও দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত

নওগাঁর সাপাহার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে ভোটাভুটির আয়োজন করেছিল আওয়ামী লীগ। নিয়মানুযায়ী যিনি ভোট বেশি পাবেন, তাঁকেই প্রার্থী করার কথা। কিন্তু এই রীতি মানা হয়নি। রহস্যজনকভাবে ভোটাভুটির ফলাফল কেন্দ্রে পাঠানো হয়নি। এদিকে ভোটে পরাজিতকে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে কেন্দ্র।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাপাহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হতে চান আওয়ামী লীগের দুই শীর্ষ নেতা। তাঁরা হচ্ছেন উপজেলা সভাপতি শামসুল আলম শাহ চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান হোসেন। আগের দুই নির্বাচনেও তাঁরা প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন।

এবার নির্বাচনের ডামাডোল শুরু হলে নেতাকর্মীদের মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়। পূর্ব ঘোষণা মতে, শাহজাহান চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা। কিন্তু চেয়ারম্যান শামসুল আবারও নির্বাচন করার ঘোষণা দেন। এ নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে কোন্দল দানা বাঁধে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১ ফেব্রুয়ারি জেলা সদরে দলীয় কার্যালয়ে নির্বাচনী সভায় প্রার্থী বাছাইয়ে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী বাবু সাধন চন্দ্র মজুমদার। গোপন ব্যালট গণনা করে দেখা যায় শাহজাহান পেয়েছেন ৮০ ভোট আর শামসুল ৭৯ ভোট।

দলীয় সূত্র জানায়, শাহজাহান তৃণমুল নেতাকর্মীদের ভোটে প্রার্থী মনোনীত হলেও পরবর্তী সময়ে খাদ্যমন্ত্রীর নির্দেশে উপজেলা থেকে তিনজন সম্ভাব্য প্রার্থীর নামের তালিকা ঢাকায় পাঠানো হয়। গত ৯ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্র থেকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয় শামসুলকে। এদিকে শাহজাহান প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন।

এ বিষয়ে শাহজাহান হোসেন জানান, ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে তাঁরা দুজন নির্বাচনী মাঠে বিএনপির প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন। ভোটের আগমুহূর্তে শর্ত সাপেক্ষে শামসুলকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দিলে সে ভোটে বিএনপির প্রার্থী জয়ী হন। এরপর ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনে আবারও তাঁরা দুজন প্রার্থী হন। কেন্দ্র থেকে পরের নির্বাচনে শামসুলকে প্রার্থী মনোনীত করা হলে তিনি জয়লাভ করেন।

শাহজাহান বলেন, ‘দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক এবারের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার কথা আমার। শেষ পর্যন্ত আমাকে তৃণমুল নেতাকর্মীদের ভোটের মুখোমুখি হতে হয়। সে ভোটেও আমি প্রার্থী হিসেবে জয়ী হই। অথচ কৌশলে আমাকে সরিয়ে পুনরায় শামসুলকে প্রার্থী মনোনীত করা হয়েছে। এ জন্য প্রথমে আমি দলের কাছে একটি আপিল করব। সুষ্ঠু সমাধান না পেলে আমিও নির্বাচনে অংশ নেব।’

শামসুল আলম বলেন, ‘দল যদি শাহজাহানকে মনোনয়ন দেয়, তা আমি মেনে নেব।’

 



মন্তব্য