kalerkantho


যেন ছুঁতে চায় আকাশটাকে

উচ্চতার দিক থেকে বিশ্বের সেরা ভবনগুলো মেঘ ফুঁড়ে ওপরে উঁকি দিলেও ঢাকার ভবনগুলো সে তুলনায় অনেক খাটো। এর মধ্যেও কোনো কোনোটি যেন ছুঁতে চেয়েছে আকাশটাকে। এমন কয়েকটি ভবন নিয়েই লিখেছেন ইমরান হোসেন মিলন

১১ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



যেন ছুঁতে চায় আকাশটাকে

সবচেয়ে উঁচুতে সিটি সেন্টারের মাথা। ছবি : মঞ্জুরুল করিম

সবচেয়ে উঁচুতে সিটি সেন্টার

রাজধানীর আকাশচুম্বী ভবনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উঁচুতে সিটি সেন্টারের মাথা। ঢাকা মহানগরের বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র মতিঝিলে এর ঠিকানা।

বর্তমানে এটিই দেশের সর্বোচ্চ ভবন।

‘ছোঁবেন নাকি আকাশটাকে’ স্লোগান নিয়ে তৈরি ৩৭ তলা মূল ভবনটির উচ্চতা ১৭১ মিটার বা ৫৬১ ফুট। সব মিলে ভেতরে জায়গা চার লাখ ৮২ হাজার ৪১৩ বর্গফুট।

এর নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০০৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর। শেষ হতে সময় লাগে প্রায় আট বছর। ২০১৩ সালের এপ্রিলে সবার জন্য এর দরজা খোলা হয়। এর নকশা এবং নির্মাণকাজ করেছে ওরিয়ন গ্রুপ। ভবনটিতে রয়েছে নানা মাত্রিক সুবিধা। মতিঝিলের অন্যতম সমস্যা পার্কিং।

এ সমস্যার কথা মাথায় রেখে ভবনটির ১০টি ফ্লোরে পার্কিংয়ের জায়গা রাখা হয়। ভূমিকম্প প্রতিরোধক ভবনটিতে অগ্নিনির্বাপণে আধুনিক সরঞ্জামের ব্যবস্থা রাখা আছে। ভবনটি বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য নির্মিত। তবে জনসাধারণের প্রবেশে বাধা নেই। বেশ কয়েকটি খাবারের দোকান রয়েছে। যে কেউ চাইলে খেতে পারেন এখানে। দৃষ্টিনন্দন কাচের বহির্দেয়ালের ভবনটিতে হেলিকপ্টার নামারও ব্যবস্থা আছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ভবন

ঢাকার দ্বিতীয় আকাশচুম্বী ভবন হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক ভবন। এই ভবনটিও মতিঝিলে। পুরনো বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনের পাশেই তৈরি করা হয়েছে ভবনটি। উচ্চতা ১০১ মিটার বা ৩৩১ ফুট। ১৯৯৯ সালে নির্মিত ৩১ তলা ভবনটি ২০১২ সাল পর্যন্ত দেশের সর্বোচ্চ ভবনের মর্যাদায় ছিল। ভবনটির নকশা ও উন্নয়নকাজ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক নিজেই।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ভবন

রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যালয় এই সুউচ্চ ভবনটির উচ্চতা ১০০ মিটার বা ৩২৮ ফুট। এটি ২৩ তলাবিশিষ্ট।

ডরিন টাওয়ার, ঢাকা

৯১ মিটার বা ৩০০ ফুট উচ্চতা নিয়ে রাজধানীর ডরিন টাওয়ার সুউচ্চ ভবনের তালিকায় পঞ্চম স্থানে রয়েছে।

২৫ তলাবিশিষ্ট ভবনটি রাজধানীর গুলশান-২-এ অবস্থিত। বাণিজ্যিক ভবনটি ১৯৯৮ সালে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পেলেও নির্মাণে সময় লাগে প্রায় ১৫ বছর। ২০১৩ সালে চালু বাণিজ্যিক ভবনটিতে এখন চারতারা মানের একটি হোটেল রয়েছে। ডরিন টাওয়ারে পার্কিং, ফায়ার সেফটি লিফটসহ নানা ধরনের নিরাপত্তা সুবিধা আছে।

সেনা কল্যাণ ভবন

২১ তলা বাণিজ্যিক ভবনটি মতিঝিল শাপলা চত্বরের কাছেই। ১.৩৫ বিঘা জমির ওপর ভবনটি নির্মিত। নির্মাণের আগে এখানে সশস্ত্র বাহিনীর অবসর নেওয়া সদস্যদের বিশ্রামকেন্দ্র ছিল। পরে ১৯৮২ সালে ভবন তৈরির কাজ শুরু হয়। কেন্দ্রীয়ভাবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ভবনটিতে মোট জায়গা তিন লাখ ২১ হাজার বর্গফুট।

বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক ভবন

দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংকের সদর দপ্তর এটি। ঢাকার সর্বোচ্চ ভবন ছিল দীর্ঘদিন। দেশের প্রথম জাতীয় স্টেডিয়াম লাগোয়া হওয়ায় ২২ তলা ভবনটি সুপরিচিত। এর উচ্চতা ৭১ মিটার বা ২৩৩ ফুট।


মন্তব্য