kalerkantho


রাজনীতিতে সাংস্কৃতিক আন্দোলনের প্রভাব

মাহমুদ সেলিম
একুশে পদকপ্রাপ্ত সংস্কৃতিকর্মী, উদীচীর সহসভাপতি

১১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



রাজনীতিতে সাংস্কৃতিক আন্দোলনের প্রভাব

লুকাচ বলেছিলেন, ‘Culture is the aim, politics only the means.’

আসলে মানুষের লক্ষ্যই হচ্ছে পূর্ণ বিকশিত মানব সংস্কৃতি, যেখানে থাকবে কথা বলার স্বাধীনতা, চিন্তার স্বাধীনতা, মুক্তবুদ্ধি চর্চার স্বাধীনতা, শিল্পীর স্বাধীনতা আর মানবিক বিকাশের সর্বোত্তম পরিবেশ। এই আকাঙ্ক্ষাই যে মানবমনের মূল চালিকাশক্তি, এ সম্পর্কে মানুষ সব সময় জ্ঞাত না-ও থাকতে পারে। কারণ এ বিষয়টি মানুষের প্রবৃত্তির অঙ্গীভূত হয়ে আছে। সে কারণেই মানুষ তার চলার পথের কোনো বাধাকে মানতে পারে না। জীবনযাপনের কোনো ব্যত্যয়কে গ্রহণ করতে পারে না। মেনে নেয় না নিপীড়ন, নির্যাতন অথবা অপমানকে। মানুষ তখন বিদ্রোহ করে। রুদ্ধশ্বাস অবস্থা থেকে মুক্তির পথ খোঁজে। নিজের মতো করে একটি পথ বেছে নেয়। রাজনীতি তেমনই একটি পথ। তাই পূর্ণ বিকশিত মানব সংস্কৃতিতে পৌঁছার জন্য রাজনীতি একটি মাধ্যম। আবার রাজনীতি যখন লক্ষ্যে পৌঁছার মাধ্যম হয়ে যায়, সংস্কৃতিও তখন এগিয়ে আসে সেই রাজনীতিকে বেগবান করার জন্য।

এভাবেই রাজনীতি আর সংস্কৃতি হাত ধরাধরি করে চলে। চলতে হয়। নইলে রাজনীতিবিহীন সংস্কৃতি যেমন পথ হারায়, তেমনি সংস্কৃতিবিহীন রাজনীতিও পথ হারাতে বাধ্য হয়।

সংস্কৃতি কখনো কখনো আলোকবর্তিকা হয়ে অগ্রবাহিনীর কাজ করে। রাজনীতিকে পথ দেখিয়ে নিয়ে যায়। কখনো হাত ধরাধরি করে পাশাপাশি চলে। কখনো বা গাথা হয়ে রাজনৈতিক ঘটনার ইতিহাস বুকে ধারণ করে রাখে। তবে সংস্কৃতির প্রধান ভূমিকাটি অগ্রবর্তীর।

ব্রিটিশ শাসনের শেষ পর্ব জুড়ে রাজনীতি ও সংস্কৃতি পরস্পর হাত ধরাধরি করে চলেছে এবং পরস্পরকে করেছে বেগবান। ‘মুক্তির মন্দির সোপানতলে’ যেমন বহু প্রাণ বলি দিতে হয়েছে, তেমনি সেই সৌধটি রচনা করেছেন বহু শিল্পী, সাহিত্যিক তাঁদের রচনায়, কবিতায়, নাটকে, গানে, নৃত্যে ও চারুকলায়।

একটু ভিন্নভাবেই শুরু হয়েছে বাংলাদেশের সংগ্রামের ইতিহাস।

১৯০৫-এ লর্ড কার্জন বাংলাকে দুই ভাগে বিভক্ত করেন। এ ঘটনার বিরুদ্ধে তীব্র সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে ওঠে, যার নেতৃত্বে ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনি এ সময় বহু দেশের গান রচনা করেন এবং হিন্দু-মুসলিম মিলনের প্রতীক হিসেবে ‘রাখি বন্ধন’ অনুষ্ঠানের প্রচলন করেন। কিন্তু কূটবুদ্ধির ব্রিটিশরাজ এই বিভাজনকে আরো সুস্পষ্ট করার জন্য ১৯০৫ সালেই ভারতবর্ষে দুটি সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল গঠন করে, যার একটি মুসলিম লীগ এবং অন্যটি হিন্দু মহাসভা।

সাংস্কৃতিক আন্দোলনের চাপে ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রহিত হলেও সাম্প্রদায়িক রাজনীতির কারণে ভারত বিভাজন ঠেকিয়ে রাখা যায়নি। ১৯৪৬ সালের ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ঐক্যচিন্তার কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেয়। ১৯৪৭ সালে খণ্ডিত বাংলা নিয়ে ভারত-পাকিস্তান ভাগ হয়ে যায়। বিভক্ত বাংলার পাকিস্তানি অংশের নাম দেওয়া হয় ‘পূর্ব পাকিস্তান’।

অচিরেই সাধের পাকিস্তান সম্পর্কে পূর্ব বাংলার মানুষের মোহভঙ্গ ঘটতে থাকে। প্রথমেই বিরোধ দেখা দেয় ভাষা নিয়ে। ১৯৪৮ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন গণপরিষদ সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা ভাষাকে গণপরিষদে অন্তর্ভুক্তকরণের দাবি তোলেন।

১৯৪৮-এর মার্চে পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকায় এসে কার্জন হল ও রেসকোর্স—এ দুই স্থানেই উচ্চারণ করেন@‘Urdu and Urdu alone shall be the state language of Pakistan.’

প্রতিবাদে ফুঁসে ওঠে বাংলার ছাত্র-জনতা। জিন্নাহর বক্তব্যের পর ২৪ মার্চ ১৯৪৮ রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে জিন্নাহর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এটি রচনা করেছিলেন কমরুদ্দিন আহমদ।

এ ঘটনার পরপরই আনিসুল হক চৌধুরী একটি গণসংগীত রচনা করেন—

 ‘ও ভাইরে ভাই,

 বাংলাদেশে বাঙালি আর নাই’

শেখ লুৎফর রহমান গানটি সুর করেন। কয়েকটি স্থানে গাওয়ার পর পুলিশ গানটি বাজেয়াপ্ত করে। এ সময় এস এম হলের ছাত্ররা ‘প্রবাহ’ নামে একটি নাটক মঞ্চায়ন করে, যাতে সংগ্রামের জন্য বাঙালিদের প্রস্তুত থাকার ইঙ্গিত ছিল। এ কারণে উদ্যোক্তারা পুলিশি হয়রানির শিকার হন। ভারতীয় গণনাট্য সংস্থার গানগুলো তখনো সবার স্মৃতিতে ভাস্বর। সংগ্রামী চেতনাকে প্রকাশের প্রয়োজনে তখন থেকে ভারতীয় গণনাট্য সংঘের গানগুলো একে একে গাওয়া শুরু হয়। নিজাম উল হক, শেখ লুৎফর রহমান, গাজীউল হক, আমিনুল হক, মোমিনুল হক প্রমুখ এসব গানে কণ্ঠ দিতে থাকেন।

১৯৪৮-এর সেপ্টেম্বরে পূর্ব পাকিস্তান গণতান্ত্রিক যুবলীগের যুব সম্মেলনে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি পুনরুত্থাপিত হয়।

৩১ ডিসেম্বর ১৯৪৮ এবং ১ জানুয়ারি ১৯৪৯—এ দুই দিন কার্জন হলে অনুষ্ঠিত হয় পূর্ব পাকিস্তান সাহিত্য সম্মেলন। এর আয়োজক ছিলেন পূর্ব বাংলা সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাবীবুল্লাহ বাহার চৌধুরী। সম্মেলনের মূল সভাপতি ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ তাঁর বিশাল অভিভাষণে বলেন—

‘সাহিত্য হবে আমাদের মাতৃভাষা বাংলায়। পৃথিবীর কোন জাতি জাতীয় সাহিত্য ছেড়ে বিদেশী ভাষায় সাহিত্য রচনা করে যশস্বী হতে পারেনি।’

হাজং ও সাঁওতালসহ সাধারণ মানুষের বিদ্রোহকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য কূটবুদ্ধি পাকিস্তান সরকার ১৯৫০-এ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি করে। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার বিরুদ্ধে পূর্ববঙ্গের প্রথিতযশা বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর নেতৃত্বে ‘পূর্ববঙ্গ শান্তি ও পুনর্বসতি কমিটি’ গঠিত হয়। কমিটি দাঙ্গার বিরুদ্ধে বিবৃতি দেয়।

১৯৫০ সালেই প্রথম পূর্ব বাংলায় গণসংগীতশিল্পীদের নিয়ে একটি দল গড়ে ওঠে। এর নাম ‘ধূমকেতু শিল্পীগোষ্ঠী’। প্রকৃতপক্ষে নিজাম উল হকের ছদ্মনাম ছিল ধূমকেতু। এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মোমিনুল হক, গাজীউল হক, জাহানারা লাইজু প্রমুখ। ১৯৫২ সালে ধূমকেতু শিল্পীগোষ্ঠীর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘পূর্ব পাকিস্তান শিল্পী সংসদ’। তখন এর সঙ্গে আরো যুক্ত হন আলতাফ মাহমুদ, ভুটি ভাই (নওগাঁ), মোসলেহ উদ্দিন প্রমুখ।

১৯৫১ সালে চট্টগ্রামে কলিম শরাফী, মাহবুব উল আলম চৌধুরী, হরিপ্রসন্ন পাল, চিরঞ্জীব দাস শর্মা, অচিন্ত্য চক্রবর্তী প্রমুখ মিলে ভারতীয় গণনাট্য সংঘের আদলে গড়ে তোলেন ‘প্রান্তিক নবনাট্য সংঘ’। এর সভাপতি ছিলেন শওকত ওসমান এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন আবু মোহম্মদ সাহাবুদ্দিন। একই সময় চট্টগ্রামে সংস্কৃতি পরিষদও গঠিত হয়। এঁদের সবার প্রচেষ্টায় চট্টগ্রাম হরিখোলা মাঠে অনুষ্ঠিত হয় পূর্ব পাকিস্তান সাংস্কৃতিক সম্মেলন।

উদ্যোক্তা সংস্কৃতি পরিষদ ও প্রান্তিক। সভাপতি আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ, উদ্বোধক বেগম সুফিয়া কামাল, চিত্রকলা সভাপতি শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, অভ্যর্থনা সভাপতি আবুল ফজল, সম্পাদক সায়েদুল হাসান, সদস্য মাহবুব উল আলম চৌধুরী, সুচরিত চৌধুরী, কৃষ্ণপ্রসাদ নন্দী, ইবনে গোলাম নবী, আবু মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন প্রমুখ। গোয়েন্দা নজরদারিতে ছিলেন বলে কলিম শরাফী পেছন থেকে কাজ করেছেন।

১৯৫১ সালে খান সারওয়ার মুরশিদকে সভাপতি করে গঠিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ‘সংস্কৃতি সংসদ’। সংস্কৃতি সংসদ ১৯৫১ সালের ৪ সেপ্টেম্বর মাহবুব আলী ইনস্টিটিউটে মঞ্চায়ন করে বিজন ভট্টাচার্যের নাটক ‘জবানবন্দী’। এ নাটকেই প্রথম পাকিস্তানের শিক্ষিত নারী শিল্পীরা অংশগ্রহণ করেন।

১৯৫২ সালের জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে অগ্রণী শিল্পী সংঘের জন্ম। প্রথম দিকে গ্রুপ হিসেবে সচল ছিল; কিন্তু নামকরণ হয়নি। ১৯৫২-র জানুয়ারিতে এর নামকরণ হয় ‘অগ্রণী শিল্পী সংঘ’।

অগ্রণী শিল্পী সংঘের প্রাণপুরুষ ছিলেন অজয় রাও বর্মণ।

১৯৫২-র ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে পূর্ববঙ্গের রাজনীতি, সংস্কৃতি—সবই একযোগে প্রবেশ করে এক নতুন মাত্রায়। মাতৃভাষার জন্য বরকত, সালাম, রফিক, শফিক, জব্বারের রক্তদান সমগ্র বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধ করে। বিক্ষুব্ধ করে তোলে নৃশংস পাকিস্তানি শাসকদের বিরুদ্ধে। রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন পাশাপাশি চলতে থাকে পূর্ণ মাত্রায়। গঠিত হয় পূর্ব পাকিস্তান শিল্পী সংসদ, পাকিস্তান শিল্পী সংসদ, বালুচর গণসংগীতগোষ্ঠী—এমন আরো বহু সংগঠন।

ঘটনার পরদিনই মাহবুব উল আলম রচনা করলেন তাঁর ঐতিহাসিক কবিতা ‘কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’।

কুমিল্লার ঈশ্বর পাঠশালায় ২২ থেকে ২৪ আগস্ট ১৯৫২ অনুষ্ঠিত হয় পূর্ব পাকিস্তান সাংস্কৃতিক সম্মেলন।

এ অনুষ্ঠানে আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর ভাষাশহীদকে নিয়ে কবিতা ‘কুমড়ো ফুলে ফুলে’ সবার চিত্ত আকর্ষণ করে।

১৯৫৪-র প্রাদেশিক নির্বাচনে ‘স্বর্গে যাবো গো’, ‘মরি হায় রে হায়, হুনছনি ভাই, মুসলিম লীগের মন্ত্রীরা আজ কান্দে ঘরে ঘরে’, ‘ভোট দিমু ভাই হক-ভাসানীর নায়, ওরে মাঝি দে নৌকা ছেড়ে দে’—এসব গান গেয়ে শিল্পীরা সারা বাংলা চষে বেড়িয়েছেন।

১৯৬১-তে জন্ম হয় ছায়ানটের।

১৯৬১-তে রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকী পালন পূর্ব বাংলার মানুষকে জাতীয় চেতনায় আরো সুসংবদ্ধ করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে।

সিকান্দার আবু জাফর লিখলেন ‘জনতার সংগ্রাম চলবেই’, কবি দিলওয়ার লিখলেন ‘চলছে মিছিল চলবে মিছিল’।

১৯৬৭-তে জন্ম হয় ‘ক্রান্তি শিল্পীগোষ্ঠী’র। ২২ ও ২৩ ফেব্রুয়ারি ‘ধানের গুচ্ছে রক্ত জমেছে’ এবং ‘জ্বলছে আগুন ক্ষেতখামারে’ দিয়ে তাদের পথচলা শুরু।

১৯৬৮-তে জন্ম নেয় উদীচী। উনসত্তরের গণ-আন্দোলনের প্রতিটি সমাবেশে উদীচীর ট্রাক স্কোয়াড, নাটক, গণসংগীত একটি অপরিহার্য অনুষঙ্গ ছিল।

১৯৭০-এর নির্বাচন এবং ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে বাংলার শিল্পীসমাজের ছিল বিপুল ভূমিকা। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র, মুক্তিসংগ্রামী শিল্পীদল সুদীর্ঘ ৯টি মাস নতুন নতুন গান, কথিকা, নাটক, কবিতা, সংবাদ, রম্যরচনা প্রচার করে যেমন উজ্জীবিত রেখেছে মুক্তিযোদ্ধাদের, তেমনি উজ্জীবিত রেখেছে সামরিক হায়েনাকবলিত কোটি কোটি দেশবাসীকে। সে ইতিহাস সবারই জানা।

স্বাধীনতার পরও শিল্পীকর্মীদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়নি। দেশ গড়ার আন্দোলনে শিল্পীরা গাইলেন ‘ঐক্যের মতো বড়ো বল আর নাই’, ‘চলো ভাই একসাথে যাই ক্ষেতখামার’, ‘ওরে টুইন্যা গেদারে আয় আয় আয়’ কিংবা ‘নতুন গাঙ্গে আইল নতুন বান’ ইত্যাদি।

১৯৭৫-এ দেশি-বিদেশি চক্রান্তে যখন বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হলেন, তখন এর প্রতিবাদে উদীচী গাইল ‘এ দেশ বিপন্ন, জানি আজ নিরন্ন জীবন মৃত্যুর প্রত্যহ সঙ্গী’।

১৯৭৬-এর ১৬ ডিসেম্বর উদীচী মঞ্চায়ন করে বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসসংবলিত গীতি আলেখ্য ‘ইতিহাস কথা কও’, যাতে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ সংযুক্ত ছিল। সামরিক জান্তার কঠিন দেয়ালে সেটি ছিল এক দুঃসাহসী আঘাত। দেশের মানুষকে নির্ভয়ে বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণ আর তাঁকে নিয়ে খোলাখুলি কথা বলার সাহস জুগিয়েছিল ‘ইতিহাস কথা কও’।

এরপর স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে শিল্পীসমাজের সুদীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস।

এরশাদের প্রিয় গান ‘নতুন বাংলাদেশ’-এর প্যারোডি ‘নতুন জংলি ড্রেস পরব মোরা’।

১৯৯০-এ জনতার মঞ্চে নজরুলের গানের প্যারোডি ‘আমার ভাগার সময় হলো দাও বিদায়’। অথবা ‘কথা কইলে হেয় চেইত্যা যায়’।

এভাবেই চিরকাল শিল্পীরা অন্যায়, অবিচার আর অসত্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়েছেন। তুলে ধরেছেন তাঁদের লেখনী, তুলি, বাদ্যযন্ত্র আর কণ্ঠ। পাশাপাশি চলেছে রাজনীতি। কখনো নিজেই এগিয়ে নিয়ে গেছেন আন্দোলনকে। তাই সব অগ্রযাত্রার পেছনে সংস্কৃতি আর রাজনীতির রয়েছে গভীর সংযোগ, বিপুল অবদান।



মন্তব্য