kalerkantho


গ্রামগুলোর সমস্যা নিয়ে চিন্তা করারও কি কেউ নেই

আবু দাউদ, খাগড়াছড়ি   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



গ্রামগুলোর সমস্যা নিয়ে চিন্তা করারও কি কেউ নেই

খাগড়াছড়ি শহরের খুব কাছের কয়েকটি পাড়ার নাম থৈঅংগ্যপাড়া, বড়পাড়া ও যৌথ খামার। এসব পাড়া যেন অনেকটা আলোর নিচে অন্ধকার। নাজুক গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগ এবং পানীয় জলের সংকটে কষ্ট পাচ্ছেন এখানকার কয়েক হাজার মানুষ। পিছিয়ে পড়া গ্রামগুলোর সংকট নিয়ে ভাববারও যেন কেউ নেই! যুগের পর যুগ ধরে নাগরিক অধিকারবঞ্চিত মানুষগুলোর উন্নয়নে এগিয়ে আসার আকুতি বাসিন্দাদের। অবশ্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, এসব এলাকার উন্নয়নে প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়ক পথে ধর্মঘর দিয়েই যেতে হয় এলাকাগুলোতে। নামে ‘পাড়া’ মনে হলেও প্রকৃত অর্থে এগুলো বড় বড় গ্রামের মতো। খাগড়াছড়ি জেলা সদরের গোলাবাড়ি ইউনিয়নের অন্তর্গত থৈঅংগ্যপাড়া, বড়পাড়া ও যৌথ খামার এলাকায় হাজারের বেশি পরিবারের বসবাস। শহরের খুব কাছের হলেও যেন দূরগ্রাম। প্রত্যন্ত পল্লী।

ব্রিক সলিং রাস্তা নিয়ে প্রবেশ করলেও ভিতরের গ্রামীণ সড়কগুলোর যাচ্ছেতাই অবস্থা। সংকীর্ণ পাহাড়ি মেঠো পথ, জমির আইল-ই মানুষের চলাচলের একমাত্র অবলম্বন। বর্ষা এলে কষ্টের সীমা থাকে না। স্কুল-কলেজে যেতে শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়ে। উত্পাদিত কৃষিপণ্য নিয়ে বাজারে আসতে দুর্ভোগ যে কত, তা বলা মুশকিল। কেবল নাজুক গ্রামীণ রাস্তাঘাটই নয়; সরকারি সুযোগ-সুবিধাও পৌঁছে না এসব এলাকায়। ভোট চাইতে জনপ্রতিনিধিরা আসলেও ভোটের পর খোঁজও নেন না।

এলাকায় খাবার পানির তীব্র সংকট। শুষ্ক ও বর্ষা; সব মৌসুমেই পানির অভাব। বর্ষায় কুয়ার পানিও পাওয়া যায় না। অনেকে বাধ্য হয়েই ছড়ার দূষিত পানি পান করে রোগাক্রান্ত হন।

এলাকার জুমিয়া বাসিন্দা অংগ্যজাই মারমা বলেন, ‘যুগের পর যুগ ধরে এমন সংকটেই আছি।

জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচিত হওয়ার পর উধাও। কেউই খোঁজ রাখেন না। ঠিকঠাক মতো ভিজিডি, ভিজিএফ এর কার্ডও পাওয়া যায় না। সরকারি অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও পৌঁছে না এসব গ্রামে।’

আরেক গ্রামবাসী অনিক ত্রিপুরা জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সোলার পাচ্ছেন না গ্রামের মানুষ। গৃহবধূ ক্রাজাইরী মগের অভিযোগ সরকারিভাবে টিউবওয়েল বসানো হয় না যৌথ খামার এলাকায়। ফলে ছড়া-খাল ও কুয়ার পানিই তাঁদের অবলম্বন। 

এ প্রসঙ্গে গোলাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জ্ঞানরঞ্জন ত্রিপুরা বলেন, ‘নতুন বছরের বাজেটে গ্রামীণ সড়ক ও পানীয় জলের ব্যবস্থা করতে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা আশ্বস্ত করলেন ২০২১ সালের মধ্যে খাবার পানির সংকট ধীরে ধীরে কেটে যাবে।’



মন্তব্য