kalerkantho


মঞ্চনাটকে অভিনয়ে আনন্দ পান মালিহা

আসাদুজ্জামান দারা, ফেনী   

১ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



মঞ্চনাটকে অভিনয়ে আনন্দ পান মালিহা

মঞ্চনাটকে অভিনয় করে আনন্দ পান মালিহা। সম্প্রতি ফেনী জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে হয়ে গেল দুই দিনের সাংস্কৃতিক উৎসব। উৎসবে নাট্যাংশ পর্বে ফেনীর পূবালী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র পরিবেশন করে ড. সেলিম আল দীনের ‘বাসন’ নাটকের অংশবিশেষ। এতে অভিনয় করে দর্শকদের প্রশংসা পান ফেনীর তরুণ নাট্যশিল্পী মালিহা।

শুধু তাই নয়, মাসখানেক আগে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে হয়ে গেল পূবালীর নাটক বিভাগের প্রযোজনা ‘কারাগার’ এর দ্বিতীয় প্রদর্শনী। নাটকের গুরুত্বপূর্ণ ‘কাঞ্চি’ চরিত্রে অভিনয় করে নাট্যদর্শক ও বোদ্ধাদের মনোযোগ আকর্ষণে সক্ষম হয় মালিহা। দর্শকরা অভিনন্দন জানায় তাঁকে।

মালিহার পুরো নাম মালিহা আক্তার। এবার ফেনী সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছে।

তাদের পৈতৃক বাড়ি বাগেরহাট জেলার মোড়লগঞ্জের নিশানবাড়িয়ায় হলেও বহু বছর ধরে পরিবারটি ফেনী শহরের সহদেবপুরে বসবাস করছে। বাবা শিহাব হাওলাদার একজন ঠিকাদার। মা আয়শা সিদ্দিকা গৃহিণী। চার ভাই বোনের মধ্যে তৃতীয় মালিহা। বোন জান্নাতুল ফেরদৌস মৌসুমী, ভাই আবু বকর সিদ্দিক শুভ ও আরেক ভাই ইব্রাহিম হাওলাদার-সবাই পড়াশোনা করছে।

মালিহা জানায়, ২০০৬ সালে পূবালীতে আবৃত্তি ও নাচের মাধ্যমে ফেনীর সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তার পদচারণা শুরু।

পরবর্তীতে ২০০৮ সালে যোগ দেয় একই সংগঠনের নাটক বিভাগে। এ পর্যন্ত এ দলের হয়ে বেশ কয়েকটি নাটকে অভিনয় করেছে সে। এর মধ্যে রয়েছে ‘বিচার চাই’, ‘চণ্ডালিকা’ (গীতি নৃত্যনাট্য), ‘নকশী কাঁথার মাঠ’ (গীতি নৃত্যনাট্য), ‘মুজিব মানে মুক্তি’ (পথনাটক), ‘বাসন’, ‘অন্ধকারের শেষ কোথায়’, ‘অপুর কথা’ ইত্যাদি। অতিসম্প্রতি পূবালীর ২৫ তম প্রযোজনা ‘কারাগার’ নাটকে একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের প্রশংসা পায় মালিহা।

বেশকিছু সাফল্যও রয়েছে তার ঝুলিতে। ২০১৭ সালে জাতীয় শিশু নাট্য উৎসবে অংশ নিয়ে ‘মঞ্চকুঁড়ি’ পদক অর্জন করে সে। জাতীয় শিশু-কিশোর নাট্য উৎসবে সুজন রায়ের নির্দেশনায় ‘অবহেলা’ নাটিকায় অংশ নেয় সে। ফেনী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও ফেনী শিশু একাডেমিতে অনুষ্ঠিত শিশু নাট্য প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে শ্রেষ্ঠ শিল্পীর পুরস্কার অর্জন করে সে। একাধিকবার বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায়ও পুরস্কার অর্জন করে মালিহা।

কালের কণ্ঠের সঙ্গে আলাপকালে মালিহা জানায়, পরিবারের সবার উৎসাহে নাটকে কাজ করা। মঞ্চে কাজ করে খুব আনন্দ পায় সে। প্রতিটি নাটক শেষ হওয়ার পর দর্শকরা যখন হাততালি দিয়ে অভিনন্দন জানায়, তখন অনেক ভালো লাগে।

খুশিতে মন ভরে যায়। সুযোগ পেলে আরো অনেক কাজ করতে চায় সে। মালিহা বলে, ‘শুরুর দিকে নাচ ও আবৃত্তি নিয়ে কাজ করলেও এখন মঞ্চে অভিনয় করতেই বেশি ভালো লাগে। সাংস্কৃতিক অঙ্গনে কাজ করতে গিয়ে মায়ের কাছ থেকেই বেশি প্রেরণা পায় মালিহা।’

মালিহার মা আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, ‘মেয়ের আগ্রহের কারণে ওকে মঞ্চে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছি। আমি মনে করি, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সাথে থাকলে ছেলে-মেয়েরা বিপথে যাবার কোনো সুযোগ পায় না।’ তিনি জানান, যতটুকু সম্ভব মালিহাকে উৎসাহ ও সময় দেওয়ার চেষ্টা করি। পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও এ ব্যাপারে আগ্রহী।

ফেনীর পূবালী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের প্রধান সমন্বয়কারী সমরজিৎ দাশ টুটুল বলেন, ‘মালিহা আমাদের নাটক বিভাগের একজন পরিশ্রমী ও একনিষ্ঠ কর্মী। বয়সে তরুণ হলেও সে খুবই দায়িত্বশীল। এ অল্প সময়ে বেশ কয়েকটি নাটকে কাজ করার সুযোগ পেয়েছে সে।’ চেষ্টা করলে এবং চর্চা চালিয়ে গেলে মালিহা আরো ভালো করতে পারবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

 



মন্তব্য