kalerkantho


পাহাড়ি নারী

শীতের পিঠা তৈরি করে বাড়তি আয়

আবু দাউদ, খাগড়াছড়ি   

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



শীতের পিঠা তৈরি করে বাড়তি আয়

... প্রতিবছর শীতের মৌসুমে পাহাড়ি রাস্তার ধারে, পাড়া-গাঁয়ে মারমা নারী-কিশোরীদের রকমারি পিঠা তৈরি করে বিক্রি করতে দেখা যায়। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। সাধারণ মানুষ বিশেষ করে পর্যটকদের কাছে এসব পিঠার রয়েছে বিশেষ কদর ...

 

পিঠা আর নারী যেন সমার্থক। শীতকাল এলে পিঠা-পায়েসের ধুম পড়ে যায় সবখানে। পাহাড়েও ব্যতিক্রম নয়। পিঠা মানেই নারীদের শৈল্পিক কাজ। সারাদেশের পিঠার বৈচিত্র্যতার মাঝে পাহাড়িদের বিভিন্ন পিঠাও খুব সুস্বাদু খাবার। এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় পিঠার নাম ‘ছেছমা’ পিঠা। এটা মূলত মারমাদের নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী পিঠা হলেও ইদানীং ধর্ম-বর্ণ-গোষ্ঠী নির্বিশেষে সবার কাছেই পিঠাটির বিশেষ কদর ও চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে। খাগড়াছড়িতে বিশেষ কোনো দোকানে মারমা পিঠা তৈরি না হলেও বিশেষ করে শীতের মৌসুমে রাস্তার ধারে, পাড়া-গাঁয়ে মারমাদের বিচিত্র পিঠা দেখা যায়। মারমা নারী-কিশোরীরা খুবই কম মূল্যে পিঠা বিক্রি করে থাকেন। এক একটি ছেছমা পিঠা বিক্রি হয় মাত্র ৫ টাকায়।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের জনসংযোগ কর্মকর্তা চিংহ্লামং চৌধুরী বলেন, ‘প্রাচীনকাল ধরেই ছেছমাসহ বেশ কয়েক ধরনের পিঠার প্রচলন রয়েছে মারমা সমাজে। এসব পিঠার নামকরণ বা ইতিহাস নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানা না থাকলেও এটুকু বলা যায়, পিঠার বস্তু বা উপকরণের ভিত্তিতেও অনেকগুলো পিঠার নাম হয়েছে।’

বর্তমানে প্রবাসী সংস্কৃতিকর্মী মংসাথোয়াই চৌধুরীর মতে, পাটিসাপটার মতো দেখতে তেলবিহীন ‘ছেছমা পিঠা’র ধরন, আকৃতি এবং সৌন্দর্য সত্যিই আকৃষ্ট করে সবাইকে। তাই তো যে কেউ এ পিঠার ভক্ত হন প্রথম দেখাতেই।

পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়িতে স্থানীয়ভাবে ‘ছেছমা পিঠা’ বান্দরবানের মারমাদের কাছে ‘ছাইস্ববক্ মু’ নামে বিশেষ পরিচিত। নামের বৈপরীত্য যাই থাকুক; এ পিঠার চাহিদা ও জনপ্রিয়তা সর্বজনবিদিত। বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনেও ছেছমা পিঠা আপ্যায়নের মেন্যুতে রাখা হয় এ পিঠা; সবার আগে খেতে মরিয়া হয়ে থাকেন সব ধরনের পিঠা পেটুক ও পিঠা বিলাসীরা।



অবশ্য ইদানীংকালে পর্যটকদের কাছে মজার পিঠা ছেছমা ও অন্যান্য মারমা পিঠাপুলি। তবে, মারমা আদিবাসীরা ঘরে গেলে ছেছমা, কদা মু, কেইন্দা মু, খোওক তং মু পিঠা তৈরি করে অতিথি আপ্যায়ন করে থাকে।

স্কুল শিক্ষক সানাই মারমা বলেন, ‘কেবল ছেছমা কেন; মারমা আদিবাসীদের আছে ঐতিহ্যবাহী নানা পিঠা পায়েস। এগুলোর মধ্যে রয়েছে রেপ্রিমু, ছিলামু, ফাকামু, গুংমু প্রভৃতি।’

বিন্নিচালের গুঁড়োই এই পিঠার প্রথম উপকরণ। বিশেষভাবে তৈরি বিন্নিচালের গুঁড়ো ছাঁকনি দিয়ে ছাঁকতে হবে। তারপর তেলে প্রলেপ দেওয়া স্টিলের কড়াইয়ে পরিমাণমতো বিন্নিচালের গুড়োঁ ছিটিয়ে দিয়ে কিছুসময় ঢেকে রাখতে হয়। দেখা যাবে শক্ত ও জালের মতো হয়েছে। পরে তা নামিয়ে নারিকেল ও গুড় মিশ্রিত উপকরণ দিয়ে পাটিসাপটার মতো মুড়িয়ে দিলেই হয়ে গেলো ছেছমা পিঠা।

সব মারমা পাহাড়ি পাড়া, গাঁয়-ই এই পিঠা তৈরি হয়ে থাকে। তবে খাগড়াছড়ি শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত পানখাইয়াপাড়ায় প্রবেশ করলেই চোখে পড়বে রাস্তার আশপাশে পিঠার বিকিকিনি ব্যবস্থা।

ছোট্ট ছোট্ট খুদে নারী দোকানিরা ফুটপাতেই বসে আছেন গরম গরম বানানো পিঠা নিয়ে। অন্যদিকে পথচারী ও পাড়ার মানুষ দাঁড়িয়ে-পাশে বসে খাচ্ছেন পিঠা। কেবল ছেছমা পিঠাই নয়; আরো কয়েক ধরনের পিঠা খেতে আসতে পারেন আপনিও। এছাড়া গোলাবাড়ি, আপার পেড়াছড়া, অপর্ণাচৌধুরী পাড়াতেও নানা রকমের পিঠা বেচাকেনা হয়। শীত চলে গেলে কিন্তু এসব পিঠা পাওয়াটা কঠিন হয়ে পড়ে।


মন্তব্য