kalerkantho


পাহাড়ের বুকে দৃষ্টিনন্দন বাড়ি

আসাদুজ্জামান দারা, ফেনী   

৭ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



পাহাড়ের বুকে দৃষ্টিনন্দন বাড়ি

সকালবেলা বাবুইপাখির কিচিরমিচির শব্দে ঘুম ভাঙে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি পাহাড়ি জনপদের বাসিন্দা কানাডাপ্রবাসী ব্যবসায়ী আফছার চৌধুরীর। শখের বশে গড়ে তুলেছেন দৃষ্টিনন্দন বাড়ি ও পালন করছেন টার্কি। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আসে বাড়িটি দেখতে। সুন্দর নির্মাণশৈলীতে গড়া বাড়িটি নির্মাণে কত টাকা ব্যয় হয়েছে এর কোনো হিসাব নেই আফছার চৌধুরীর।

সরেজমিনে দেখা যায়, মিরসরাই উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল কয়লার পশ্চিম সোনাই গ্রামে মৃত সিরাজুল হক চৌধুরীর ছোট ছেলে কানাডাপ্রবাসী ব্যবসায়ী আফছার চৌধুরী দুই বছর আগে ২০০ শতক জায়গার উপর শখের বশে তৈরি করেন একটি দৃষ্টিনন্দন বাড়ি। পাহাড়ি জনপদে নান্দনিক সৌন্দর্যে ঘেরা এই বাড়ি নির্মাণের পাশাপাশি শখের বশে পালন করছেন টার্কি মুরগিও-যা ভ্রমণপিপাসু মানুষের মনকে আকৃষ্ট করে।

মুরগিগুলো পালন করার জন্য বাড়ির ভেতর বিভিন্ন আকৃতির ঘর ও খাঁচা তৈরি করা হয়েছে। মাঝে মধ্যে টার্কিগুলো বিকট শব্দে ডেকে ওঠছে। সাদা ও কালো দুই রঙের টার্কি দেখা গেল। পুরুষ টার্কিগুলোর ঠোঁটের নিচে লাল রঙের লম্বা শূড়ের মতো ঝুলে আছে। পুরুষ টার্কিগুলো মাঝে মধ্যে পেখম মেলে স্ত্রী টার্কিগুলোর সঙ্গে খুনসুটিতে মেতে ওঠছে। বাড়ির চারপাশে আছে নানারকম ফলের গাছ। এর মধ্যে কমলা গাছ, পেয়ারা গাছ, কলা, কাঁঠাল, আম, জাম, পেঁপে, বেল, স্ট্রবেরি, জাম্বুরা, আমলকী, জলপাই, ডালিম, আতাফল, লেবু, কাগজি লেবুসহ শতাধিক প্রজাতির ফলের চারা লাগানো হয়েছে।

এ ছাড়া দৃষ্টিনন্দন এ বাড়িতে রয়েছে অর্ধ শতাধিক প্রজাতির ফুল গাছ। এর মধ্যে গাঁদা, গোলাপ, ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, কারনেশন, ন্যাস্টারশিয়াম, প্যানজি, পিটুনিয়া, ভারবেনা, ক্যামেলিয়া, স্যালভিয়া, জারবেরা, এজালিয়া, কাঞ্চন (সাদা), জবা, কামিনী, অলকানন্দা বা অ্যালামন্ডা, জয়তী বা জ্যাট্রোফা, হাজারপুটিয়া, নয়নতারাসহ অর্ধ শতাধিক প্রজাতির ফুলের চারা লাগান আফছার। পাশাপাশি বাড়ির ভেতরে একটি সবজি বাগানও করেছেন। এখানে শিম, ঢেঁড়স, আঁকড়ি, ধনিয়াপাতা, টমেটো, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, বেগুন, কাঁচা মরিচ, শসা ইত্যাদি রয়েছে।

বাড়ির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার জন্য ৩টি পুকুর খনন করে হাঁস পালনের ঘর ও পুকুরে কই, মাগুর, শিং, রুই, পাবদা, কাতল, মৃগেল, তেলাপিয়া, শোলমাছ, কার্পুসহ অনেক প্রজাতির মাছচাষ করা হচ্ছে। রয়েছে দুই শতাধিক হাঁস পালনের খামার, ছাগলের খামার ও গরুর খামার। এ ছাড়াও বাড়ির পাশে লাগানো হয়েছে দুই শতাধিক মাল্টা বারি-১ ও পাকিস্তানি গাছের চারা। এগুলো সঠিকভাবে পরিচর্যা করার জন্য রয়েছে তিনজন কর্মচারী।

এ প্রসঙ্গে আফছার চৌধুরী বলেন, ‘পাহাড়ি জনপদে দুই বছর আগে শখের বশে বাড়িটি নির্মাণ করায় পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিনিয়ত দূর-দূরান্ত থেকে অনেক ভ্রমণপিপাসু মানুষ ছুটে আসে বাড়িটিকে একনজর দেখার জন্য। সকল শ্রেণি পেশার মানুষের প্রবেশাধিকার উন্মুক্ত করা হয়েছে-যাতে মানুষ এখানে এসে কোলাহলশূন্য জীবনে প্রবেশ করে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারে।’ তিনি আরো বলেন, ‘প্রবাসে ব্যবসার পাশাপাশি এলাকার মানুষের সেবা করতে যখন সময় পাই তখনই ছুটে আসি নিজের হাতে গড়া এই বাড়িতে।’

বাড়ির ভেতরে যে তালগাছগুলো রয়েছে। সেই গাছে তালের পাতা দিয়ে সুন্দর করে তৈরি করা বাবুই পাখিদের বাঁধা বাসায় তাদের কিচিরমিচির শব্দে সকালে ঘুম ভাঙে তাঁর।



মন্তব্য