kalerkantho


সেলাই মেশিনে স্বাবলম্বী

দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল করার লক্ষে সীতাকুণ্ডে সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা ইপসা দুই ধাপে ৩২ নারীকে সেলাই প্রশিক্ষণ দিয়েছে। পরে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয় একটি করে সেলাই মেশিন। সেলাই মেশিন পেয়ে আবেগাপ্লুত পারভীন আক্তার বলেন, ‘ইপসা প্রথমে আমাদের সেলাই কাজ শিখিয়েছে। এরপর মেশিন দিল। কাজ শিখতে পারায় এখন আর কোনো সমস্যা হবে না। আমরা বাড়িতেই বসে মেশিনে প্রতিবেশীদের কাপড় সেলাই করে সংসারের আয় বাড়িয়ে সচ্ছলতা ফেরাতে পারব।’

সৌমিত্র চক্রবর্তী, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)   

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



সেলাই মেশিনে স্বাবলম্বী

সীতাকুণ্ডে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে স্বাবলম্বী করতে ৩২ নারীকে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। সম্প্রতি উপজেলা সদরস্থ ইপসার বীর মুক্তিযোদ্ধা মফিজুর রহমান মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে তাঁদের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয়। এ সময় সেলাই মেশিন পেয়ে এটি তাঁদের স্বাবলম্বী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা যায়, দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধির লক্ষে সীতাকুণ্ডের সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা ইপসা দুই ধাপে ৩২ জন নারীকে সেলাই প্রশিক্ষণ প্রদান করে। অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের কর্মহীন এসব নারী সেলাই মেশিন চালনায় দক্ষতা অর্জন করার পর বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন (বিএনএফ) এর সহায়তায় সম্প্রতি ইপসা মানবসম্পদ কার্যালয়ে তাঁদেরকে সেলাই মেশিন প্রদান উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার তারিকুল আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন মুরাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহেদ হোসেন নিজামী, সীতাকুণ্ড প্রেস ক্লাবের সভাপতি এম সেকান্দর হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক সৌমিত্র চক্রবর্তী, সীতাকুণ্ড পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক রঞ্জিত সাহা, সীতাকুণ্ড পৌরসদর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. বেলাল হোসেন, ইপসার এরিয়া ম্যানেজার দিদারুল আলম, রেডিও সাগর গিরি প্রযোজক সঞ্জয় চৌধুরী প্রমুখ।

রেডিও সাগর গিরির ফোকালপারসন শাহ্ সুলতান শামীমের সভাপতিত্বে ও ইপসা ডেভেলপমেন্ট রিসোর্স সেন্টার-ডিআরসিসির ফোকালপারসন সাদিয়া তাজিনের সঞ্চালনায় সেলাই মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার তারিকুল আলম।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তারিকুল আলম বলেন, ‘বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। এর মধ্যে আবার বেশির ভাগই গৃহবধূ। যদিও গৃহবধূরা যে কাজ করেন তা কোনো পুরুষের পক্ষে করা সম্ভব না। তবু তাঁদের কাজের পারিবারিক শ্রীবৃদ্ধি হলেও দেশের অর্থনৈতিক মুক্তি সেভাবে হয়নি। কিন্তু এখানে যাঁরা সেলাই মেশিন চালনার প্রশিক্ষণ নিয়ে দক্ষতা অর্জন করেছেন তাঁরা কিন্তু এখন দেশের একজন দক্ষ জনবলে বা সম্পদে পরিণত হয়েছেন। এখন আপনি অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীন হলেন। আপনি আয় করবেন। সেই আয়ে সংসারে সচ্ছলতা ফিরবে। এর প্রভাব পড়বে দেশের অর্থনীতিতেও। এখন থেকে পরিবারের একটি সিদ্ধান্ত আপনিও দিতে পারবেন, এটাই বাস্তবতা।’

ইউএনও বলেন, ‘একটা সময় ছিল যখন পুরুষরা যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিত আর নারীদের বলত এটা তোমাদের বিষয় না! এভাবেই তাঁদেরকে গুরুত্বহীন করে রাখা হয়েছিলো। কিন্তু আজ সময় বদলেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাংলাদেশের নারীরা সবদিক থেকেই এগিয়ে গেছেন। পড়াশোনা থেকে কর্মস্থল সর্বত্রই নারীরা দৃষ্টান্ত রাখছেন। এই সেলাই মেশিনটি আপনারা যেন নিয়ে গিয়ে ঘরে না রেখে দেন সেটাই আমাদের চাওয়া। নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে আপনাদের দক্ষ করে তোলা হয়েছে। এটি আপনাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। আপনারা সেই বিশ্বাস নিয়ে স্বাবলম্বী হয়ে পরিবারের মুখে হাসি ফোটান। তাহলে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র উপকৃত হবে।’

বিশেষ অতিথি প্রেস ক্লাবের সভাপতি এম সেকান্দর হোসাইন, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৌমিত্র চক্রবর্তী বলেন, আমাদের সংবিধানের ২৭ ধারায় নারীর আইনগত সমানাধিকারের কথা বলা হয়েছে। তাই দেশের সকল নারীকে স্বাবলম্বী করার মাধ্যমে ক্ষমতায়ন করা সময়ের দাবি। ইপসার এ ধরনের উদ্যোগ সরকারের কাজকে এগিয়ে নিচ্ছে।

এনজিও সংস্থা ইপসার সকল কর্মকর্তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে তাঁরা ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার জন্য অনুরোধ জানান। তাঁরা যাঁদেরকে এসব সেলাই মেশিন প্রদান করা হচ্ছে তাঁরা যথাযথভাবে এটি ব্যবহার করছেন কিনা তদারকি করার পরামর্শ দেন।

এ বিষয়ে ইপসার ফোকালপারসন শাহ্ সুলতান শামীম বলেন, ‘ইপসা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে নারীদের স্বাবলম্বী করতে কাজ করছে। তাঁদেরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া থেকে শুরু করে সেলাই মেশিন ব্যবহার নিশ্চিত করতে আমাদের একাধিক টিম বিষয়টি নজরদারিতে রাখে।’

এদিকে সেলাই মেশিন পেয়ে আবেগাপ্লুত পারভীন আক্তার বলেন, ‘ইপসা প্রথমে আমাদেরকে সেলাই কাজ শিখিয়েছে। তারপর মেশিন দিয়েছে। কাজ শিখতে পারায় এখন কাজ করতে কোনো সমস্যা হবে না। আমরা বাড়িতেই মেশিনে প্রতিবেশীদের কাপড় সেলাই করে সংসারের আয় বৃদ্ধি করে সচ্ছলতা ফেরাতে পারব। এজন্য ইপসার সবার কাছে আমরা কৃতজ্ঞ।’

 



মন্তব্য