kalerkantho


বাজার তদারকি প্রয়োজন ১২ মাস

১৬ মে, ২০১৮ ০০:০০



বাজার তদারকি প্রয়োজন ১২ মাস

রোজার মাস ঘিরে নিত্যপণ্যের সরবরাহ ও দাম স্বাভাবিক স্থিতিশীল রাখতে এবং ভেজালপণ্য বিক্রি রোধে বাজার তদারকি শুরু করেছে প্রশাসন। বাজার মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন গঠন করেছে পাঁচটি টিম। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে এসব টিম নগরের বিভিন্ন বাজারে পরিচালনা করছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বিস্তারিত জানাচ্ছেন : মুস্তফা নঈম, চট্টগ্রাম

 

পবিত্র রমজান মাস এলেই নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে বিশেষ তৎপর হয়ে ওঠে বাজার নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানগুলো। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশন। বছরের অন্য ১১ মাস তেমন উদ্যোগ খুব একটা চোখে পড়ে না। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি।

প্রশাসনের এই এক মাসের অভিযানকে ক্রেতা সাধারণ স্বাগত জানালেও তাঁরা বলেন, কেবল রমজানে না করে সারাবছর বাজার মনিটরিং টিম কাজ করলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হত। পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও ভেজাল রোধ এবং ভোগ্যপণ্যের কৃত্রিম সংকট বন্ধ হত। এদিকে ভোক্তাদের অধিকার নিয়ে কাজ করা কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) খুব একটা চাপ সৃষ্টি করতে পারে না বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর ওপর। ফলে বছরজুড়ে উপেক্ষিত থাকে ভোক্তা সংরক্ষণ অধিকার।

এবারের রমজান ঘিরে গত সপ্তাহ থেকে মাঠে রয়েছে বাজার নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানগুলো। এরই অংশ হিসেবে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেছে জেলা প্রশাসন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। বাজার মনিটরিং শুরু করেছে দুই সংস্থা।

জেলা প্রশাসনের বাজার মনিটরিং টিম নগরের

বেশ কয়েকটি বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে। ভেজালপণ্য, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে, দোকানে মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করা, বিএসটিআইএর অনুমোদন না নিয়ে পণ্য উৎপাদন করার অপরাধে বিভিন্ন ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। অভিযান পরিচালনার সময় চট্টগ্রাম নগর পুলিশের কর্মকর্তা, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বিএসটিআই, ক্যাবের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সাধারণ ক্রেতারা জানিয়েছেন, কেবল রমজানে অভিযান না চালিয়ে সারা বছর বাজার মনিটরিং করা হলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হত। তাঁরা বলেন, চলতি বছরের বিভিন্ন সময়ে অস্থির ছিল চাল ও পেঁয়াজের বাজার। রমজান এলে ভোগ্যপণ্যের দাম আরো অস্থির হয়ে ওঠে। এক শ্রেণির অসাধু বিক্রেতা পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়িয়ে দেন। কাঁচাবাজারেও একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। 

তবে জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, বাজার মনিটরিং সারাবছরই হয়। কিন্তু রমজানের সময় বিষয়টি একটু ভিন্নভাবে নেওয়া হয়। কারণ রমজান এলে বিশেষ পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। রমজান ঘিরে অনেকে বাড়তি সুবিধা নিতে পণ্যের মূল্য বাড়িয়ে দেন। তাই রমজানকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ সময় বাজার যাতে স্থিতিশীল থাকে, সেজন্য বাজার মনিটরিংয়ের বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বাজারে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

জানা গেছে, প্রতিমাসে জেলা প্রশাসন বাজার মনিটরিং কমিটির সভা করে থাকে। সেখানে ব্যবসায়ীরাও থাকেন। বাজারের বিভিন্ন পণ্যের দামের তালিকা সরবরাহ করা হয় সভায়। যদি দেখা যায়, কোনো পণ্যের দাম হঠাৎ করে অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে বা বৃদ্ধি পাচ্ছে, তখন বাজার মনিটরিং কমিটি ব্যবস্থা নেয়। এদিকে নগরে সিটি করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণাধীন একাধিক বাজার রয়েছে। এসব বাজারের কার্যক্রম মনিটরিংয়ের জন্য ‘বাজার মূল্য পর্যবেক্ষণ, মনিটরিং ও নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক কমিটি’ রয়েছে। এতে দুজন ম্যাজিস্ট্রেটও (নির্বাহী ও স্পেশাল) আছেন। তবে করপোরেশনের এ কমিটি নিয়মিত নিজেদের বাজার মনিটরিংও করে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

জানতে চাইলে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বাজারমূল্য পর্যবেক্ষণ, মনিটরিং ও নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক কমিটির সভাপতি এস এম এরশাদ উল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সারা বছর সেভাবে বাজার মনিটরিং করা সম্ভব হয় না। তবে ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়। কিন্তু মাঝে মাঝে সেটিরও ধারাবাহিকতা থাকে না।’ এর কারণ হিসেবে তিনি জানান, করপোরেশনের ম্যাজিস্ট্রেটরা বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রমে সারাবছর ব্যস্ত থাকেন। এজন্য বাজার মনিটরিং কার্যক্রমে কিছুটা বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।

‘জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর’ নামে বাজার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে একটি সরকারি সংস্থা। চট্টগ্রামে একটি বিভাগীয় অফিস রয়েছে এটির। এ সংস্থার প্রধান কাজ বাজারের অসঙ্গতিগুলোর বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা। কিন্তু তাদের দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রম চোখে পড়ে না বলে অভিযোগ রয়েছে। সংস্থাটির উপপরিচালক প্রিয়াংকা দত্ত জানান, এই সংস্থার প্রধান কাজ ভোগ্যপণ্য মূল্য তদারকি করা এবং ভোক্তার অধিকার সংরক্ষণে কাজ করা। তবে লোকবল সংকটের কারণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনায় সমস্যা হয়।

সাধারণ ভোক্তাদের নিয়ে কাজ করে ‘কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ক্যাব)’। বাজার সংক্রান্ত জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন বৈঠকে অংশ নেন সংস্থাটির প্রতিনিধি। তাঁরা সেখানে ভোক্তাদের পক্ষে কথা বলেন। তবে এসব করে তাঁরা খুব একটা চাপ সৃষ্টি করতে পারে না বাজার নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর। কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘আমরা সারাবছর বাজার মনিটরিং করার দাবি করে আসছি। আমাদের চিৎকার সংশ্লিষ্টরা শুনতে চান না।’

নাজের হোসাইন বলেন, ‘বছরের কোনো না কোনো সময়ে কিছু ভোগ্যপণ্যের দাম বেড়ে যায়। যেমন গত বছর পেঁয়াজের দাম এক নাগাড়ে অনেকদিন বেশি ছিল। চালের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা দেখেছি। সবজির বাজারেও লম্বা সংকট ছিল। সংকট হলেই দাম বেড়ে যায়। আসলে সংকট থাকে নাকি সংকট তৈরি করা হয়! সংকট তৈরি হলে ব্যবসায়ীরা ভোক্তাদের কাছে এমন বার্তা দেন, দাম আরো বেড়ে যাবে। তাড়াতাড়ি স্টক করেন।-এসব বলে দাম বাড়ানোর একটা ফন্দি করেন। ওই বিষয়টি বিশেষভাবে দেখা উচিত বছরজুড়ে।’

 

 

 


মন্তব্য