kalerkantho


সুপরিচিত নয় এমন তিনটি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন নিয়ে সাজানো হয়েছে আজকের নির্মাণ

অভয়নগরের একাদশ মন্দির

ফখরে আলম, যশোর   

১৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



অভয়নগরের একাদশ মন্দির

জেজেআই মিলঘাটে নৌকায় ভৈরব নদ পার হয়ে ডাঙায় উঠলেই অভয়নগর গ্রাম। বিধবা রাজকন্যা অভয়ার নামে অভয়নগরের নামকরণ হয়। এই গ্রামের নামেই যশোরের অভয়নগর উপজেলা। নৌকা থেকে নেমে হেঁটে ইটের সলিং রাস্তা ধরে পশ্চিমে ১৫০ গজ এগোলেই ঐতিহ্যবাহী একাদশ মন্দির। চারদিকে জঙ্গল আর পানের বরজ। অনেক জায়গাজুড়ে মন্দিরগুলো দাঁড়িয়ে আছে। পূর্ব ও পশ্চিম সারিতে চারটি করে আটটি আর সদর দরজার দুই পাশে দুটি মন্দির। সবচেয়ে বড়টি উত্তর পাশে। এই ১১টি মন্দির মিলিয়েই ‘একাদশ মন্দির’।

বড় মন্দিরটির বাইরের মাপ ২৪ ফুট ৪ ইঞ্চি বাই ২২ ফুট ৩ ইঞ্চি। ভিত্তি ৩ ফুট ৪ ইঞ্চি। সামনের তিনটি খিলানের পেছনে একটি ৪ ফুট বাই ৭ ইঞ্চি খোলা বারান্দা। এই মন্দিরের ভেতরে গর্ভমন্দির ও দুই পাশে ৩ ফুট ১০ ইঞ্চি মাপের বারান্দা রয়েছে। মন্দিরের ভেতরে বেশ বড় একটি শিবলিঙ্গ আছে। এই লিঙ্গটির পাশে কয়েকটি শিবলিঙ্গের ভগ্নাংশ রয়েছে।

একসময় এখানে অনেক বড় একটি শিবলিঙ্গ ছিল। এগুলো তারই ভগ্নাংশ। প্রতিদিন সকালে এলাকার হিন্দু ধর্মের মানুষ ফুল, দুধ, কলা নিয়ে এসে এখানে পূজা করে। মন্দিরের চারদিকে প্রাচীর ছিল। তার আলামত পাওয়া যায়। এই প্রাচীরের বাইরে রাজা নীলকণ্ঠ রায়ের বাড়ি ছিল। তারও প্রমাণ মেলে। এই বাড়ির ইটের টুকরো এখনো দেখা যায়।

বর্গির আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য চাঁচড়ার রাজা নীলকণ্ঠ রায় (১৭৪৫-৬৪) বাগুটিয়া গ্রামের হরিরাম মিত্রকে ভৈরব নদের তীরে দুটি গড়বেষ্টিত রাজবাটি নির্মাণের নির্দেশ দেন। হরিরাম সেই নির্দেশমতো নীলকণ্ঠের আশ্রয়স্থল রাজবাটি নির্মাণের পাশাপাশি এই একাদশ মন্দিরটিও নির্মাণ করেন। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ মন্দিরটি অধিগ্রহণ করেছে। 

ছোট আকৃতির নানা ধরনের ইট দিয়ে মন্দিরটি নির্মাণ করা হয়েছে। গাঁথুনি ধরে রাখার জন্য চুনে ব্যবহার করা হয়েছে সুরকি। প্রতিটি মন্দিরের প্রবেশ দুয়ারে টেরাকোটাসদৃশ কারুকাজ রয়েছে। কিছু কিছু ইটের ফুলও দেখা যায়। মন্দিরের চূড়াগুলো খুবই নিপুণভাবে নির্মিত। লোহা ব্যবহার করা না হলেও মজবুত গাঁথুনি চূড়াকে ধরে রেখেছে।

মন্দিরগুলো খুবই দৃঢ়। বড় মন্দিরটি সবচেয়ে আকর্ষণীয়। কথিত আছে, এখানকার একাদশটি শিবলিঙ্গের প্রতেকের নামে এক হাজার ২০০ বিঘা জমি নিষ্কর দেওয়া হয়। প্রতিদিন দেব সেবায় যে খাবার বাড়তি থাকত তা ভাগ করে গ্রামে বসবাসরত ব্রাহ্মণদের বাড়িতে পাঠানো হতো। এখন আর সে প্রথা নেই।

 

 



মন্তব্য