kalerkantho

মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী

সৈয়দ আবুল মকসুদ
লেখক ও বুদ্ধিজীবী

১১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী

মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর জন্ম কাকতালীয়ভাবে উপমহাদেশের প্রথম রাজনৈতিক দল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠার বছর ১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দে। সময়টি একদিকে পরাক্রান্ত ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের স্বর্ণকাল, অন্যদিকে তখন উপমহাদেশে জাতীয়তাবাদী চেতনার বিকাশ ঘটছিল সাবলীলভাবে। তখন রাজনৈতিক নেতাদের প্রায় সবাই ছিলেন উচ্চশিক্ষিত, অভিজাত ও সামন্ত পরিবারের মানুষ। কেউ বড় জমিদার, শিল্পপতি-ব্যবসায়ী, উকিল-ব্যারিস্টার প্রভৃতি। ভাসানী ব্যতিক্রম। তাঁর জন্ম সিরাজগঞ্জের এক গ্রামীণ মধ্যবিত্ত পরিবারে। তাঁর বাবা হাজি শরাফত আলীর ছিল বিঘা দশেক ফসলি জমি এবং সিরাজগঞ্জ শহরে একটি ছোট দোকান। ১০-১২ বছর বয়সে তিনি মা ও বাবাকে হারান। এক মহামারিতে তাঁর ভাই ও বোনও মারা যান। মা-বাবা, ভাই-বোন হারানোর মধ্য দিয়ে আবদুল হামিদ পারিবারিক বন্ধন থেকে মুক্ত হন।

প্রাতিষ্ঠানিক বিদ্যা অর্জন তাঁর অল্পই। সিরাজগঞ্জ শহরের উপকণ্ঠে ধানগড়া গ্রামের মক্তবে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন। সেকালের রীতি অনুযায়ী বাংলা ছাড়াও আরবি, ফারসি ও ইংরেজি ভাষাও কিছুটা শিখেছিলেন। কিন্তু মা-বাবাকে হারিয়ে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়ালেখার সুযোগ পাননি তিনি।

এর মধ্যে শতাব্দীর শেষ দশকে বাংলায় দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। আবদুল হামিদ দেখতে পান, মানুষ না খেয়ে মরছে অথবা তাঁর ভাষায় ‘কচু-ঘেঁচু’ খেয়ে বেঁচে আছে। তিনি আরো দেখতে পান, ওই সময়ই জমিদাররা নিষ্ঠুরভাবে প্রজাদের কাছ থেকে খাজনা আদায় করছেন। খাজনা না দিলে করা হতো পাশবিক অত্যাচার। বাধ্য হয়ে রায়তরা বাড়িঘর বন্ধক দিয়ে চক্রবৃদ্ধি হারে উচ্চ সুদে মহাজনদের কাছ থেকে ঋণ নিত। সেই ঋণ পরিশোধ করতে না পারায় অনেকে জমিজমা-বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পথে বসত। আবদুল হামিদ ওই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন। তিনি তখন সদ্য যুবক। জমিদার-মহাজনদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে তিনি গ্রামের মানুষদের উদ্বুদ্ধ করতে থাকেন।

পারিবারিক বন্ধনমুক্ত আবদুল হামিদ কুড়ি শতকের প্রথম দশকে টাঙ্গাইলে আসেন। একটি গ্রাম্য মক্তবে কিছুদিন শিক্ষকতা করেন। বিভিন্ন গ্রামে ওয়াজ-নসিহতও করেন। ওই সময় টাঙ্গাইল এসেছিলেন আসাম থেকে পীর নাসিরউদ্দিন বোগদাদি নামে একজন আধ্যাত্মিক সাধক। তিনি আবদুল হামিদের মধ্যে প্রতিভার পরিচয় পেয়ে তাঁকে আসামের জলেশ্বরী নিয়ে যান। নাসিরউদ্দিন বোগদাদিই তাঁকে পাঠান দেওবন্দে কোরআন-হাদিস সম্পর্কে শিক্ষা গ্রহণের জন্য। দেওবন্দ তখন জাতীয়তাবাদী আলেমদের প্রধান কেন্দ্র। আবদুল হামিদ বছর দুই সেখানে থেকে ইসলামী শিক্ষার চেয়ে দীক্ষিত হন সাম্রাজ্যবাদবিরোধী চেতনায়। সামন্তবাদ-মহাজনি প্রথার বিরোধী ছিলেন কৈশোর থেকেই, তার সঙ্গে যোগ হয় সাম্রাজ্যবাদবিরোধী চেতনা।

১৯০৫ সালে বাংলা ভাগ করে পূর্ববঙ্গ ও আসাম নামে নতুন প্রদেশ গঠিত হলে তার পক্ষে-বিপক্ষে স্যার সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে মুসলমান নেতারা এবং কংগ্রেসের নেতৃত্বে হিন্দু নেতারা উত্তাল আন্দোলন শুরু করেন। ভাসানীর তাতে সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল না। একই সময় ব্রিটিশবিরোধী সন্ত্রাসবাদী আন্দোলন জোরদার হয়। তিনি ওই আন্দোলনে যুক্ত হন। ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রভৃতি এলাকায় অনেক ‘স্বদেশি ডাকাতি’তে অংশ নেন। সন্ত্রাসবাদীদের প্রায় সবাই ছিলেন হিন্দু সম্প্রদায়ের। তাঁদের আদর্শ ছিল হিন্দুত্ববাদ বা হিন্দু জাতীয়তাবাদ। তাঁদের সঙ্গে ভাসানীর বেশি দিন কাজ করা সম্ভব হয়নি।

চিত্তরঞ্জন দাশের অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ভাসানী ১৯১৭ সালে কংগ্রেসে যোগদান করেন একজন কর্মী হিসেবে। ১৯১৯ সালে গ্রেপ্তার হন এবং কয়েক সপ্তাহ কারাভোগ করেন। ১৯২০ সালে মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী, মওলানা মোহাম্মদ আলী ও মওলানা শওকত আলীর নেতৃত্বে অসহযোগ-খেলাফত আন্দোলন শুরু হলে তিনি তাতে অংশগ্রহণ করে কারাবরণ করেন। ১৯২২ সালে গান্ধীজি তাঁর অহিংস অসহযোগ আন্দোলন স্থগিত করলে ভাসানী কিছুদিন সমাজসেবামূলক কাজ করেন। তারপর ১৯২৩-২৪ সাল থেকে পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল প্রভৃতি এলাকায় জমিদার-মহাজনদের বিরুদ্ধে কৃষকদের সংগঠিত করতে থাকেন।

সরকার তাঁর তত্পরতা বন্ধ করতে তাঁকে বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে বহিষ্কার করে। তাতে তাঁর জীবনের গতি বদলে যায়। তিনি আসামের ধুবড়ি চলে যান। আসামে তখন বহু বাঙালি কৃষক জঙ্গল পরিষ্কার করে চাষাবাদ করছিল। কিন্তু আসাম সরকার তাদের সঙ্গে শুধু বৈষম্যমূলক আচরণ নয়, নিপীড়ন চালাত। আসামের ধুবড়ির ভাসানচর নামক এক চরে তিনি বাঙালি কৃষকদের এক বিশাল সমাবেশ করেন। সেই সমাবেশের পর তাঁকে মানুষ ‘ভাসানচরের মওলানা’ বলে আখ্যায়িত করতে থাকে। সেটাই পরে পরিবর্তিত হয়ে হয় ‘মওলানা ভাসানী’ বা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী।

বিশের দশকের শেষ দিকে ভাসানী কুড়িগ্রাম, পাবনা, টাঙ্গাইল প্রভৃতি এলাকায় বহু বড় কৃষক সম্মেলন করেন। তাতে তিনি জমিদার ও মহাজনদের বিরুদ্ধে জ্বালাময়ী বক্তৃতা দিতেন। ১৯৩১ সালের ডিসেম্বরে সিরাজগঞ্জের কাওয়াখোলা ময়দানে তিনি অনুষ্ঠিত করেন তিন দিনব্যাপী ‘বঙ্গ-আসাম প্রজা সম্মেলন’। উপমহাদেশের ইতিহাসে অত বড় কৃষক সম্মেলন এর আগে ও পরেও আর কোনো দিন হয়নি। সেই সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন স্যার আবদুর রহিম, মওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ, এ কে ফজলুল হক, আবুল মনসুর আহমদ, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী প্রমুখ খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব। সেই সম্মেলন সম্পর্কে ভাসানীর নিজের বক্তব্য : ‘...১৩৩৭ সনে সিরাজগঞ্জের কাওয়াখোলা ময়দানে তিন দিনব্যাপী বঙ্গ-আসাম প্রজা সম্মেলনে প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ লোক সমবেত হইয়াছিল।...উক্ত সম্মেলনে কৃষকদের ঋণের তালিকার যে কাগজ সংগ্রহ করা হয় তাহার ওজন ২০ মণ ২৭ সের হইয়াছিল। তিন দিনের সম্মেলনে ১৮ হাজার মণ চাউল, ৮৩২টি গরু, ভেড়া, ছাগল ইত্যাদি খরচ হইয়াছিল।’

কৃষক-প্রজাদের মধ্যে জমিদার-মহাজনবিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলায় শঙ্কিত হয়ে সরকার আবারও ভাসানীকে বাংলা থেকে বহিষ্কারের উদ্যোগ নেয়। তিনি তিরিশের দশকের শুরুর দিকেই আসামে যান এবং সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করে বাঙালিদের অধিকার রক্ষায় তাদের পাশে দাঁড়ান। ওদিকে অসমিয়াদের বাঙালিবিরোধী কুখ্যাত ‘লাইন প্রথা’ আন্দোলনও তীব্র আকার ধারণ করে। তিনিও গড়ে তোলেন দুর্বার প্রতিরোধ। বারবার তাঁকে করা হয় কারারুদ্ধ।

মধ্য-তিরিশে ভাসানী মুসলিম লীগে যোগ দেন। ১৯৩৭ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি আসাম প্রাদেশিক আইন পরিষদে নির্বাচিত হন। সংসদের ভেতরে তিনি বাংলা ভাষা ও বাঙালিদের অধিকার নিয়ে শক্ত অবস্থান নেন এবং বাইরে গড়ে তোলেন আন্দোলন। ১৯৪০ সাল থেকে তিনি ছিলেন আসাম প্রাদেশিক মুসলিম লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি। ১৯৪৪ সালে তিনি নির্বাচিত হন সভাপতি।

ওই সময় আসামে ‘বাঙাল খেদাও’ আন্দোলন মারাত্মক আকার ধারণ করে। তার বিরুদ্ধে ভাসানী যে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন, তার তুলনা ইতিহাসে বিরল। এর মধ্যে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আন্দোলন জোরদার হলে তিনি তাতে সর্বাত্মক অংশগ্রহণ করেন। তবে তাঁর ধারণায় পাকিস্তান অন্যান্য লীগ নেতার পাকিস্তানের মতো ছিল না। তাঁর ধারণার ‘পূর্ব পাকিস্তান’ হবে স্বাধীন ও অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, পশ্চিম পাকিস্তানের সঙ্গে যার সম্পর্ক হবে আনুষ্ঠানিক।

১৯৪৭ সালের ১৪-১৫ আগস্ট যেদিন উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে এবং ক্ষমতা হস্তান্তরিত হয়, সেদিন ভাসানী ছিলেন ধুবড়ি কারাগারে। কয়েক দিন পর তাঁকে মুক্তি দিয়ে ভারত সরকার পূর্ব পাকিস্তানে ঠেলে দেয়। অবসান ঘটে তাঁর আসাম অধ্যায়ের।

পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর টাঙ্গাইলের একটি উপনির্বাচনে তিনি পূর্ব পাকিস্তান আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৭ মার্চ ১৯৪৮ সংসদের বাজেট অধিবেশনের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, ‘আমরা কি সেন্ট্রাল গভর্নমেন্টের গোলাম?’ তিনি দাবি তোলেন, সংসদের সব আলোচনা যেন বাংলা ভাষায় হয়, কারণ প্রাদেশিক পরিষদের সব সদস্যই বাংলাভাষী।

তাঁকে পরিষদ থেকে সরকার সরানোর ষড়যন্ত্র করছে—এই আভাস পেতেই তিনি পদত্যাগ করেন। পরে ১৫ মাস সারা দেশ সফর করে মুসলিম লীগ সরকারের অগণতান্ত্রিক আচরণের বিরুদ্ধে জনমত গঠন করেন। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ভাসানীর নেতৃত্বে গঠিত হয় ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’—সরকারি মুসলিম লীগের বাইরে জনগণের মুসলিম লীগ—প্রদেশের প্রথম বিরোধী দল।

পাকিস্তানের স্বাধীনতা লাভের সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয়েছিল বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার আন্দোলন। সেই আন্দোলনে ভাসানীও যোগ দেন। ১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি যে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় তার সভাপতি ছিলেন ভাসানী। একুশে ফেব্রুয়ারির রক্তপাতের পর মার্চের প্রথম সপ্তাহে তিনি গ্রেপ্তার হন এবং এক বছর কারাভোগ করেন।

১৯৫৪ সালের পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে মুসলিম লীগকে মোকাবেলা করতে ফজলুল হক, ভাসানী ও সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে গঠিত হয় যুক্তফ্রন্ট। নির্বাচনে লীগের ভরাডুবি হয়। ১৯৫৭ সালে যখন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে এবং প্রদেশে মুখ্যমন্ত্রী আতাউর রহমান খানের সরকার, তখন পররাষ্ট্রনীতি প্রশ্নে, বিশেষ করে মার্কিন নেতৃত্বে যুদ্ধজোটে থাকা নিয়ে ভাসানীর মতবিরোধ দেখা দেয়। কাগমারী সম্মেলনে মতবিরোধ তীব্র হলে ভাসানী আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করে বাম প্রগতিশীলদের নিয়ে গঠন করেন ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)। ন্যাপের নীতি ছিল সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং পূর্ব পাকিস্তানের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন। ১৯৫৮ সালে আইয়ুবের সামরিক শাসন জারি হলে ভাসানী চার বছর বন্দি থাকেন।

আইয়ুব সরকার বিরোধী উনসত্তরের গণ-আন্দোলনের তিনি উদ্যোক্তা। তখন টাইম ম্যাগাজিন তাঁকে আখ্যায়িত করে ‘প্রফেট অব ভায়োলেন্স’ অভিধায়। দলীয় নেতাদের বিরোধিতা সত্ত্বেও সত্তরের সাধারণ নির্বাচন তিনি বর্জন করেন। দুটি ছাড়া সব আসনে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হলে তিনি তাঁকে অভিনন্দিত করেন এবং বলেন, আর স্বায়ত্তশাসন নয়, এবার এক দফা। ২৫ মার্চ গণহত্যা শুরু হলে তিনি ভারতে চলে যান এবং প্রবাসী সরকারের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন।

তিরিশের দশক থেকে ১৯৭৬ পর্যন্ত এই ভূখণ্ডের প্রতিটি প্রধান রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ভাসানী। আসামে তিরিশ ও চল্লিশের দশকে বাঙালিদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনের জন্য তাঁর এক মহানায়কের ভাবমূর্তি তৈরি হয়। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা অবিস্মরণীয়। ১৯৪৭ সালের পর পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁর সংগ্রাম ছিল আপসহীন। বাংলাদেশে অসাম্প্রদায়িক বাম প্রগতিশীল সমাজতান্ত্রিক ধারা তাঁর নেতৃত্বেই গড়ে ওঠে। সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আন্দোলন মওলানা ভাসানী তৃণমূল পর্যন্ত জনপ্রিয় করে তোলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে তিনি ছিলেন অন্যতম প্রধান নেতা। স্বাধীনতার পর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তিনি আমৃত্যু সক্রিয় ছিলেন। ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর তাঁর জীবনাবসান ঘটে।

মওলানা ভাসানী কুড়ি শতকে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদের একজন। তিনি ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করেননি। শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি নিজের দলের সরকারেরও কঠোর সমালোচনা করেছেন। দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে তিনি শোষিত মানুষের পক্ষে ছিলেন বলেই তাঁকে মানুষ চেনে ‘মজলুম জননেতা’ বলে। তিনি একই সঙ্গে অবিসংবাদিত ও বিতর্কিত। তিনি পৃথিবীর যেকোনো মহান নেতার মতোই ভুলভ্রান্তির ঊর্ধ্বে ছিলেন না। সাফল্য ও ব্যর্থতা নিয়ে ইতিহাসে মওলানা ভাসানীর যে আসন, সেখানে তিনি চিরস্থায়ী।



মন্তব্য