kalerkantho


হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

মাসুদ রুমী   

২০ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

শাহজালালে তৃতীয় টার্মিনালের নকশা

দেশের বিমানবন্দরগুলোর কয়েকটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধেরও সাক্ষী। সময়ের প্রয়োজনে দীর্ঘ হয়েছে রানওয়ে, যুক্ত হয়েছে নানা সুযোগ-সুবিধা। দেশের চার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্মাণের পেছনের গল্প, বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আজকের নির্মাণ  

বর্তমান ভবনটি দেখতে অনেকটা কমলাপুর রেলস্টেশনের মতো। ভেতরের পিলারগুলোও সেই ধাঁচের। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ভবনের এই নকশা করেছিলেন ফরাসি স্থপতি লারোস। এই ভবনের মূল নকশায় বড় কোনো পরিবর্তন আনা না হলেও বিমানবন্দরটিতে আসছে বড় ধরনের পরিবর্তন। যুক্ত হচ্ছে একটি করে রানওয়ে ও টার্মিনাল। তৃতীয় টার্মিনালে থাকবে আধুনিক বিমানবন্দরের নানা সুযোগ-সুবিধা।

সিভিল অ্যাভিয়েশনের প্রধান প্রকৌশলী সুধেন্দু বিকাশ গোস্বামী বলেন, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে বিমানবন্দর উন্নয়নের প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ চলছে। খিলক্ষেতে নিকুঞ্জের লা ম্যারিডিয়ান হোটেলের সামনের রাস্তা থেকে টার্মিনাল পর্যন্ত ওভারব্রিজ করা হবে। আন্ডারগ্রাউন্ড ও মেট্রো রেলের রাস্তা দিয়ে যাত্রী ও দর্শনার্থীদের আসা-যাওয়ার ব্যবস্থাও থাকবে। থার্ড টার্মিনালের বোর্ডিং ব্রিজের সঙ্গে থাকবে ১৫টি আগমনী বেল্ট। পর্যাপ্তসংখ্যক এসকেলেটর, সাবস্টেশন ও লিফট, রাডার, কন্ট্রোল টাওয়ার, অপারেশন ভবনসহ বহুতল গাড়ি পার্কিং থাকবে। তিনতলা টার্মিনাল ভবনটির স্থাপত্যে রাখা হবে নান্দনিকতার ছোঁয়া।

২০১৭ সালের ১১ জুন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণকাজ প্রকল্পের জন্য জাপানের নিপ্পন কায়ো, ওরিয়েন্টাল কনসালট্যান্ট গ্লোবাল, সিঙ্গাপুরের সিপিজি কনসালট্যান্ট ও বাংলাদেশের ডিজাইন কনসালট্যান্টস লিমিটেডকে যৌথভাবে পরামর্শক নিয়োগ দেয় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। তৃতীয় টার্মিনালের ডিজাইন রিভিউ, মূল নির্মাণকাজের দরপত্রের খসড়া এবং নির্মাণকাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত তদারকিও করবে তারা। ২০১৯ সালের মাঝামাঝি মূল কাজ শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে। শেষ হওয়ার কথা রয়েছে ২০২২ সালে।

শাহজালালে তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণের জন্য বর্তমান কার্গো ভিলেজ, ভিভিআইপি কমপ্লেক্স, হ্যাঙ্গার, পদ্মা অয়েল ডিপো স্থানান্তর করতে হবে। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে দীর্ঘ মেয়াদে লিজ দেওয়া জায়গার ভবনগুলোও অপসারণ করতে হবে। তৃতীয় টার্মিনাল ভবনের আয়তন হবে দুই লাখ ২৬ হাজার বর্গমিটার। আর নতুন কার্গো ভিলেজের আয়তন হবে ৪১ হাজার ২০০ বর্গমিটার। ভিভিআইপি কমপ্লেক্স জায়গা নেবে পাঁচ হাজার ৯০০ বর্গমিটার। তৃতীয় টার্মিনাল ভবনের সঙ্গে মূল এয়ারপোর্টের সংযোগ সড়ক তৈরি করা হবে।

কালের সাক্ষী

দেশের বৃহত্তম বিমানবন্দরটির শুরুটা সেই ইংরেজ আমলে, ১৯৪১ সালে। তখন চলছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। ব্রিটিশ সরকার তেজগাঁও থেকে কয়েক কিলোমিটার উত্তরে কুর্মিটোলায় মূলত যুদ্ধবিমান ওঠানামার জন্য একটি রানওয়ে নির্মাণ করে। পরে ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান গঠনের পর এই রানওয়েকে ধরেই প্রতিষ্ঠা পায় পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম বিমানবন্দর। সম্প্রসারণের প্রয়োজন পড়লে ১৯৬৬ সালে কুর্মিটোলার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নতুন বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। নির্মাণসামগ্রী পরিবহনের জন্য তৈরি হয় রেলস্টেশনও (বর্তমান এয়ারপোর্ট রেলওয়ে স্টেশন)। বিমানবন্দরটির কাজ অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। যুদ্ধে নির্মাণাধীন বিমানবন্দরটির অনেক কিছুই ধ্বংস হয়।

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ সরকার পরিত্যক্ত কাজ আবার শুরু করে। মূল রানওয়ে চালুর মাধ্যমে ১৯৮০ সালে এয়ারপোর্টটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। দুই দফা বদলে ২০১০ সালে এর নামকরণ হয় ‘হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’।



মন্তব্য