kalerkantho


রাউজানের গণিপাড়ার মেয়ে শাবানা

জাহেদুল আলম, রাউজান (চট্টগ্রাম)   

১৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



রাউজানের গণিপাড়ার মেয়ে শাবানা

রাউজানে শাবানার গ্রামের বাড়ি।

বাংলা চলচ্চিত্রের উজ্জ্বল নক্ষত্র শাবানা। অভিনয় থেকে বিদায় নিলেও সকল শ্রেণির দর্শকের কাছে তিনি এখনো তুমুল জনপ্রিয়। তাঁর আসল নাম আফরোজা সুলতানা রত্না। চলচ্চিত্রে নাম পরিবর্তন করে হন শাবানা। ১৯৬৭ সালে পরিচালক এহতেশামের উর্দু ছবি ‘চকোরী’ দিয়ে পর্দায় অভিষেক তাঁর। শাবানা অভিনীত ছবির সংখ্যা পাঁচ শতাধিক। বাংলা ছবিতে দর্শকদের সবচেয়ে বেশি ‘চোখে জল আনা’ অভিনেত্রীর নাম শাবানা। তাঁর স্বামী চলচ্চিত্র প্রযোজক ওয়াহিদ সাদিক।

বাংলা চলচ্চিত্রের এই জনপ্রিয় নায়িকার গ্রামের বাড়ি রাউজান উপজেলার ডাবুয়া ইউনিয়নের গণিপাড়ায়। সেখানে কেটেছিল তাঁর শৈশব। ছোটবেলায় ‘আফরোজা সুলতানা রত্না’ নামেই সবাই চিনত তাঁকে। সর্তাখালের হাঁটুপানি আর তুলাতলের শীতল বাতাসে শৈশব কাটলেও জন্মস্থানে এখন তাঁর পদচারণা পড়ে না বললেই চলে।

রাউজান উপজেলা সদর থেকে আট কিলোমিটার দূরে পশ্চিম ডাবুয়ার গণিপাড়া গ্রাম। কিছুটা ইটের সলিং আবার কিছুটা কাঁচা আঁকাবাঁকা সড়ক দিয়ে যেতে হয় শাবানার গ্রামের বাড়িতে। রাস্তার দুধারে সবুজ প্রকৃতি আর ফসলি জমি দেখে মন জুড়িয়ে যায় সবার। শাবানার ঘরের ২০-২৫ গজ দূরে স্রোতস্বিনী খরস্রোতা সর্তা খাল। ইট ও টিনের ছাদের ৫০ বছর আগের বসতঘর। অনেক পুরনো বলে খসে পড়ছে দেয়ালের আস্তরণ। হারিয়ে গেছে স্বাভাবিক সৌন্দর্য। সেই ঘরে বাপ-চাচাদের কোলেপিঠে বেড়ে উঠেছিলেন বাংলা চলচ্চিত্র জগতের সাড়াজাগানো নায়িকা শাবানা।

শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নয়, গণিপাড়া গ্রাম আরো প্রসিদ্ধ হয়েছে নায়িকা শাবানার বাবার বাড়ি বলে। অন্য এলাকার মানুষ রাউজানে এলে একবার দেখে যেতে চান শাবানার শৈশব স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটি। কিন্তু যে বাড়ি নিয়ে ‘সিনেমাপ্রিয়’ মানুষের এত কৌতূহল, সেই বাড়িতে শাবানার পায়ের ছাপ পড়েনি দীর্ঘসময়।

শাবানা এখন সপরিবারে আমেরিকা প্রবাসী। মাঝেমধ্যে ঢাকার বাড়িতে আসেন। কিন্তু দীর্ঘকাল বাপের বাড়িতে শাবানার আগমন না ঘটায় গ্রামের অনেকে হতাশ। কারণ একসময় শাবানা ফাঁক পেলেই তাঁর বাবার বাড়িতে আসতেন। সেই সময় শাবানাকে একনজর দেখতে ভিড় লেগে যেত বাড়িটিতে। তাই এলাকার অনেকের শাবানাকে সরাসরি দেখার সুযোগও মেলেনি। চতুর্দিকে সুপারি, নারিকেলসহ নানা গাছের ছায়ায় ‘নিঝুম’ বাড়িটিতে যেন শাবানার অভাব অনুভূত হচ্ছে ক্ষণে ক্ষণে! তবে শাবানা দীর্ঘদিন না আসলেও বাড়ির খোঁজ-খবর রাখেন। মাঝে মধ্যে চাচা, চাচি, চাচাতো ভাই ও আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন সুদূর আমেরিকা থেকে। ঢাকায় আসলেও যোগাযোগ হয়। শাবানার মা জোসনা আকতার মাঝে-মধ্যেই রাউজানের গ্রামের বাড়িতে আসেন।

১০-১২ বছর আগেও শাবানার ভাই-বোন রিজভি, রিপন, শাহীন ও রনজিনাকে নিয়ে এখানে এসেছিলেন তিনি। বাড়িটিতে শাবানার চাচাতো ভাই সিদ্দিকুর রহমান সেলিম ও সাহাবুদ্দীন থাকেন।

শাবানার বাবা, চাচা ও জেঠা তিন ভাই ছিলেন। তাঁর বাবা মৃত ফয়েজ চৌধুরী। অন্য দুজন অধ্যাপক লুত্ফর রহমান চৌধুরী ও মাস্টার আবুল বশর চৌধুরী। শাবানা এলাকার রামসেবক প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ডাবুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেছিলেন। ছোটকাল থেকে তিনি সংস্কৃতিমনা ছিলেন। স্কুলসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নাটক, নাচ, গান করতেন শাবানা। স্কুলের গণ্ডি পেরোনোর পর শাবানার খালু পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান তাঁকে ঢাকায় নিয়ে যান। সেখানে চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশের সুযোগ পান।

শাবানা রাউজান হরিশখান পাড়াসহ কয়েকটি স্থানে জনপ্রিয় ছবি ‘মলকা বানু’র শুটিং করেছিলেন। শাবানার সুমি ও উর্মি নামে দুই মেয়ে এবং এক ছেলে রয়েছে।

তিনি ১০/১২ বছর আগে সর্বশেষ এসেছিলেন গণিপাড়ায়। তখন দাদার কবর জেয়ারত শেষে ফিরে যান।

শাবানার চাচাতো ভাই সিদ্দিকুর রহমান সেলিম বলেন, ‘শাবানা আমেরিকা যাওয়ার পর তাঁর সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ খুব কম হয়।’ উল্লেখ্য, শাবানার দাদা ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা আবদুল আজিজ দারোগা।



মন্তব্য