kalerkantho


স্বাধীন অখণ্ড বাংলা চেয়েছিলেন আবুল হাশিম

১০ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



স্বাধীন অখণ্ড বাংলা চেয়েছিলেন আবুল হাশিম

অঙ্কন : মানব

অবিভক্ত বাংলার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ২৭ এপ্রিল (১৯৪৭) দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘স্বাধীন সার্বভৌম অখণ্ড বাংলা’ প্রতিষ্ঠার কথা ঘোষণা করেন। এই উদ্যোগের সঙ্গে বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের সেক্রেটারি আবুল হাশিম, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা শরত্চন্দ্র বসু, বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেসের সংসদীয় নেতা কিরণ শংকর রায় প্রমুখ ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিলেন এবং এ ক্ষেত্রে তাঁরা সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। এ প্রচেষ্টা সফল হলে ১৯৪৭ সালেই ভারত ও পাকিস্তানের পাশাপাশি অখণ্ড বাংলা একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আবির্ভূত হতো

 

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলছে। শাসক ইংরেজ তাদের কলোনি ভারতবর্ষে আর তিষ্ঠাতে পারছে না। মানুষ দাবি তুলেছে, ভারত ছেড়ে যেতে হবে। ইংরেজদের প্রতিপক্ষ জাপানিরা বর্মিদের পরাজিত করে চট্টগ্রামের দিকে ধেয়ে আসছে। তখন ভারত উপমহাদেশজুড়ে তোলপাড় চলছে রাজনীতি নিয়ে। দিল্লিতে নেহরু গান্ধী জিন্নাহ প্যাটেল ভাবছেন কেমন ভারত পাবেন তাঁরা, আর বাংলায় তখন সোহরাওয়ার্দী শরৎ বোস আবুল হাশিম—এঁরা ভাবছেন স্বাধীন সার্বভৌম অখণ্ড বাংলার কথা!

বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক গুরু হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী তাঁর আত্মীয় আবুল হাশিমকে বঙ্গীয় মুসলিম লীগের সেক্রেটারি পদে নির্বাচিত করে বাংলায় তাঁর রাজনৈতিক ভাবনা বাস্তবায়নে সচেষ্ট হন। সে সময় সোহরাওয়ার্দীর জন্য একমাত্র পথ খোলা ছিল সংগঠনের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা।

বর্ধমান জেলার সুপরিচিত কংগ্রেসি মুসলিম নেতা আবুল কাশেমের পুত্র আবুল হাশিম (১৯০৫-১৯৭৪) ছিলেন তুখোড় বক্তা এবং একজন চৌকস সংগঠক। রাজনৈতিক ভাবনায় তিনি ছিলেন আধুনিক ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী। সোহরাওয়ার্দীর পূর্ণ সমর্থন নিয়ে তিনি প্রথমেই বাংলার প্রাদেশিক মুসলিম লীগকে একটি ব্যাপক গণভিত্তিসম্পন্ন রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে মনোযোগ দেন। লীগের সব জেলা ও মহকুমা পর্যায়ে পার্টি অফিসের ব্যবস্থা করতে তিনি নির্দেশ প্রদান করেন। লীগ তহবিল একটা শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নিয়ে আসা হয়। প্রত্যেক শাখাকে নিয়মিত নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে বলা হয়। পূর্ব বাংলায় লীগকে শক্তিশালী সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে ১৯৪৪ সালে ঢাকায় একটি স্থায়ী পার্টি অফিস স্থাপন করা হয়। কমিউনিস্ট পার্টির মডেলে দলের জন্য বেশ কিছু সার্বক্ষণিক কর্মী নিয়োগ করা হয়। তাঁরই সুপারিশক্রমে বাংলায় মুসলিম লীগের কাউন্সিল সংগঠনের অভ্যন্তরে গণতন্ত্রায়ণের লক্ষ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করে, যা আহসান মঞ্জিলের খাজাদের স্বার্থের প্রতিকূলে যায়, যেমন লোকসংখ্যা-নির্বিশেষে প্রত্যেক জেলার জন্য লীগ কাউন্সিলে ২৩ জন সদস্যের কোটা নির্ধারণ এবং ওয়ার্কিং কমিটিতে সভাপতি কর্তৃক মনোনীত সদস্যের সংখ্যা ১০ জন থেকে কমিয়ে চারজন করা।


নিঃসন্দেহে সোহরাওয়ার্দী ও হাশিমের এটি (বাংলা বিভক্তিকে ঠেকানো) আশু লক্ষ্য ছিল; কিন্তু তাঁদের এই উদ্যোগ শুধু বাংলা বিভক্তি রোধকল্পে একটি নিছক বিকল্প প্রস্তাব ছিল না

বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের সেক্রেটারি আবুল হাশিমের গতিশীল নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা তরুণ সম্প্রদায়কে বিপুলভাবে আকৃষ্ট করেছিল


আবুল হাশিমের চিন্তাভাবনা মুসলিম লীগের গণতন্ত্রায়ণপ্রক্রিয়া এবং তৃণমূলে সম্প্রসারণের জন্য গৃহীত পদক্ষেপগুলো আহসান মঞ্জিলের খাজা-নেতৃত্বকে শঙ্কিত করে তোলে। যে ঢাকা জেলা মুসলিম লীগ ছিল নবাব পরিবারের করায়ত্ত, ১৯৪৪ সালে তার নিয়ন্ত্রণ অন্যদের হাতে চলে যায়। আবুল হাশিম লীগ পার্লামেন্টারি গ্রুপের ওপর দলের প্রভুত্ব ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট হলে তাঁর সঙ্গে খাজা-গ্রুপের দ্বন্দ্ব শুরু হয়। পার্লামেন্টারি নেতৃত্ব দলকে উপেক্ষা করে সমগ্র প্রদেশজুড়ে তাঁদের প্রতি অনুগত রাজনৈতিক দোসরদের মাধ্যমে একটি সমান্তরাল ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখছে বলে হাশিম অভিযোগ তোলেন। আইনসভার অভ্যন্তরে দলত্যাগী সদস্যদের বিরুদ্ধে সামাজিক বয়কটসহ শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য জেলা ও স্থানীয় পর্যায়ের সাংগঠনিক উদ্যোগ নেওয়া হলে পার্লামেন্টারি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে বাধা আসে। তাঁরা ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার স্বার্থে দলত্যাগী সদস্যদের নানা সুযোগ-সুবিধার বিনিমিয়ে আবার দলে ভিড়িয়ে আনতে সচেষ্ট হন। হাশিম অভিযোগ করেন যে প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহের জন্য রসিদ বই ছাপাতে বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও নাজিমউদ্দিন মন্ত্রিসভার কাছ থেকে কোনো কাগজ পর্যন্ত বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।

সোহরাওয়ার্দী-হাশিম গ্রুপের তৎপরতা মোকাবেলায় একসময় খাজা গ্রুপ কর্তৃক পূর্ব বাংলা-পশ্চিম বাংলা ইস্যু তোলা হয় এবং হাশিমের কর্মী-সংগঠকদের কমিউনিস্ট আখ্যায়িত করে তাদের বিরুদ্ধে নানা প্রচারণা চালানো হয়। উল্লেখ্য, সোহরাওয়ার্দী ও আবুল হাশিম উভয়েরই জন্মস্থান হলো পশ্চিম বাংলায়। অন্যদিকে নাজিমউদ্দিন ও খাজা গ্রুপের অন্যান্য নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি ছিলেন পূর্ব বাংলার বাসিন্দা। অন্য একটি বাস্তব ব্যাপার ছিল এই যে বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের সেক্রেটারি আবুল হাশিমের গতিশীল নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা তরুণ সম্প্রদায়কে বিপুলভাবে আকৃষ্ট করেছিল। এদের মধ্যে কেউ কেউ কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে যুক্ত ছিল। তবে বেশির ভাগেরই এ ধরনের কোনো সংস্রব ছিল না। আসলে সোহরাওয়ার্দী-হাশিম এবং খাজা গ্রুপের মধ্যে যে দ্বন্দ্ব, তা একই গোষ্ঠীর মধ্যে নিছক ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ছিল না। এ ছিল উঠতি মধ্যবিত্ত শ্রেণি ও সামন্ত শাসক শ্রেণির মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, অন্য কথায় জনসাধারণ ও প্রাসাদের দ্বন্দ্ব।

ভারতে বহুজাতির মানুষের বাস। বহুজাতি অধ্যুষিত একটি উপমহাদেশ। স্বাধীনভাবে বিকশিত হওয়ার সুযোগ পেলে এসব জাতির পক্ষে এখানে অনেকগুলো জাতি-রাষ্ট্র গঠনের যথেষ্ট সম্ভাবনা ছিল। ভাষা, রক্ত-সম্পর্ক, ইতিহাস-ঐতিহ্য, ভৌগোলিক অবস্থান, অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় ভারতের অন্য এলাকার চেয়ে বাংলায় জাতিভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনা ছিল সবচেয়ে উজ্জ্বল। কিন্তু ইউরোপ স্বাধীনভাবে জাতি গঠনে যে সুযোগ পায়, ভারত তা পায় না। ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে জাতি-প্রশ্নটি উঠে আসার সুযোগ সৃষ্টি হলেও বস্তুত একই অবস্থার কারণে তা অখণ্ড ভারতীয় জাতীয়তাবাদ বনাম দ্বিজাতিতত্ত্বের বিকৃত রূপ পরিগ্রহ করে। ফলে জাতি-সমস্যার সমাধানের প্রশ্নটি ঐতিহাসিক বিভ্রান্তির শিকার হয় এবং অমীমাংসিত থেকে যায়।

এমনই এক ঐতিহাসিক ধারায় দেশবিভাগের প্রাক্কালে অবিভক্ত বাংলার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ২৭ এপ্রিল (১৯৪৭) দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘স্বাধীন সার্বভৌম অখণ্ড বাংলা’ প্রতিষ্ঠার কথা ঘোষণা করেন। এই উদ্যোগের সঙ্গে বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের সেক্রেটারি আবুল হাশিম, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা শরত্চন্দ্র বসু, বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেসের সংসদীয় নেতা কিরণ শংকর রায় প্রমুখ ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিলেন এবং এ ক্ষেত্রে তাঁরা সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। এ প্রচেষ্টা সফল হলে ১৯৪৭ সালেই ভারত ও পাকিস্তানের পাশাপাশি অখণ্ড বাংলা একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আবির্ভূত হতো।

এমনি এক রাজনৈতিক পটভূমিতে সোহরাওয়ার্দী ও আবুল হাশিম ‘স্বাধীন অখণ্ড বাংলা রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব নিয়ে এগিয়ে আসেন। বাংলা বিভক্তির দাবির পশ্চাতে সক্রিয় হিন্দু মনমানসিকতা ও দৃষ্টিভঙ্গি, এ দাবির অযৌক্তিকতা, বাংলা বিভক্তির পরিণতি, বাংলার ঐক্যবদ্ধ থাকার অপরিহার্যতা, স্বাধীন অখণ্ড বাংলা রাষ্ট্রে হিন্দু-মুসলমান সম্পর্ক এবং এ রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ ইত্যাদি বিষয়ের ওপর আলোকপাত করে সোহরাওয়ার্দী এক দীর্ঘ বক্তব্য পেশ করেন। হিন্দু মহাসভা ও কংগ্রেসের বাংলা বিভক্তির দাবিকে অদূরদর্শী এবং ‘পরাজিতের মানসিকতা’ বলে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন যে ১৯৩৭ সাল থেকে বাংলার হিন্দুরা তাদের সংখ্যা, শিক্ষা ও প্রভাব-প্রতিপত্তির তুলনায় বঙ্গীয় মন্ত্রিসভায় আসন লাভ করতে না পারায় তা থেকে সৃষ্ট হতাশাই উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য দায়ী। নোয়াখালী দাঙ্গাকে অখণ্ড স্বাধীন বাংলা রাষ্ট্রে হিন্দুদের সম্ভাব্য অবস্থার একটা নজির হিসেবে কোনো কোনো মহল তুলে ধরার চেষ্টা করলে সোহরাওয়ার্দী তা খণ্ডন করে হিন্দু সম্প্রদায়কে স্মরণ করিয়ে দেন যে নোয়াখালী ছাড়া বাংলায় আরো বহু জেলা রয়েছে, যেখানে মুসলমানরা বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও উভয় সম্প্রদায় বহুকাল ধরে শান্তি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের সঙ্গে বসবাস করে আসছে। ‘বাংলা বিভক্তি হিন্দুদের জন্য আত্মহত্যার শামিল হবে’—এই অভিমত ব্যক্ত করে তিনি দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করেন যে অর্থনৈতিক ঐক্য, পারস্পরিক নির্ভরশীলতা এবং একটি কার্যকর শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠনের আবশ্যকতা বিবেচনায় বাংলা সর্বদাই অবিভাজ্য। তিনি বলেন, বাংলাকে সমৃদ্ধিশালী হতে হলে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে..., বাংলাকে অবশ্যই তার ধন-সম্পদ এবং নিজ ভাগ্যের নিয়ন্ত্রক হতে হবে। বাংলা ঐক্যবদ্ধ ও স্বাধীন হলে এর ভবিষ্যৎ চিত্র কেমন হতে পারে, তার ইঙ্গিত দিতে গিয়ে সোহরাওয়ার্দী বলেন, ‘এটা বস্তুত একটি মহান দেশে পরিণত হবে, ভারত উপমহাদেশে যা হবে সবচেয়ে সমৃদ্ধ। এখানে জনগণ উন্নত জীবনধারণের সুবিধা নিয়ে উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছতে সক্ষম হবে। কৃষি, শিল্প ও বাণিজ্যক্ষেত্রে সমৃদ্ধি অর্জন করে কালক্রমে এ দেশ বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ও উন্নত রাষ্ট্রের মর্যাদা অর্জন করতে সমর্থ হবে।’

স্বাধীন অখণ্ড বাংলা রাষ্ট্র গঠন সম্পর্কে সোহরাওয়ার্দীর দিল্লি ঘোষণার দুই দিনের মধ্যে ২৯ এপ্রিল আবুল হাশিম এক বিবৃতিতে এ পরিকল্পনার সপক্ষে জোরালো বক্তব্য তুলে ধরে বাংলা বিভক্তির আন্দোলনে মদদদানের জন্য বিদেশি পুঁজি এবং দিল্লির দোসরদের দায়ী কমরন। অখণ্ড বাংলা রাষ্ট্রে নির্বাচকমণ্ডলীর প্রকৃতি কেমন হবে, সে সম্পর্কে সোহরাওয়ার্দী সুস্পষ্ট মতামতদানে বিরত থাকলেও হাশিম হিন্দুদের উদ্দেশে প্রশাসনে তাদের দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের ‘বেঙ্গল প্যাক্ট’ (১৯২৩) অনুযায়ী ৫০ : ৫০ আসন প্রদানের কথা ঘোষণা করেন। হিন্দু-মুসলিম-নির্বিশেষে বাংলার যুবকদের প্রতি আবেগঘন কণ্ঠে আবেদন জানিয়ে বলেন, ‘উদ্ভূত সংকট নিরসনের পন্থা হচ্ছে গভীর দেশপ্রেমের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে বাংলাকে ঐক্যবদ্ধ ও স্বাধীন করা, একে বিভক্ত করা নয়।’ ১৯৪৭ সালের জানুয়ারি মাসে আবুল হাশিম বাংলাকে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রে পরিণত করার উদ্দেশ্যে শরত্বাবু ও আজাদ হিন্দ ফৌজের বেশ কিছু কর্তাব্যক্তির সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন।

অখণ্ড স্বাধীন সার্বভৌম বাংলা রাষ্ট্রের ধারণা গড়ে ওঠার পেছনে কী উদ্দেশ্য, আদর্শ ও বিবেচনা কাজ করেছিল, সে সম্পর্কে পণ্ডিত ও পর্যবেক্ষকদের বিভিন্ন মতামত রয়েছে। তাঁদের বেশির ভাগই মনে করেন যে এটা ছিল বাংলা বিভক্তিকে ঠেকানোর উদ্দেশ্যে সোহরাওয়ার্দীর একটি বিকল্প প্রস্তাব। নিঃসন্দেহে সোহরাওয়ার্দী ও হাশিমের এটি আশু লক্ষ্য ছিল; কিন্তু তাঁদের এই উদ্যোগ শুধু বাংলা বিভক্তি রোধকল্পে একটি নিছক বিকল্প প্রস্তাব ছিল না। এর মূলে রয়েছে এক সযত্ন লালিত ইতিবাচক আদর্শ ও দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য, যা অনেক ঘটনার মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে বেড়ে উঠেছে।



মন্তব্য