kalerkantho


ফটিকছড়িতে ৫২ ইটভাটায় জ্বলছে বনের কাঠ

আবু এখলাছ ঝিনুক, ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম)   

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



ফটিকছড়িতে ৫২ ইটভাটায় জ্বলছে বনের কাঠ

ফটিকছড়ি উপজেলার অর্ধশতাধিক ইটভাটায় জ্বলছে বনের কাঠ। উজাড় হচ্ছে বনাঞ্চল, কর্তৃপক্ষ নির্বিকার। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অমান্য করে প্রতিদিন ইট পোড়ানোর কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে সরকারি রিজার্ভ ফরেস্ট ও ব্যক্তি মালিকানাধীন বাগানের হাজার হাজার মণ বনের গাছ। এর ফলে বিলীন হচ্ছে বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল।

শুধু কাঠ পোড়ানো নয়, মাটি কেটে ধ্বংস করা হচ্ছে ফসলি জমি ও পাহাড়। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী খনিজ কয়লা দিয়ে ইট পোড়ানোর কথা থাকলেও রাষ্ট্রীয় আইন উপেক্ষা করে প্রতিনিয়ত জ্বলছে এসব ইটভাটায় বনজ কাঠ। উপজেলা প্রশাসনের খুব কাছাকাছি এমন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হলেও প্রশাসন কেন নীরব তা প্রশ্নের সম্মুখীন। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে বৃদ্ধাঙুলি প্রদর্শন করে পরিবেশকে বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। প্রায় সব ইটভাটায় নেই পরিবেশবান্ধব চিমনি। ফলে বিপন্ন হচ্ছে পরিবেশ।

উপজেলার ফটিকছড়ি ও ভূজপুর ঘুরে দেখা যায়, সুয়াবিল, হারুয়ালছড়ি, ভূজপুর, নারায়ণহাট, দাঁতমারা, বাগানবাজার, পাইন্দং, নানুপুর, খিরাম, কাঞ্চননগর ইউনিয়নে প্রায় অর্ধশত ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে নাজিরহাট কলেজ, ভূজপুর থানার পাশে, লোকালয়ে, হাটবাজারের পাশে, সংরক্ষিত ও সামাজিক বনাঞ্চলের পাশে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে এসব ইটভাটা গড়ে ওঠেছে।

গত তিন মাসের বেশি সময় ধরে ইটভাটা গুলোতে ইট তৈরির কাজে পোড়ানো হচ্ছে লাখ লাখ মণ জ্বালানি কাঠ। এতে করে সংরক্ষিত ও ব্যক্তি মালিকানায় গড়ে ওঠা বনাঞ্চল থেকে নির্বিচারে কাটা হয় অপরিপক্ব জ্বালানি কাঠ। উজাড় হচ্ছে বনাঞ্চল ও নেমে আসছে পরিবেশ বিপর্যয়।  

পরিবেশ অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে, লোকালয় থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে ইটভাটা তৈরি করা যাবে, এমন নীতিমালা থাকলেও উপজেলার কোনো ইটভাটায় তা মানা হয়নি। তার ওপর এখানে নতুন নতুন ইটভাটা তৈরি হচ্ছে। উপজেলার প্রায় ইটভাটায় লাইসেন্স নেই, নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন বা ছাড়পত্র। অধিকাংশ ইটভাটা ভুয়া অনুমোদনপত্র নিয়ে চালাচ্ছে।

ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাশেম কোম্পানি বলেন, ‘আমাদের কোনো লাইসেন্স নেই, সরকারিভাবে কাউকে কোনো লাইসেন্স দেওয়া হয়নি। তবে লাইসেন্সের জন্য সরকারি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে যাবতীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়েছে এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের কাগজপত্র প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

এ বিষয়ে ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘এসব ইটভাটাতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি ইটভাটাতে অভিযান চালানো হয়েছে।’

 



মন্তব্য