kalerkantho


চলে গেলেন আলমগীর কুমকুম

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১২ ০০:০০



চলে গেলেন আলমগীর কুমকুম

মুক্তিযোদ্ধা ও চলচ্চিত্রকার আলমগীর কুমকুম আর নেই। দীর্ঘদিন রোগে ভুগে গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তিনি রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি...রাজিউন)। আলমগীর কুমকুম দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস ও কিডনিসহ নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়, গুণগ্রাহী, শুভানুধ্যায়ী ও সহকর্মী রেখে গেছেন। আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আলমগীর কুমকুমের লাশ রাখা হবে। পরে বনানী কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর লাশ দাফন করা হবে। চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক, পরিবেশক আলমগীর কুমকুম ছিলেন বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। মৃত্যুর পর প্রথমে লাশ রামপুরায় তাঁর বাসায় নেওয়া হয়। তাঁর মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে পরিচিতজনদের মধ্যে এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। অনেকেই তাঁর রামপুরার বাসভবনে ছুটে যান শেষ শ্রদ্ধা জানাতে। পরে মরহুমের প্রথম জানাজা বাদ আসর রামপুরা মসজিদে, দ্বিতীয় জানাজা বিটিভি ভবন প্রাঙ্গণে, তৃতীয় জানাজা এফডিসিতে এবং সন্ধ্যা ৬টায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় প্রাঙ্গণে শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরে বারডেম হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হয় লাশ। এফডিসিতে জানাজায় তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (মিডিয়া) মাহবুবুল হক শাকিল, চিত্রনায়ক আলমগীর, ফারুক, উজ্জলসহ চলচ্চিত্র অঙ্গনের অনেকে উপস্থিত ছিলেন। বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে জানাজায় অংশ নেন আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন আমু, মাহবুব-উল-আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামসহ অনেকে। আলমগীর কুমকুম ৪০টি চলচ্চিত্র পরিচালনা করেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে 'ধীরে বহে মেঘনা', 'আমার জন্মভূমি', 'গুণ্ডা', 'সোনার চেয়ে দামি', 'জীবন চাবি', 'কাবিন', 'রাজবন্দি', 'অমর সঙ্গী'। চলচ্চিত্র নির্মাণের পাশাপাশি পাকিস্তান আমল থেকে তিনি সাংস্কৃতিক আন্দোলনেও বিশেষ ভূমিকা রাখেন। একসময় তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংস্কৃতিক সম্পাদক ছিলেন। ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন এবং ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন আলমগীর কুমকুম। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু হত্যার পর সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তিনিই ১৯৮০ সাল থেকে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের মাধ্যমে এ দেশের বুদ্ধিজীবী, শিল্পী, সাহিত্যিকদের ঐক্যবদ্ধ করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার এবং জাতীয় চার নেতা হত্যার বিচারের দাবিতে আন্দোলন গড়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এক-এগারোর পর শেখ হাসিনা গ্রেপ্তার হলে তাঁর মুক্তির আন্দোলনেও তিনি ভূমিকা পালন করেন। মুক্তিযোদ্ধা আলমগীর কুমকুমের মৃত্যুতে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর শোকবার্তায় মহান মুক্তিযুদ্ধসহ সব গণতান্ত্রিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে আলমগীর কুমকুমের অবদান শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে বলেন, সংস্কৃতির অগ্রযাত্রায় তাঁর অবদান জাতি চিরকাল স্মরণ করবে। শেখ হাসিনা মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। এ ছাড়াও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিবেশক সমিতি, গণফোরাম, যুব গণফোরাম, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করা হয়েছে।


মন্তব্য