kalerkantho

সর্বত্র আলোচনা

ভোটের দিন কী হবে

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

২৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



শেষ মুহূর্তের অবিরাম প্রচার-প্রচারণায় মুখর চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার আওতাধীন ১৬টি সংসদীয় আসন। রাত-দিন সমানে নির্বাচনী প্রচার-গণসংযোগ চলছে। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থী ও তাঁদের অনুসারী সমর্থকদের চোখে ঘুম নেই। নির্বাচন ঘিরে উৎসবের পাশাপাশি ইতোমধ্যে প্রায় আসনের বিভিন্ন এলাকায় কখনো প্রার্থী আবার কখনো তাঁদের প্রচারণায়

ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ভাঙচুর, সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আর এসব সংঘাতের মধ্য দিয়ে আর তিনদিন পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। বিভিন্ন আসনে নির্বাচনকে ঘিরে অপ্রীতিকর ঘটনায় একপক্ষ অপরপক্ষকে দায়ী করে আসছে। এ নিয়ে সংঘাতে আক্রান্ত প্রার্থী ও তাঁদের অনুসারীরা সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

এদিকে গত সোমবার থেকে নির্বাচনে দায়িত্ব পালনে মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনী। এর আগে বিজিবি নেমেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও নিরাপত্তা জোরদার করেছে। এতে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন সংগঠনসহ স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। গত দুদিন ধরে প্রার্থী ও তাঁদের পক্ষে প্রচারণা আগের চেয়ে বেড়েছে।

অনেকে বলেছেন, তফসিল ঘোষণার পর থেকে বিভিন্ন আসনে যেসব অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে তা সোমবার থেকে কমেছে। তবে ভোটের দিন অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা করছেন অনেকে।

গত দুদিন চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন আসন ঘুরে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা গণসংযোগ করছেন। পোস্টার-ফেস্টুন-ব্যানারে ছেয়ে গেছে সড়ক, উপসড়ক-অলিগলি। সর্বত্র আলোচনা ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে কারা বিজয়ী হবে? কোনো সমস্যা হবে কিনা? ভোটাররা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন কিনা?

আগ্রাবাদ এক্সেস সড়কের ছোটপোল এলাকার বাসিন্দা ফরহাত উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ভোটের আগে এতো উত্তেজনা আগে কখনো দেখিনি। আমাদের এই আসনে (চট্টগ্রাম-১০) ইতোমধ্যে কয়েকবার মারামারি হয়েছে। প্রধান দুই প্রার্থীর প্রচারণায় এ ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচন যত কাছে আসছে জানি না আরও কী হবে?’

কাস্টম হাউস এলাকায় সড়কের পাশে ফুটপাতের হকার মিনহাজ বলেন, ‘আমি চট্টগ্রাম-১১ আসনের ভোটার। গতবার নির্বাচনে ভোট দিতে যাইনি। এবার ভোট দেব। যারা বাসায় যাচ্ছে ভোট চাইতে সবাইকে একই কথা বলতে হচ্ছে তাদেরকেই ভোট দেব।’

মুরাদপুর এলাকার বাসিন্দা আবদুল গফুর বলেন, ‘নির্বাচনের শেষ দিকে গিয়ে যে প্রার্থীর অবস্থা ভালো তাঁকে ভোট দেব। আমরা কোনো রাজনীতি করি না। কিন্তু ভালো প্রার্থী বিজয়ী হলে দেশের জন্য মঙ্গল।’

এদিকে নির্বাচনের গণসংযোগ-প্রচার প্রচারণায় ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম-২, ৫, ১০, ১১, ১২, ১৪, ১৬ সহ বিভিন্ন আসনে সংঘাত হয়েছে। সবচেয়ে বড় সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে। বিভিন্ন আসনের প্রার্থীরা অভিযোগ করেছেন, তাঁরা নির্বাচনী প্রচারণা যথাযথভাবে চালাতে পাচ্ছেন না। সরকারি দল সমর্থিতরা বাধা দেওয়ার অভিযোগ করছেন তাঁরা। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সরকার দলীয় প্রার্থী ও নেতারা অভিযোগ করছেন, বিএনপি-জোটের অন্তর্কোন্দলে এসব ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন এলাকায় সরকার দল প্রার্থীর প্রচারণায়ও হামলার অভিযোগ ওঠেছে।

আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে সম্পৃক্ত চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম রেজাউল করিম চৌধুরী সোমবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কোনো প্রার্থী বা তাঁদের সমর্থকরা মাঠে না থাকলে আমাদের (আওয়ামী লীগ) কিছু করার নেই। নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় ইতোমধ্যে যেসব এলাকায় সংঘাতের কথা বলছেন তা ওদের (বিএনপি-জোট) সৃষ্ট। আমাদের প্রার্থীর প্রচারণায়ও তো হামলা হয়েছে। আজ (গত সোমবার) সেনাবাহিনী নেমেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরাপত্তা জোরদারে কঠোর অবস্থানে। মানুষ আশ্বস্ত হয়েছে। আমরাও আশা করছি সবাই সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পারবেন।’

মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এস এম সাইফুল আলম রবিবার সন্ধ্যায় বলেন, ‘নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বলতে কিছুই নেই। আমাদেরকে প্রচার প্রচারণা গণসংযোগ করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। আমাদের প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দল যদি তাঁদের প্রচার প্রচারণা চালাতে পারেন তাহলে আমাদের প্রার্থী ও সমর্থকদের কেন বাধা দেওয়া হচ্ছে? বিভিন্ন এলাকায় আমাদের দল ও জোটের প্রার্থীর ওপর হামলা করা হচ্ছে। নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করা প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। প্রচারণা চালাতে না পারলেও ভোটাররা ভোট দিতে পারলে আমরা বিজয়ী হব।’



মন্তব্য