kalerkantho


‘বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল’

... সীতাকুণ্ড সরকারি মহিলা কলেজ ছাত্রীদের বর্ষা নিয়ে নাচ-গানে সাজানো এ অনুষ্ঠান উপভোগ করেন হাজারো দর্শক ...

সৌমিত্র চক্রবর্তী, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)   

১ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০




‘বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল’

সীতাকুণ্ড সরকারি মহিলা কলেজে প্রতিবছরের মতো এবারও সাড়ম্বরে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ষা ঋতুভিত্তিক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ঋতুর রানি বর্ষাকে স্বাগত জানিয়ে ২৫ জুলাই কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের নাম রাখা হয় ‘বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল’। প্রকৃতিপ্রেমী কবির এ মনোমুগ্ধকর পঙিক্তর মতোই অনুষ্ঠানটিও ছিল প্রাণবন্ত-হৃদয়স্পর্শী।

কলেজ ছাত্রীদের বর্ষাভিত্তিক নাচ, গানে সাজানো এ অনুষ্ঠান মুগ্ধ হয়ে উপভোগ করেন সবাই। বেলা ১১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত এ অনুষ্ঠান চলে। শুরুতেই রকমারি বর্ষাকালীন খাবারে অতিথিদের আপ্যায়ন করে শিক্ষার্থীরা। খাবারের তালিকায় ছিল খিচুড়ি, বিরিয়ানি, পিঠা ও নানান বর্ষাকালীন ফল। তারপরেই শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। কলেজ ছাত্রীদের নাচ, গান, কবিতা আবৃত্তিতে অনুষ্ঠানটি ছিল এককথায় মনোমুগ্ধকর। ঝিরঝির বর্ষার সুরের মাঝে ‘পাগলা হাওয়ার বাদল দিনে, পাগল আমার মন নেচে উঠে’ কিংবা এসো শ্যামল ও সুন্দর’ গান ও নাচসহ সবকটি গানই মুগ্ধ হয়ে উপভোগ করেন হলরুমের কানায় কানায় পরিপূর্ণ দর্শক। অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশনে দৃষ্টি আকর্ষণ করে নন্দিতা অধিকারী, পাপড়ি চক্রবর্তী ও রিফা তাসপিয়া।

দুপুরে সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সীতাকুণ্ড সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ জরিনা আখতার।

একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রিফা তাসপিয়া ও তাবাসুম সুলতানার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. দিদারুল আলম, মো. মহিউদ্দীন, রিয়া রুবাইয়েত, তোহমিনা সাহেদা আখতার, প্রভাষক বনানী দত্ত, সুখদেব রুদ্র, সেলিনা বেগম, সেলিনা আক্তার, মো. ইমাম হোসাইন, মোহাম্মদ সিরাজ উদ্দিন, মো. আবু মোজাম্মেল হক, প্রবীর নন্দী, ইয়াসমিন আখতার, মোহাম্মদ সুমন, উজ্জ্বল কান্তি দাশ, দেলোয়ারা বেগম, শাহনাজ খান, সাবিনা আক্তার ও রূপনা মজুমদার প্রমুখ।

ঋতুভিত্তিক এ অনুষ্ঠান আয়োজকদের একজন মহিলা কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রিফা তাসফিয়া বলেন, ‘এবারই আমি সীতাকুণ্ড মহিলা কলেজে ভর্তি হয়েছি। এখানেই জানতে পারলাম এখানে প্রতিবছরই বর্ষাভিত্তিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়, এবারও হবে। শুনে আমি আনন্দের সাথে অংশগ্রহণ করি। খুবই চমৎকার একটি অনুষ্ঠান হয়েছে। সব কিছুই ছিল বর্ষা ঋতুভিত্তিক। খাবার, নাচ, গান, আবৃত্তিতে ছিলো বর্ষার ছোঁয়া। সীতাকুণ্ডের আর কোথাও এমন ঋতুভিত্তিক অনুষ্ঠান হয় কিনা আমার জানা নেই। আমরা চেয়েছিলাম মনোমুগ্ধকর একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করতে। সেদিক থেকে সফল হওয়ায় ভালো লাগছে। সবাই সাধ্যমতো ভালো করার চেষ্টা করেছে।’

সীতাকুণ্ড মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ জরিনা আখতার বলেন, ‘‘আমরা বেশ কয়েক বছর ধরেই ধারাবাহিকভাবে ঋতুভিত্তিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করে আসছি। শীত ও বর্ষা দুই ঋতুতেই বর্ণাঢ্য আয়োজন হয় আমাদের কলেজে। এবার আমাদের অনুষ্ঠানের শিরোনাম দিয়েছি ‘বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল’। পুরোপুরিই বর্ষাভিত্তিক এ আয়োজনে নাচ, গান, আবৃত্তি থেকে শুরু করে সব রকমের খাবারও ছিল বর্ষাকালীন। অনুষ্ঠানস্থলে তিল ঠাঁই ছিল না। প্রচুর দর্শক-শ্রোতা এ অনুষ্ঠান উপভোগ করেছেন। সবার ভালো লাগলেই আমাদের আয়োজন সার্থক। আগামীতেও একইভাবে হবে। ভবিষ্যতে আরো সুন্দর অনুষ্ঠান উপহার দেবার চেষ্টা করব আমি।’’



মন্তব্য