kalerkantho


বাইশারী-ঈদগড় সড়ক

ছায়াবৃক্ষ কেটে সাবাড়

মনু ইসলাম, বান্দরবান   

৭ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ছায়াবৃক্ষ কেটে সাবাড়

দুর্বৃত্তদের লোভের বলী হয়েছে বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলাধীন বাইশারী-ঈদগড় সড়কের বিশালকৃতির ছায়াবৃক্ষগুলো। পল্লী বিদ্যুৎ লাইন স্থাপনের জন্যে খুঁটি স্থাপন এবং তার সংযোজনের নামে একটি প্রভাবশালী চক্র সড়কের সৌন্দর্যবর্ধন, সড়ক পার রক্ষা এবং পথচারীদের ছায়াদানের জন্যে রোপিত ছায়াবৃক্ষগুলো কেটে লোপাট করেছে।

গত ৩ নভেম্বর থেকে বাইশারী-ঈদগড় সড়কের হাজিরপাড়া ও ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন সড়কে গাছকাটার এ মহোৎসব শুরু হয়েছে। বিদ্যুত লাইন রক্ষণাবেক্ষণের আড়ালে ইতোমধ্যে অর্ধশতাধিক ছায়াবৃক্ষ কেটে নিয়ে গেছে গাছখেকোরা।

তবে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মচারীরা বলেছেন, তাঁরা শুধু বিদ্যুৎ লাইনের পাশের বৃক্ষগুলোর ডালপালা কেটেছেন। লাইন স্থাপনের জন্যে কোনো গাছ কাটার প্রয়োজন পড়েনি। তাই তাঁরা একটি গাছও কাটেননি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হাজিপাড়ার বাসিন্দা হাজি মোকতার আহমদের নির্দেশেই শোভাবর্ধনকারী ছায়াবৃক্ষগুলো কেটে ফেলা হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, আলোচিত হাজি মোকতার আহমদ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকার সুযোগ নিয়ে এই অপকর্ম ঘটিয়েছেন। এলাকাবাসী বলেছেন, তিনি একজন প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয়রা এ ঘটনার প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, বন বিভাগের একটি বিট অফিস সংলগ্ন সড়কে প্রকাশ্যে বৃক্ষকাটার মহোৎসব চললেও বন বিভাগ বা সড়কের মালিক স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এ বিষয়ে কোনো প্রতিকারমূলক ভূমিকা রাখছেন না।

এ ব্যাপারে বন বিভাগের কোনো কর্মকর্তা মন্তব্য করতে রাজী না হলেও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা প্রকৌশলী তোফাজ্জল হোসেন ভূঁইয়া জানান, স্থানীয় এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে দুর্বৃত্ত কর্তৃক গাছ কেটে নেওয়ার বিষয়টি তাঁকে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সরজমিনে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জানতে চাইলে হাজি মোকতার নিজেকে নির্দোষ দাবী করে জানান, তিনি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দায়িত্বশীল কেউ নন। তাই তাঁর কাউকে গাছ কাটার জন্য নির্দেশ দেওয়ার প্রশ্নই উঠে না।

হাজি মোকতার বলেন, ‘এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।’

একই ধরনের মন্তব্য করেছেন পল্লী বিদ্যুতের ফোরম্যান মোহাম্মদ শামিম। তিনি জানান, গাছকাটা তাদের দায়িত্ব নয়। কারা এসব গাছ কেটেছে, তা তিনি জানেন না।

শামিম জানান, বিদ্যুত লাইন সংস্থাপনের জন্যে তার অধীনস্থ লোকজন শুধুমাত্র সড়ক পাশের গাছগুলোর ডাল-পালা কেটেছে। তাঁরা কোনো গাছ কাটেননি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুল আজিম জানান, বিষয়টি সম্পর্কে জানার পর তিনি হাতেনাতে আটকের চেষ্টা করেছেন।

তিনি বলেন, ‘রবিবার দিবাগত রাতে সড়ক পাশের গাছকাটার খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই দুর্বৃত্তরা গোড়া থেকে কাটা অবস্থায় দুটি গাছ ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।’

তিনি জানান, বিষয়টি ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলমকে অবহিত করা হলে তাঁর নির্দেশে কর্তিত গাছগুলো জব্দ করে ইউনিয়ন পরিষদের জিম্মায় নিয়ে আসা হয়েছে।

বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলম বেআইনিভাবে সড়ক পাশের বৃক্ষকর্তনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘সরকারি মালিকানাধীন বৃক্ষকর্তন একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই গাছকাটা ও গাছ লোপাটের ঘটনার সাথে কারা জড়িত তা অবশ্যই খুঁজে বের করা হবে।’

সরেজমিন দেখা গেছে, এক সময়কার ছায়া সুনিবিড় বাইশারী-ঈদগড় সড়ক বৃক্ষশূন্য হয়ে এখন উলঙ্গপ্রায় রূপ নিয়েছে।

স্থানীয় সাংবাদিক আবদুল হামিদ বলেন, ‘এই এলাকায় ছোট ছোট অপরাধ সংঘটনের পর কোনো পক্ষই উদ্যোগী না হওয়ায় পরে সেগুলো বড় বড় অপরাধে রূপ নিয়েছে। প্রকাশ্যে বৃক্ষ কর্তনের ঘটনার বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে আরো বড় ধরনের অপরাধের ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।’



মন্তব্য