kalerkantho


চির-উন্নত মম শির

মুহম্মদ খান   

১১ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



চির-উন্নত মম শির

এফ আর খান

যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় বৃহত্তম শহর শিকাগোর সর্বোচ্চ ভবনের নাম উইলিস টাওয়ার। পূর্ব নাম ছিল সিয়ারস টাওয়ার।

১১০ তলা এই ভবন দেশটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ হলেও ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত ছিল পৃথিবীর সর্বোচ্চ। উইলিস টাওয়ারের স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন বাংলাদেশের সন্তান ফজলুর রহমান খান। এফ আর খান নামে বহুল পরিচিত তিনি। উইলিস ভবন থেকে বের হওয়ার পথেই রয়েছে তাঁর ছবিখচিত স্মৃতিফলক।

ফজলুর খান জন্মেছিলেন বাংলাদেশে, ১৯২৯ সালে। ১৯৫২ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য যান শিকাগো শহরে। ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় থেকে ‘আরবান ক্যাম্পেইন’ বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষা নেন। পরে পিএইচডি করেন স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ওপর। ১৯৫৫ সালে স্থানীয় একটি স্থাপত্য প্রতিষ্ঠানে যোগ দেন।

তবে বছরখানেক কাজ করেই ফিরে আসেন দেশের টানে। প্রায় চার বছর দেশে থাকলেও মনমতো কাজের সুযোগ পাচ্ছিলেন না। তাই ফিরে যান শিকাগোতে।

তখন শিকাগো শহরে দ্রুত বাড়ছিল ব্যবসায়িক ক্ষেত্র। সঙ্গে বাড়ছিল জনসংখ্যাও। কার্যালয় আর বাসস্থানের সংকুলান করতে গিয়ে শহরের শূন্যস্থানগুলো পূরণ হয়ে যাচ্ছিল ভবনে। উচ্চতর স্থাপত্যবিদ্যা না থাকায় বেশির ভাগ ভবনের সীমা ছিল সর্বোচ্চ ৩০ তলা পর্যন্ত। তবে সমস্যায় পড়ল যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী গ্রুপ ‘সিয়ারস অ্যান্ড কম্পানি’। তাদের কর্মীদের জন্য ৩০ তলা ভবন যথেষ্ট ছিল না। তারা চাইল একটি বহুতল ভবন করতে। ফজলুর রহমান খানের শরণাপন্ন হলেন তাঁরা।

তত দিনে তিনি গতানুগতিক পদ্ধতির বাইরে গিয়ে আকাশচুম্বী ভবন বানানোর পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন। নাম দিয়েছেন ‘টিউব স্ট্রাকচারাল সিস্টেম’। ১৯৬০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত আকাশচুম্বী সুউচ্চ ভবনগুলো টিউব স্ট্রাকচারাল সিস্টেমকে অনুসরণ করেই বানানো।

একই পদ্ধতিতে তিনি সিয়ারস অ্যান্ড কম্পানির চাহিদামতো ১১০ তলা উঁচু সিয়ারস টাওয়ারের নকশা তৈরি করেন। ১০১ একর জমির ওপর তিন বছর এক মাস ১০ দিনে সেই ভবনটি দাঁড়িয়ে যায় মাথা উঁচু করে।

উইলিস টাওয়ারের কাছেই শততলা হ্যানকক সেন্টার। এটিরও প্রধান কারিগর এফ আর খান। তিনি ছিলেন পৃথিবীর গগনস্পর্শী স্থাপনাশিল্পের পথিকৃৎ। তাঁর সৃষ্টির সম্মুখে দাঁড়িয়ে রোমাঞ্চিত হতে হয়।

 

ফজলুর রহমান খানের উল্লেখযোগ্য কাজ

* ব্রানসউইক ভবন, শিকাগো (৩৭ তলা )। কাজ শেষ ১৯৬৪ সালে।

* চেস্টনাট ডি-উইট প্লাজা, শিকাগো (৪৩ তলা)। কাজ শেষ ১৯৬৬ সালে।

* জন হ্যানকক, শিকাগো (১০০ তলা)। কাজ শেষ ১৯৬৯ সালে।

* ওয়ান সেল প্লাজা, হাউস্টন (৫২ তলা)। কাজ শেষ ১৯৭১ সালে।

* সিয়ারস টাওয়ার, শিকাগো (১১০ তলা)। কাজ শেষ ১৯৭৩ সালে।

* কিং আবদুল আজিজ ইউনিভার্সিটি, জেদ্দা। কাজ শেষ ১৯৭৮ সালে।

* ওয়ান ম্যাগনিফিশেন্ট মাইল, শিকাগো (৫৭ তলা)। কাজ শেষ ১৯৭৮ সালে।

* ইউএস ব্যাংক সেন্টার (৪২ তলা)। কাজ শেষ ১৯৮০ সালে।

* হজ টার্মিনাল, জেদ্দা কিং আবদুল আজিজ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট। কাজ শেষ ১৯৮০ সালে।

* অনটারি সেন্টার, শিকাগো (৬০ তলা)। কাজ শেষ ১৯৮৬ সালে।


মন্তব্য