kalerkantho


টেকনাফে সুপারির ভালো ফলন দাম পেয়ে চাষিরাও খুশি

জাকারিয়া আলফাজ, টেকনাফ (কক্সবাজার)   

৭ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



টেকনাফে সুপারির ভালো ফলন দাম পেয়ে চাষিরাও খুশি

কক্সবাজারের টেকনাফে এবার সুপারির ফলন ভালো হয়েছে। গত বছরের তুলনায় দামও বেশি পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন চাষিরা। গত বছর এক পন সুপারির দাম ছিল ২২০ থেকে ২৫০ টাকা।

এবার দাম বেড়ে প্রতি পন বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩২০ টাকায়। এক পনে হিসাব করা হয় ৮০টি সুপারি।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, উপজেলার ১২০০ হেক্টর জমিতে ছোট বড় ১৫০০ সুপারিবাগান রয়েছে। কিছু বাগানে লবণাক্ততার প্রভাবে সুপারির ফলন কম হলেও বেশির ভাগ বাগানে ফলন ভালো হয়েছে। উৎপাদিত সুপারি এখন স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে পৌঁছে যাচ্ছে, ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে।

স্থানীয় চাষিরা জানান, উপজেলার সদর, সাবরাং, হ্নীলা ও বাহারছড়া ইউনিয়নের প্রতিটি বাগানে সুপারির ফলন ভালো হয়েছে। গত বছর সুপারির মৌসুমে রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা সাথে এনেছিল বিপুল পরিমাণ সুপারি। যার কারণে স্থানীয় চাষিরা কম ফলনেও বেশি লাভবান হতে পারেনি।

টেকনাফ পৌর ভবনের সামনের খোলা জায়গায় সপ্তাহের প্রতি বৃহস্পতিবার বসে সুপারির হাট। বিভিন্ন গ্রাম থেকে সুপারি চাষিরা এ দিন ভোর থেকে সুপারি নিয়ে হাটে আসেন। হাটে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সুপারি কিনতে আসেন ক্রেতারা। পরবর্তীতে তাঁরা ক্রয়কৃত সুপারি ট্রাক ভর্তি করে আড়তে নিয়ে যান।

সাবরাং ইউনিয়নের নোয়াপাড়ার সুপারিচাষি ফরিদ আহমদ বলেন, ‘আমার বাগানে সাড়ে সাত শ সুপারি গাছ রয়েছে। প্রতিটি গাছে সুপারির ভালো ফলন হয়েছে। এ বছর সুপারির দামও বেশি থাকায় লাভবান হব বলে আশা করছি।’

সাবরাং ইউনিয়নের লেজিরপাড়ার সুপারিচাষি নুরুল আমিন বলেন, ‘এ বছর বাগানে সুপারির ফলন ভালো হয়েছে। সুপারির আকার যেমন বড়, তেমনি এ বছর পোকার আক্রমণও নেই। এ বছর লক্ষাধিক টাকার সুপারি বিক্রি করতে পারব বলে আশা করছি।’

বাহারছড়া ইউনিয়নের শীলখালী এলাকার সুপারিচাষি আবুল কাসেম বলেন, ‘সুপারি গাছে তেমন পরিচর্যা করতে হয় না। এ গাছ ৩০-৩৫ বছর পর্যন্ত ফলন দেয়। এ ছাড়া সুপারির বাগানে সমন্বিতভাবে বিভিন্ন প্রকার সবজির চাষও করা যায়। ছোট বড় বাগানভেদে প্রতিবছর চাষিরা একলক্ষ টাকা থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় করে থাকেন। কম খরচে অধিক লাভজনক হওয়ায় এবং দীর্ঘদিন ফলন পাওয়া যায় বলে বর্তমানে এ অঞ্চলে সুপারি চাষে সাধারণ মানুষের আগ্রহ বাড়ছে।’

টেকনাফ সুপারি হাটে সুপারি কিনতে আসা কুমিল্লার আব্দুস সবুর বলেন, ‘দেশে বিভিন্ন অঞ্চলে যাদের নিয়মিত পান খাওয়ার অভ্যাস তাদের কাছে টেকনাফের সুপারির বেশ কদর রয়েছে। আমরা এখান থেকে সুপারি কিনে প্রথমে আড়তে নিয়ে যাই। সেখান থেকে আকার নির্ধারণ করে বড় আকারের সুপারিগুলো বিদেশে রপ্তানির জন্য মজুত করি এবং অবশিষ্ট সুপারি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চালান করি।’

উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এ বছর বাগানে সুপারির ফলন বেশ ভালো হয়েছে। ভালো ফলনের একটি কারণ হলো, আগে কৃষকরা সুপারি গাছে কোনো ধরনের সার ব্যবহার করতেন না। আমরা তাঁদেরকে উদ্বুদ্ধ করেছি সার ব্যবহারে। এখন সুপারি গাছে বছরে দুই বার ব্রুন সার ব্যবহার করা হয়। যার ফলে গাছ থেকে অসময়ে সুপারি ঝরে পড়ে না।’

তিনি জানান, সুপারিচাষ লাভজনক হওয়ার পাশাপাশি সুপারি গ্রামীণ অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রেখে যাচ্ছে। কৃষি অফিসের তৎপরতায় এখন গ্রামের মানুষ সুপারি চাষে বেশ আগ্রহী হচ্ছে।



মন্তব্য