kalerkantho


পাহাড়ে কৃষিকাজ

নারীরা এগিয়ে, মজুরিতে পিছিয়ে

আবু দাউদ, খাগড়াছড়ি   

৭ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



নারীরা এগিয়ে, মজুরিতে পিছিয়ে

‘প্রাচীনকাল থেকেই কৃষির সঙ্গে নারীরা জড়িত। তাঁরাই কৃষিকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। অথচ কৃষিশ্রমে নারীরা বৈষম্যের শিকার। এটি দূর হওয়া দরকার। নারী-পুরুষের সমান মজুরি হতে হবে।’

 

ঘরে-বাইরে, মাঠে-ঘাটে সবখানে বিচরণ নারীর। পাহাড়ি নারীর বেলায় যা শতভাগই সত্য। কৃষিতে ‘বিজয়া লক্ষ্মী নারী’ বললেও বেশি বলা হবে না। পার্বত্য চট্টগ্রামে কৃষিবিপ্লবে পাহাড়ি নারীর জুড়ি মেলা ভার।

কৃষাণি নারীর তুলনাই হয় না। পাহাড়ি নারী ছাড়া কৃষি কাজ যেন অপূর্ণাঙ্গ। জুমে, সমতলে সর্বত্র নারীর অংশগ্রহণ। ঘর সামাল দিয়ে কৃষকের মাঠেও পাহাড়ি নারীরা অনেক এগিয়ে।

বিশেষত পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় কৃষিকাজে পাহাড়ি নারীরা পুরুষের চেয়ে এগিয়ে। বীজ তোলা থেকে শুরু করে ধানকাটা পর্যন্ত সব কাজেই তাঁদের অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো। কৃষিকাজে নারীরা পুরুষের চেয়ে বেশি কাজ করেও মজুরি পান কম। এমন বৈষম্য দূর করার তাগাদা দিয়েছেন নারী অধিকার কর্মীরা। এমনকি সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরাও একই কথা বলছেন।

এখন কৃষকের মাঠ তৈরি ধান রোপণের জন্য। তাই কৃষকপাড়ার জমিদাররা ধান রোপণ ও বীজ তোলার জন্য পুরুষের চেয়ে নারীদেরই বেশি খুঁজে বেড়ান। কারণও আছে এই যে, নারীরা পুরুষের সমান কাজ করলেও তাঁদের মজুরি দিতে হয় কম। অর্থাৎ কম মজুরি দিয়ে তাদের কাজ করানো যায় বেশি। পাহাড়ি গ্রামে ঘুরে দেখা যায়, সব এলাকাতেই মজুরিতে নারী-পুরুষের বেতন বৈষম্য। খাগড়াছড়ি পৌরসভা এলাকায় পুরুষের দৈনিক মজুরি ৪০০-৫০০ টাকা। বিপরীতে নারীদের দেওয়া হয় মাত্র ২০০-২৫০ টাকা। অন্যত্র এই বৈষম্য আরো প্রকট। কমলছড়ির কর্মজীবী পাহাড়ি নারী সুইম্রাচিং মারমা কৃষিতেই শ্রম বিকিয়ে জীবন চালান। তিনি ক্ষোভের সাথে বললেন, ‘কাজ বেশি করি। কাজে ফাঁকি দেই না। অথচ টাকা (মজুরি) কম পাই।’ কেন এমন হবে তিনিও বুঝতে পারেন না। দীঘিনালা সড়কের চার মাইল এলাকার বিউটি ত্রিপুরার কণ্ঠেও কষ্টের ছাপ। তিনি বলেন, ‘জুমে কৃষিকাজ করে সন্তানকে পড়াশোনা করাই। সারাদিনের শ্রমের বিনিময়ে ২০০ টাকাও মেলে না। শুধু কৃষিকাজে নয়; জেলার বিভিন্ন ধরনের শ্রম বিকিকিনিতে নারীরা বঞ্চিত হচ্ছেন।’

এটা চরম বৈষম্য বলে মন্তব্য করেছেন নারী অধিকার কর্মীরা। খাগড়াপুর মহিলা কল্যাণ সমিতির (কেএমকেএস) নির্বাহী পরিচালক শেফালিকা ত্রিপুরা বলেন, ‘প্রাচীনকাল থেকেই কৃষির সাথে নারীরা জড়িত। তাঁরাই কৃষিকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। অথচ কৃষিশ্রমে নারীরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। এটা দূর হওয়া দরকার। নারী-পুরুষের সমান মজুরি হতে হবে।’

একই কথা বললেন, উইমেন্স রিসোর্স নেটওয়ার্কের খাগড়াছড়ি জেলা সমন্বয়কারী সাংবাদিক চিংমেপ্রু মারমা। তিনি আইন করে নারী-পুরুষ সমমজুরি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

পার্বত্য জেলা পরিষদের নারী সদস্য শতরূপা চাকমা কৃষিতে অবদান রাখায় পাহাড়ি কৃষাণিদের ন্যায্য মূল্যায়ন ও স্বীকৃতির দাবি করেছেন।

এদিকে জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তারাও নারী-পুরুষের মজুরি বৈষম্য দূরীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. আবুল কাশেম বলেন, ‘পাহাড়ের নারীরা কৃষিতে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখছে। কৃষিক্ষেত্রে উন্নয়নে সকল নারীরা অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার যোগ্যতা রাখেন।’

তিনি নারী-পুরুষের মজুরি বৈষম্য থাকা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন।


মন্তব্য