kalerkantho


পোশাককর্মীদের আনন্দের দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



পোশাককর্মীদের আনন্দের দিন

‘প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে শুরু হয় কাজ, শেষ হয় সেই বিকেল ৫টায়। নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থেকে কর্মস্থল কালুরঘাটে আসা-যাওয়াতেই কেটে যায় আরও দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা। সপ্তাহের ছয়টা দিনই এই রুটিন। মাস শেষে বছর কেটে যায়, ঘর-সংসার সামলে এভাবেই বিনোদনহীন কাটে আমার মতো প্রতিটি পোশাকশ্রমিকের জীবন। তাই বছরে এই একটা দিনের জন্য তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষায় থাকি আমরা।

হাসি-আনন্দে মেতে থাকি সারাদিন।’

কথাগুলো বলছিলেন কালুরঘাট শিল্প এলাকায় অবস্থিত তৈরি পোশাক প্রতিষ্ঠান বেইস টেক্সটাইল লিমিটেডের সুইং অপারেটর নাজমা বেগম। সুস্থ জীবনের জন্য প্রয়োজন চিত্ত বিনোদন। কর্মস্পৃহা ধরে রাখতে প্রয়োজন মানসিক প্রশান্তি। শ্রমিক কর্মচারীরা যেন এ থেকে বঞ্চিত না হয়। এই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে গত আট বছর ধরে কারখানার ৪ হাজার শ্রমিককে নিয়ে বছরের একটি দিন ‘বেইস উৎসব’ হিসেবে পালন করে আসছে। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘এখানে শ্রম, শ্রমঘন ইতিহাস, মালিক-শ্রমিক এ জীবনের আশ্বাস’। এই শ্রমিকের ৬৫ শতাংশই নারী।

মালিক-শ্রমিক সুসম্পর্ক যেন শক্ত ভিত্তির ওপর গড়ে ওঠে এর জন্য প্রতি বছরের মত ১ ফেব্রুয়ারি বেইস উৎসবে খোঁপায় লাল, হলুদ ফুল, রঙিন শাড়ি পরিহিত নারী এবং নতুন পোশাক পরিধান করে প্রায় ৪ হাজার ছেলেমেয়ে যেন এক ঈদ উৎসবে মেতে উঠে। শ্রমিকদের অংশগ্রহণে দিনব্যাপী এ মিলনমেলা সকাল ১০.৩০ টায় উদ্বোধনের পর মেজবান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বার্ষিক ক্রীড়া, র‌্যাফল ড্র এবং পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান।

জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠান উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ হাসান শিবলী। এ সময় তিনি শ্রমিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে কাজের বিকল্প নেই। তাই দেশকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করতে মালিক-শ্রমিক উভয়ের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রেখে আন্তরিকভাবে কাজ করে যেতে হবে।’

চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মনোয়ার শাহাদাত পরিচালক সোহেল মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ সবসময় ইতিবাচক। কারণ এই জনশক্তি যা সরাসরি দেশের অর্থনীতি এবং আমাদের কম্পানির ভবিষ্যতের সাথে সম্পর্কিত।’

২০১০ সাল থেকে প্রতিবছর কারখানার শ্রমিকদের চিত্ত বিনোদনে এ ধরনের অনুষ্ঠান করছে ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বেইস টেক্সটাইল। শ্রমিকদের বিনোদনে এবার আরও মাত্রা বাড়িয়েছেন জি বাংলার জনপ্রিয় মিরাক্কেল আক্কেল চ্যালেঞ্জার জয়ী হাসির রাজা আবু হেনা রনি। আর গানে গানে মাতিয়েছেন আঞ্চলিক গানের তারকা প্রেমসুন্দর বৈষ্ণব। এছাড়া কারখানার শ্রমিকরা নাচে-গানে আর ফ্যাশন শো করে মাতিয়ে রেখেছিলেন পুরো উৎসব।


মন্তব্য