kalerkantho


বাঁশবাড়িয়া বেড়িবাঁধ

ভেঙে পড়া স্লুইস গেট নিয়ে আতঙ্কে এলাকাবাসী

সৌমিত্র চক্রবর্তী, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)   

৮ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



ভেঙে পড়া স্লুইস গেট নিয়ে আতঙ্কে এলাকাবাসী

... ভাঙন সৃষ্টির পর বার বার জানানোর পরও বেড়িবাঁধ রক্ষায় পদক্ষেপ নেয়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড। ফলে চলমান বর্ষায় জলোচ্ছ্বাসসহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে এখানে জানমালের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা ...

 

উপজেলার বাঁশবাড়িয়ায় সমুদ্রোপকূলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবি) বেড়িবাঁধের একটি স্লুইস গেট ভেঙে গেছে। এতে পার্শ্ববর্তী গ্রামে সাগরের লোনাপানি ঢুকে পড়েছে। এতে অতিষ্ঠ এখানকার ২০-২৫ হাজার মানুষের জীবন। খবর পেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য দিদারুল আলম ও ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বারসহ অন্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তাঁরা এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাগাদা দিলেও সংশ্লিষ্টরা নীরব বলে অভিযোগ ওঠেছে। ফলে চলমান বর্ষায় জলোচ্ছ্বাসসহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে এখানে জানমালের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন

স্থানীয়রা।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের মধ্য বাঁশবাড়িয়া এলাকার চান সিকদার খালের উপর নির্মিত পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্লুইস গেটের চারপাশে কিছুদিন আগে বড় আকারের ফাটল সৃষ্টি হয়।

এতে যেকোনো সময় পুরো স্লুইস গেট ভেঙে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিলে এলাকাবাসী বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. শওকত আলী জাহাঙ্গীরকে জানান। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ত্বরিত ব্যবস্থা না নিলে পুরো স্লুইস গেট বিলীন হয়ে যাবে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে অবগত করেন।

এরপর থেকে দিন দিন ফাটল বড় হতে শুরু করলে সর্বশেষ চারদিন আগেও ইউপি চেয়ারম্যান বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীকে জানান। কিন্তু এরপরও তাঁরা বিষয়টি আমলে নেননি। এ ঘটনা জানতে পেরে গত ২৭ জুলাই ঘটনাস্থলে যান স্থানীয় সংসদ সদস্য দিদারুল আলম। তিনিও বিষয়টি নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে স্লুইস গেট রক্ষায় পদক্ষেপ নিতে বলেন। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের কেউই সেখানে যাননি। এদিকে ২৮ জুলাই সকাল থেকে বাঁধটি ভাঙতে ভাঙতে এক পর্যায়ে স্লুইস গেটটি ভেঙে যায়।

বাঁশবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা কৃষক নুরুল আলম বলেন, ‘স্লুইস গেটটি দিয়ে সাগর থেকে জোয়ারের পানি ভেতরে আসা-যাওয়া করত। তখন অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন কিংবা বের করতে এই গেট ব্যবহার হতো। কিন্তু কিছুদিন আগে স্লুইস গেটের ভেতরের অংশে ফাটল সৃষ্টি হয় এবং তা ক্রমশ বড় হতে থাকলে আমরা মেম্বার-চেয়ারম্যানকে জানাই। তাঁরা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানান বিষয়টি। কিন্তু পাউবোর কেউ এখনো আসেননি।’

তিনি জানান, ২৮ জুলাই বেড়িবাঁধসহ পুরো স্লুইস গেটটিই ভেঙে যায়। এখন এলাকাবাসী ভীষণ দুশ্চিন্তায়। কারণ, এখন বর্ষা মৌসুম। যেকোনো সময় বড় ধরনের জলোচ্ছ্বাস কিংবা সামুদ্রিক ঝড় আসতে পারে। আর তা হলে স্লুইস গেট না থাকায় এ পথে স্রোতের মতো পানি গ্রামে প্রবেশ করে জানমালের চরম ক্ষতি হবে। তিনি দ্রুত স্লুইস গেটটি সংস্কার ও বাঁধ পুনঃনির্মাণের দাবি জানান।

জানতে চাইলে বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শওকত আলী জাহাঙ্গীর বলেন, ‘বেড়িবাঁধসহ স্লুইস গেটে ফাটল সৃষ্টি হয় আরো বেশ কয়েকদিন আগে। অবস্থা এমন যে স্লুইস গেটটির কারণে উত্তর বাঁশবাড়িয়া, দক্ষিণ

বাঁশবাড়িয়া, বাড়বকুণ্ডের দক্ষিণ অংশ অর্থাৎ নড়ালিয়া এলাকার অন্তত ২০-২৫ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই ফাটল দেখে বেড়িবাঁধ ও স্লুইস গেট রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার তারেকের কাছে পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ জানাই। কিন্তু তিনি বা তাঁর কোনো কর্মকর্তা একবারের জন্যও ঘটনাস্থলে আসেননি।’

সীতাকুণ্ডের সংসদ সদস্য দিদারুল আলম এমপি ঘটনাস্থলে এসে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং ঘটনাস্থল থেকে পাউবির নির্বাহী প্রকৌশলীকে ফোন করে ব্যবস্থা নিতে বলেন। কিন্তু ব্যবস্থা না নেওয়ায় ধীরে ধীরে ভেঙে পুরো বেড়িবাঁধসহ স্লুইস গেট সাগরে পড়ে যায়।

সংসদ সদস্য দিদারুল আলম বলেন, ‘বেড়িবাঁধ ও স্লুইস গেট দুটিই জনগণের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো ভেঙে পড়ছে শুনে আমি সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি দেখেছি এবং এটি দ্রুত রক্ষার জন্য ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীকে বলেছিলাম। কিন্তু তিনি যাননি। শুনেছি স্লুইস গেটটি পড়ে গেছে।’

এ প্রসঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জুলফিকার তারেক বলেন, ‘আমাকে স্থানীয় এমপি মহোদয় ও ইউপি চেয়ারম্যান জানানোর সেখানে লোক পাঠিয়েছি। শিগগিরই এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

 

 

 

 



মন্তব্য