kalerkantho


রাঙ্গুনিয়ায় গোডাউন সেতুতে ঝুঁকি নিয়ে যান চলাচল

কর্ণফুলী নদীর রাঙ্গুনিয়া অংশে নির্মিত গোডাউন সেতুর দক্ষিণাংশের একটি স্প্যানের ঢালাইয়ের উপরি অংশের ওয়েরিং কোর্স ওঠে গেছে। সেতুটির স্প্যানের কয়েকটি জয়েন্ট প্লেটবারও ওঠে যাচ্ছে। কয়েকটি জয়েন্টে প্লেটবার ছাড়াই চলছে ভারী যানবাহন। ফলে ২০০৭ সালে চালু হওয়া সেতুটি দিয়ে যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠেছে। প্রতিবেদনে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন : জিগারুল ইসলাম, রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম)

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



রাঙ্গুনিয়ায় গোডাউন সেতুতে ঝুঁকি নিয়ে যান চলাচল

দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার গুরুত্বপূর্ণ চার ইউনিয়নের বাসিন্দা ও বান্দরবান জেলার বিকল্প সড়ক হিসেবে যান চলাচলের একমাত্র মাধ্যম গোডাউন সেতু। এ অবস্থায় নিয়মিত ভারী যানবাহন চলাচল করলে সেতুটি আরো ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। সড়ক ও জনপথ বিভাগের রাজস্ব খাতের অর্থায়নে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ গোডাউন সেতুটির দ্বিতীয় প্যাকেজের কাজ করেছে বেক্সিমকো কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। বছরখানেক আগে গোডাউন সেতুটি অ্যাপ্রোচ সড়কসহ সওজ বিভাগ এলজিইডিকে হস্তান্তর করেছে। বর্তমানে সেতুর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। সেতুর উপরি অংশের ঢালাই দেওয়ার পরদিনই ওয়েরিং কোর্স ঢালাই করার নিয়ম থাকলেও তা না মেনে সম্ভবত কিছুদিন পরে ওয়েরিং কোর্স ঢালাইয়ের কাজ করায় ওয়েরিং কোর্স নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রকৌশলী দিদারুল আলম। নির্মাণকাজে সেতুটিতে নিম্নমানের সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। ফলে কয়েক বছর না যেতেই ওয়েরিং কোর্স ওঠে গিয়ে যানবাহন চলাচলে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠেছে। সেতুর স্প্যানের জয়েন্টেও ব্যবহার করা হয়েছে নিম্নমানের প্লেটবার। ফলে কয়েকটি প্লেটবার ইতোমধ্যে ওঠে গেছে।

তবে রাঙ্গুনিয়া এলজিইডি অফিস সূত্র জানিয়েছে গোডাউন সেতুর ওয়েরিং কোর্স তুলে সেখানে দ্রুত কার্পেটিং করার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এবং দ্রুতই তা বাস্তবায়ন করা হবে। 

জানা গেছে, ১৯৯৫ সালের ৩ মার্চ এই সেতুর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়। রাঙ্গুনিয়ার তৎকালীন বিএনপি নেতা সাবেক এমপি নুরুল আলমের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় রাঙ্গুনিয়ার মূল ভূখণ্ডের সাথে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার সেতুবন্ধনের জন্য বিএনপি সরকারের তৎসময়ের যোগাযোগমন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ গোডাউন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেন। তৎকালীন সরকারের রাজস্ব খাতের প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩০৫ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৭ দশমিক ৬ মিটার প্রস্থের গোডাউন সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১৯৯৫ সালের এপ্রিল মাসে। কনকর্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেড এই সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করলেও ১৯৯৬ সালে সরকার পরিবর্তন হওয়া ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে এই সেতু নির্মাণ করতে লাগে ১২ বছর। প্রথমে সেতুটি পিলারের উপর লোহার প্লেট দিয়ে নির্মাণ করার পরিকল্পনা থাকলেও পরে নির্মাণসামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে সেতুর পিলার নির্মাণের পর কাজ বন্ধ থাকে। এরপর সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা মরহুম এম সাদেক চৌধুরী নির্মিত পিলারের উপরে প্লেট বাদ দিয়ে ডিজাইন পরিবর্তন করে আরসিসি সেতু নির্মাণের জন্য সরকারের সংশ্লিস্ট দপ্তরে তদবির করেন। এর পর  নির্মাণসামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ায় সেতু নির্মাণে ব্যয় হয় প্রায় সাড়ে ১৯ কোটি টাকা। মূলত কর্ণফুলী নদীর উপর নির্মিত এটিই তৃতীয় সেতু। ৮টি পিলার স্প্যান দিয়ে নির্মিত সেতুটির দ্বিতীয় অংশের কাজ করে বেক্সিমকো কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। ২০০৭ সালে এটি চলাচলে জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. আবদুল্লাহ বলেন, ‘এই সড়ক দিয়ে প্রায়ই চলাচল করি। বেশ কিছুদিন ধরে দেখা যাচ্ছে গোডাউন ব্রিজের জয়েন্টের প্লেট বার ওঠে যাচ্ছে। অনেক অংশে প্লেট বার নেই। তাছাড়া ব্রিজের অনেকাংশে পিচ ওঠে গেছে। কর্তৃপক্ষ নজর দিলে হয়ত ব্রিজটি ঝুঁকিমুক্ত হবে।’

চট্টগ্রাম সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী শম্ভু তালুকদার জানিয়েছেন, গোডাউন সেতু সওজ রাজস্ব খাতের অর্থায়নে নির্মাণ করলেও বর্তমানে অ্যাপ্রোচ রোডসহ সেতুটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরকে হস্তান্তর করা হয়েছে। এখন সেটির দেখভালের দায়িত্ব তাদের।

বেক্সিমকো কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের তৎকালীন প্রজেক্ট ম্যানেজার ইঞ্জিনিয়ার ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘গোডাউন সেতু নির্মাণ শেষে এক বছর মেনটেইনেন্সের দায়িত্ব ছিল আমাদের। ২০০৭ সালে সড়ক ও জনপথ বিভাগকে সেতুটি বুঝিয়ে দেওয়া হয়।’ আরসিসি ঢালাইয়ের পর পরই ওয়েরিং কোর্স ঢালাই করা হয়েছে দাবি করেন তিনি।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. দিদারুল আলম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে ব্রিজের ওয়েরিং কোর্স ফেটে গেছে। এলজিইডির বিশেষজ্ঞ টিম গিয়ে সেতুটি দেখেছে।’

এটি সংস্কারের জন্য প্রাক্কলন ব্যয় ধরে প্রকল্প তৈরি করে পাঠানো হয়েছে। শিগগিরই টেন্ডার হবে এবং গোডাউন সেতুতে ওয়েরিং কোর্স আর নয় এবার কার্পেটিং ঢালাই করে সেতুটি চলাচলের উপযোগী রাখা হবে বলে তিনি জানান।

 



মন্তব্য