kalerkantho


চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

যাত্রী-ফ্লাইট বাড়লেও সক্ষমতা বাড়েনি

চট্টগ্রামের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য এবং দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ার বিমান যোগাযোগে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। চট্টগ্রামকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণ, বে-টার্মিনাল, কর্ণফুলী টানেলসহ বড় অবকাঠামো উন্নয়নে বিদেশিদের আসা-যাওয়া এবং বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ছে। এর ফলে বিমানবন্দরেরও গুরুত্ব বাড়ছে। কিন্তু সক্ষমতাপূর্ণ হয়ে যাওয়ায় চট্টগ্রাম বিমানবন্দর এখন আর বাড়তি সুবিধা দিতে পারছে না! বিস্তারিত জানাচ্ছেন : আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম

৭ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



যাত্রী-ফ্লাইট বাড়লেও সক্ষমতা বাড়েনি

ছবি : রবি শংকর

২০০২ সালে ‘চিটাগাং এয়ারপোর্ট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’ এর আওতায় চট্টগ্রাম বিমানবন্দর সম্প্রসারণে যে অবকাঠামো নির্মাণ করা হয় তাতে সর্বোচ্চ ৬ লক্ষ যাত্রীকে সেবা দেওয়া যায়। কিন্তু বর্তমানে একই অবকাঠামোয় সাড়ে ১৫ লাখের বেশি যাত্রীকে সেবা দিতে হচ্ছে। অর্থাৎ বিমানবন্দরের সক্ষমতা অনেক আগেই পূর্ণ হয়েছে। বিমানবন্দরের কাজের পরিধি, যাত্রী ও ফ্লাইট সংখ্যা অনেকগুণ বাড়লেও সক্ষমতা বাড়েনি।

যাত্রী সংখ্যা বেড়েছে বহুগুণ : সিভিল এভিয়েশন বলছে, ২০১৪ সালে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে মোট যাত্রী আসা-যাওয়া করেছে ১০ লাখ ৬৫ হাজার জন। ২০১৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ১১ লাখ ৭০ হাজার জন। আর ২০১৬ সালে বিমানবন্দর দিয়ে মোট ১২ লাখ ৫০ হাজার যাত্রী আসা-যাওয়া করেছে। আগের বছরের তুলনায় ২০১৬ সালে যাত্রী বেড়েছে প্রায় ৮০ হাজার জন, শতাংশের হিসাবে যা সাড়ে ৬ শতাংশ।

আর ২০১৭ সালে ১৫ লাখ যাত্রী আসা-যাওয়া করেছে এই বিমানবন্দর দিয়ে। এর মধ্যে ৯ লাখই ছিল আন্তর্জাতিক যাত্রী। অর্থাৎ মোট যাত্রীর ৬০ শতাংশই হচ্ছে আন্তর্জাতিক যাত্রী। আর ২০১৬ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে যাত্রী বেড়েছে আড়াই লাখ; শতাংশের হিসাবে যাত্রী পরিবহন বেড়েছে ১৭ শতাংশ। এর আগে এত যাত্রী পরিবহন রেকর্ড নেই বিমানবন্দরটির।

চট্টগ্রাম বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক উইং কমান্ডার এ বি এম সারোয়ার ই জাহান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক রুটে বেশ কটি বিদেশি বিমান সংস্থা কার্যক্রম বন্ধ করার পরও ১৭ শতাংশ যাত্রী পরিবহন বেড়েছে। বিদ্যমান সক্ষমতা ও লোকবল দিয়েই আমরা ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি সামাল দিচ্ছি।

আন্তর্জাতিকমানে উন্নীতকরণ : শাহ আমানত বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার জন্য প্রথম উদ্যোগ নেওয়া হয় ১৯৯৬ সালে। সেই সময় কারিগরি ও আর্থিক সহায়তার জন্য জাপান সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এ চুক্তির আওতায় ৫৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে বিগত ১৯৯৮ সালের ১২ মার্চ উন্নয়নকাজ শুরু হয়। ২০০০ সালের উন্নয়নকাজ শেষের পর এটিকে ‘এম এ হান্নান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’ নামকরণ হয়। কিন্তু পরবর্তীতে বিএনপি সরকার নাম পাল্টে একে ‘শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’ নামকরণ করে। এর পর ২০১৩ সালের নভেম্বরে চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্বীকৃতি দেয় আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইকাও)

বোর্ডিং ব্রিজ রয়েছে দুটি : বিমানবন্দর ভবন থেকে বিমানে যাত্রী উঠার জন্য ব্যবহূত বোর্ডিং ব্রিজ রয়েছে দুটি। আগে এগুলো ব্যবহারই হতো না; কিন্তু বিমান সংস্থাগুলোর প্রতিযোগিতার কারণে সেগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে। কিন্তু তিনটি বিমান কাছাকাছি সময়ে নামলে আর বোর্ডিং ব্রিজ পাওয়া যায় না। ফলে যাত্রীদের বিমানবন্দর ভবন থেকে হেঁটে বিমানে উঠতে হয়। বোর্ডিং ব্রিজ বাড়ানোর আপাতত পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

আন্তর্জাতিক হলেও রাত ১১টার পর বিমান উঠানামা নেই : বছরে আড়াই লাখ যাত্রী বাড়লেও বিমানবন্দরে সুযোগ-সুবিধা ধারাবাহিকভাবে বাড়েনি। রাত ১১টার পর চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে বিমান উঠানামার সুযোগ নেই। এই কারণে মালিন্দো এয়ার চট্টগ্রামের বদলে ঢাকা থেকেই ফ্লাইট চালাচ্ছে। ব্যাগেজের জন্য কনভেয়র বেল্টের সংখ্যা মাত্র দুটি-একটি আন্তর্জাতিক রুটে আরেকটি অভ্যন্তরীণ রুটে। ফলে আন্তর্জাতিক কিংবা অভ্যন্তরীণ রুটে একসাথে দুটি বিমান নামলেই লাগেজ পেতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। বিশেষ করে বোয়িং ৭৭৭ একটি বিমান আসলেই ভোগান্তি চরমে ওঠে।

আর আন্তর্জাতিক রুটে চেক ইন কাউন্টার রয়েছে ১০টি, অভ্যন্তরীণ রুটে আছে সাতটি। একইসময়ে একাধিক বিমান অবতরণ উড্ডয়নের সময় থাকলে কাউন্টার স্বল্পতা দেখা দেয়। তখন বিমান সংস্থাগুলোকে একটি কাউন্টার যৌথভাবে ব্যবহার করতে হয়।

এ বিষয়ে বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক বলেন, ‘নতুন টার্মিনাল ভবন নির্মাণ হলে বোর্ডিং ব্রিজ, কনভেয়র বেল্ট ও লাউঞ্জ বাড়ানো হবে। সেটি নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না কবে নির্মিত হবে।’

আর রাত ১১টার পর বিমানবন্দর বন্ধ থাকার কারণ হিসেবে বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক বলছেন, ‘বিমান সংস্থাগুলোর চাহিদার ওপর নির্ভর করছে সেটি বাড়ানো হবে কিনা।’

নেই আন্তর্জাতিকমানের লাউঞ্জ : বিমানবন্দরে সাধারণ যাত্রীদের জন্য নেই কোনো লাউঞ্জ। ফলে কখনো ফ্লাইট মিস করলে তাঁদের সারারাতই বোর্ডিং কক্ষে বসেই রাত পার করতে হয়। গেল অক্টোবর মাসে এমন ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশ বিমানের যাত্রীদের ক্ষেত্রে। একটি বেসরকারি ব্যাংকের আধুনিক লাউঞ্জ থাকলেও সেই ব্যাংকের গ্রাহকদের জন্য সীমাবদ্ধ। চারটি ভিআইপি ও দুটি সিআইপি লাউঞ্জ থাকলেও তা সেগুলো সাধারণ যাত্রীরা ব্যবহার করতে পারেন না।

চার দেশি একটি বিদেশি বিমান সংস্থা : চট্টগ্রাম বিমানবন্দর দিয়ে এখন চারটি দেশি বিমান সংস্থা-রিজেন্ট এয়ার, ইউএস বাংলা এয়ারলাইনস, নভোএয়ার ও রাষ্ট্রীয় বাংলাদেশ বিমান যাত্রী পরিবহন করছে। আর বিদেশি বিমান সংস্থার মধ্যে, এখন কেবল এয়ার এরাবিয়া যাত্রী পরিবহন করছে।

চট্টগ্রাম থেকে এখন সরাসরি কলকাতা, মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর, থাইল্যান্ডের ব্যাংকক, কাতারের রাজধানী দোহা, ওমানের রাজধানী মাসকাট, সৌদি আরবের জেদ্দা ও দাম্মাম, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি, দুবাই ও শারজাহ যাওয়া যাচ্ছে। আর বাংলাদেশ বিমানে চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি কক্সবাজার এবং সব বিমান সংস্থায় ঢাকায় যাওয়া যায়। দেশের অভ্যন্তরীণ পাঁচটি বিমানবন্দরে চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি যাওয়ার সুযোগ নেই।

১৯৮৮ সালের লোকবল দিয়ে চলছে কার্যক্রম : ২০০০ সালে যখন বিমানবন্দরের অবকাঠামো নির্মাণ করে আন্তর্জাতিক মানের করা হচ্ছিল সেই বছর যাত্রীসংখ্যা ছিল আড়াই লাখ জন। এখন ১৫ লাখ যাত্রীকে একই লোকবল, যন্ত্রপাতি অবকাঠামো দিয়ে সেবা দিতে হচ্ছে। বিমানবন্দরের কাজের পরিধি, যাত্রীসংখ্যা এবং ফ্লাইট সংখ্যা পূর্বের তুলনায় বাড়লেও চাহিদা অনুযায়ী লোকবল বাড়েনি। ১৯৮৮ সালের অর্গানোগ্রামের লোকবল দিয়ে এই সেবা চলছে। বাইরে ভাবসাব থাকলেও ভেতরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নিশ্ছিদ্র নয়।

গ্রাউন্ড সাপোর্টে যন্ত্রপাতি অপর্যাপ্ত, যন্ত্রপাতির ৩৭ শতাংশের বেশি যন্ত্রপাতি আংশিক ব্যবহার উপযোগী এবং ২৪ শতাংশের বেশি যন্ত্রপাতি ব্যবহারের উপযোগী নয়, অনেক সময় একটি বিমানের সরঞ্জাম দিয়ে দুটি বিমানকে সেবা দিতে হয়, ফলে যাত্রীসেবা কার্যক্রমে ধীর গতি দেখা যায়।

শহরের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগের পথ নেই : বিমানবন্দর থেকে শহরে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগের জন্য নেই রেল ও বাস। ফলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পৌঁছতে বিমানে সময় লাগে ৩০ মিনিট; আর চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে শহরের জিইসি মোড়ে মাত্র ১৮ কিলোমিটার দূরত্বে পৌঁছতে সময় লাগে দেড় ঘণ্টা। তবে সম্প্রতি চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে চট্টগ্রাম শহর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মিত হলে শহরের সঙ্গে বিমানবন্দরের যোগাযোগ একেবারে সহজ ও দ্রুত হবে।

তবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও রেল কর্তৃপক্ষ চাইলে বিমানবন্দরের সঙ্গে শহরের সরাসরি রেল যোগাযোগ ডেমু ট্রেন দিয়ে চালু করতে পারে। কেননা জ্বালানি তেল পরিবহনের জন্য আগে থেকেই একটি রেললাইন চট্টগ্রাম শহর থেকে বন্দরের পাইলট জেটি পর্যন্ত পৌঁছেছে। বাকি দুই কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণ করলেই বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছানো সম্ভব। কিন্তু এই নিয়ে কারও কোনো উদ্যোগ নেই।

চালু হয়েছে ত্রি ডি রাডার : ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ও জাইকার অনুদানে জাপানের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সুমিতোমো করপোরেশন অত্যাধুনিক থ্রি-ডি রাডার স্থাপন করেছে। ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে এটি স্থাপনের কাজ শুরু হয়। শেষ হয়েছে গত বছর ৫ এপ্রিল। বর্তমানে এ রাডারের ট্রাফিক মনিটরিং চলছে। এটি স্থাপনে ব্যয় হয়েছে ২০০ কোটি টাকা। এ রাডারের মাধ্যমে বিমানবন্দর থেকে ২০০ নটিক্যাল মাইলজুড়ে বিমান চলাচল নির্বিঘ্ন, নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

আধুনিকায়নের উদ্যোগ : গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠা চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আধুনিকায়নের উদ্যোগের কথা নিশ্চিত করেছেন বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক উইং কমান্ডার এ বি এম সারোয়ার ই জাহান। তিনি বলেন, বিমান রাখার জন্য নতুন টারমার্ক নির্মাণ শেষ হবে আগামী ডিসেম্বরে। সেটি নির্মিত হলে চারটি বড় পরিসরের বোয়িং ৭৭৭ বদলে ১০টি রাখা যাবে। 

এদিকে বিমানবন্দরের রানওয়ের শক্তি বৃদ্ধিকরণের (ওভারলে) জন্য ৫৪০ কোটি ৫২ লাখ টাকার একটি প্রকল্পে ইতোমধ্যে ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয়েছে, ২০১৯ সালের প্রথমে কাজ শুরু হবে।

বর্তমান বিমানবন্দরে রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৯৬৬৫ ফুট যেখানে সব বড় বিমান উঠানামা করতে পারে সহজেই। ভবিষ্যতে রানওয়ে ৪শ ফুট সমপ্রসারণের পরিকল্পনা আছে। প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবন ও কার্গো ভবন সমপ্রসারণের পরিকল্পনা সিভিল এভিয়েশনে অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। 

ফ্লাইট কার্যক্রম বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে চলছে প্যারালাল ট্যাক্সিওয়ে নির্মাণের জন্য ফিজিবিলিটি স্টাডি। কাজ করছে বুয়েটের বিশেষজ্ঞ টিম। প্যারালাল ট্যাক্সিওয়ে নির্মাণে প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্ভাব্য সময় ধরা হয়েছে ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।

 

সব সুবিধা নিশ্চিত হলে হাব বানাবে রিজেন্ট এয়ার

 

সালমান হাবিব  ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর, রিজেন্ট এয়ার

আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সব সুবিধা নিশ্চিত হলে রিজেন্ট এয়ারওয়েজ চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে হাব বানিয়ে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে যাত্রী পরিবহন করবে বলে জানিয়েছেন এয়ারলাইনসটির ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর সালমান হাবিব। তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম থেকে প্রতিবছর যে হারে যাত্রী বাড়ছে তাতে চট্টগ্রামকে হাব বানানো সম্ভব।’ উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা চট্টগ্রাম থেকে ব্যাংকক যাচ্ছি। সেখানে প্রচুর ট্রানজিট যাত্রী আছে যারা ব্যাংকক হয়ে বিভিন্ন দেশে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যেও প্রচুর ট্রানজিট যাত্রী আছে কিন্তু অনেকে ঢাকা হয়েই যাচ্ছে। চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে হাব বানানো গেলে সবযাত্রী চট্টগ্রাম থেকেই যেতো। ঢাকা বিমানবন্দরের ওপর চাপ কমতো, সময়ও ঢাকার চেয়ে কম লাগতো।’

সালমান হাবিব বলেন, ‘বিমানবন্দরে দুটি বোর্ডিং ব্রিজ আছে, পিক আওয়ারে আমরা শত চেষ্টা করলেও সেগুলো পাই না। যাত্রীরা হেঁটে বিমানে উঠে। যে হারে যাত্রী বাড়ছে বোর্ডিং ব্রিজ অন্তত ৬টি করা উচিত।’

তিন আরো বলেন, ‘স্বয়ংসম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে উঠার জন্য এখন চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে বিমান রাখার জন্য একটি হ্যাঙ্গার নির্মাণ, বিমানে খাবার সরবরাহের জন্য ক্যাটারিং সার্ভিস তৈরি, আমদানি-রপ্তানি পণ্য রাখার জন্য একটি কার্গো কমপেক্স এবং বিমান রাখার পার্কিং স্পেসটা আরো একটু বড় করা এবং একটি প্যারালাল রানওয়ে নির্মাণ করতে হবে। এতে পণ্য আসা-যাওয়া যেমন বাড়বে তেমনি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটও বাড়বে।’

এসব সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে চট্টগ্রামকে এভিয়েশনের ‘একটি আঞ্চলিক হাব’ করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন এভিয়েশন খাতের তরুণ এই উদ্যোক্তা। সালমান হাবিব বলেন, ‘রিজেন্টের অনেক ফ্লাইটকে এখন ঢাকায় যাওয়ার দরকার হয় না। কিন্তু সুবিধা না থাকায় বাধ্য হয়ে ঢাকায় গিয়ে থাকতে হয়। সুবিধা নিশ্চিত করলে সেগুলো চট্টগ্রাম থেকেই ফ্লাইট করা সম্ভব, আর বিদেশি বিমান সংস্থাগুলোই সে সুবিধা নেবে।



মন্তব্য